• বুধবার, ১৫ আগস্ট ২০১৮, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫
  • ||

শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদের ৯৩ তম জন্মবার্ষিকী আজ

প্রকাশ:  ২৩ জুলাই ২০১৮, ১০:৩৪ | আপডেট : ২৩ জুলাই ২০১৮, ১৫:৫০
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনুপস্থিতিতে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা ও প্রথম সরকার গঠনে নেতৃত্ব দানকারী ক্ষুরধার মস্তিষ্কের রাজনীতিক এবং বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদের ৯৩ তম জন্মবার্ষিকী আজ (সোমবার)। ১৯২৫ সালের এই দিনে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার দরদরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য ভূমিকার অধিকারী জাতীয় এ নেতার জন্মদিনকে স্মরণ করতে নেওয়া হয়নি রাষ্ট্রীয় কোন আয়োজন। অনেকটা নিরবেই পালিত হচ্ছে মহান এ নেতার জন্মবার্ষিকী।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে মেধা, দক্ষতা, যোগ্যতা, সততা ও আদর্শবানদের অনন্য এক প্রতীক তাজউদ্দীন আহমেদ। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতি শুরু করেন তিনি। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর থেকে ভাষা আন্দোলন, অর্থনৈতিক মুক্তি ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী যত আন্দোলন হয়েছে সকল আন্দোলনেই তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি গঠিত পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের (বর্তমানে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ) অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তাজউদ্দীন আহমেদ। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠায় অন্যতম উদ্যোক্তাও ছিলেন তিনি।

যুক্তফ্রণ্টের প্রার্থী হয়ে ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে জয় লাভ করে, মাত্র ২৯ বছর বয়সেই আলোচনায় উঠে আসেন তাজউদ্দিন। ১৯৬৬, ৬৮, ৭০ সালে টানা তিনবার নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। হয়ে উঠেন বঙ্গবন্ধুর নির্ভরতার জায়গা। ৬ দফা আন্দোলনের এক অন্যতম রূপকারও ছিলেন তিনি।

পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে, মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় নেতৃত্ব দেন তাজউদ্দিন। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে দিনরাত এক করে, পরিবার পরিজন ছেড়ে মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময় ছুটে বেড়িয়েছেন তিনি। আন্তর্জাতিক রাজনীতির কূটকৌশল সামলে বাংলাদেশের অভ্যুদয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি চিন্তা জুড়ে ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প, শরনার্থী শিবির।

স্বাধীন বাংলাদেশে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়া তাজউদ্দিন স্বপ্ন দেখেছিলেন সত্যিকারের সমৃদ্ধ দেশ গড়ার। সব মানুষের সমান অধিকারে বিশ্বাসী এই নেতা মাথা নত করতে চাননি সাম্রাজ্যবাদের কোনো হুমকিতেই।

জীবদ্দশায় বঙ্গবন্ধুর সহযোগী ও সরকারের মন্ত্রীদের মধ্যে সবচাইতে যোগ্য, দক্ষ এবং প্রতিভাবান, পরীক্ষিত ব্যক্তি ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ। ১৯৭৪ সালের ২৬ অক্টোবর স্বাধীনতা লাভের ২ বছর ১০ মাসের মাথায় নানা ঘটনার কারণে মন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন তাজউদ্দীন আহমদ, যাতে ছিল বঙ্গবন্ধুর সম্মতি।

ওই ঘটনার মধ্যে দিয়ে বঙ্গবন্ধু-তাজউদ্দীন জুটির ভাঙ্গন ও ধীরে ধীরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নানা ট্র্যাজেডির জন্ম নেয়। বিভক্তির রাজনীতির সুযোগ নিয়ে কূচক্রিরা প্রথমে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবার হত্যা করে এবং ৩ নভেম্বর জেলখানার ভেতরে তাজউদ্দীন আহমেদসহ মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করে।

এই ভাঙ্গন ও হত্যাকাণ্ডকে বাংলাদেশের জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ধ্বংস করার প্রথম সফল চক্রান্ত বলেও উল্লেখ করে থাকেন অনেক রাজনীতিক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী।

/এসএম

শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ