• রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৮ আশ্বিন ১৪২৫
  • ||

মানবপাচারকারী চক্রের ‘মূলহোতা’ তেজগাঁও কলেজের শিক্ষক!

প্রকাশ:  ২০ আগস্ট ২০১৮, ১৫:১৪
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রের বাংলাদেশের প্রধান নিয়ন্ত্রণকারী মূলহোতা মোহাম্মদ আছেম (৩৫) নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আছেম রাজধানীর তেজগাঁও কলেজের শিক্ষক বলে জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সিআইডি বলছে, আছেম সাগর পথে মালয়েশিয়ায় মানবপাচার চক্রের অন্যতম গডফাদার। তিনি সমুদ্রপথে শত-শত মানুষকে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর পর তাদের অনেককে জিম্মি করে স্বজন-পরিজনের কাছ থেকে নানাভাবে টাকা আদায় করেছেন।

মোল্যা নজরুল বলেন, আছেমের বাবা ও বড়ভাই দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়া রয়েছেন। এই সুবাদে তিনি মানবপাচারের সঙ্গে জড়িয়ে যায়। তারা শতশত মানুষকে কক্সবাজার ও টেকনাফ দিয়ে সাগর পথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় পাঠিয়েছে। মালয়েশিয়া পাঠানোর পর বিভিন্ন ব্যক্তিকে আটকে রেখে নির্যাতন এবং বাংলাদেশে থাকা তাদের আত্মীয়দের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করতো তারা। আমরা তথ্য পেয়েছি আছেম মুক্তিপণের টাকা তার আত্মীয়-স্বজন, মা ও নিজের অ্যাকাউন্টে জমা রেখেছেন।

আছেম পূর্ব রাজাবাজারে বসবাস করেন। তিনি তেজগাঁও কলেজের বিবিএ ডিপার্টমেন্টের প্রভাষক। তার গ্রামের বাড়ি কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার মৌলভীপাড়া এলাকায়। তার বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং ও মানবপাচারের তিনটি মামলা আছে। একটি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থানায়, একটি রাজধানীর বনানী এবং অপর মামলাটি বাজিতপুর থানায় মানবপাচার আইনে করা হয়েছে। গত পাঁচদিন আগে তাকে সিআইডি গ্রেফতার করেছিল, কিন্তু তিনদিনের মাথায় তার জামিন হলে সে আবার বের হয়ে আসে।

সিআইডির এ কর্মকর্তা বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারীরা কক্সবাজার সাগর চ্যানেল দিয়ে গত কয়েক বছরে হাজার হাজার মানুষকে মালয়েশিয়া পাচার করেছে। সাগর পথে মালয়েশিয়ার যাওয়ার সময় অনেক বাংলাদেশি মারাও গেছেন। এখনও অনেক মানুষ নিখোঁজ। তারা দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজার-থাইল্যান্ড-মালয়েশিয়ায় সাগর পথে মানবপাচার করে মুক্তিপণের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থের মালিক হয়েছে।’

‘আছেম ২০১০ সালে তাদের সঙ্গে মানবপাচারে কাজ শুরু করে। আছেম ও তার ছোটভাই জাভেদ মোস্তফা মানবপাচারের জন্য তারা প্রথমেই বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় দালাল নিয়োগ করে। দালালরা লোক ঠিক করে নিয়ে আসে। এরপর তাদের কাছ থেকে মালয়েশিয়া যাওয়ার খরচ নিয়ে টেকনাফে নিয়ে যাওয়া হয়। টেকনাফ থেকে ট্রলারে করে মিয়ানমার হয়ে থাইল্যান্ডের জঙ্গলে রাখা হয়। সেখানে পাচারকৃত লোকদের আটকে রাখে। এরপর নির্যাতন করে বাংলাদেশে থাকা তাদের স্বজনদের কাছে মুক্তিপণ চায়। এরপর আছেম ও তার সহযোগিরা মুক্তিপণ আদায় করে। আর যারা মুক্তিপণ দিতে ব্যর্থ হয় তাদের থাইল্যান্ডের জঙ্গলে মেরে ফেলা হয়। নেওয়ার পর তাদের হত্যা করা হয়

আছেম মুক্তিপণের টাকা তার ছোট ভাই মোস্তফা, মা খাদিজা বেগম এবং তার সহযোগী আরিফ, একরাম, ওসমান সারোয়ারের নামে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, টেকনাফে বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা এসব অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সংগ্রহ করে বলেও সিআইডির হাতে তথ্য এসেছে বলেও জানান ‍তিনি।

আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্র কক্সবাজার সাগর চ্যানেল দিয়ে গত কয়েক বছর হাজার হাজার মানুষকে সাগর পথে মালয়েশিয়া পাচার করেছে এবং পাচারের সময় সাগর পথে মৃত্যুবরন করেছে শত শত বাংলাদেশী নাগরিক। এখনও নিখোঁজ আছেন অনেক মানুষ, যাদের খোঁজ মেলেনি আজো।