• বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
  • ||

ভোটের হিসাবে এগিয়ে যারা

প্রকাশ:  ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৮:৩০ | আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২৩:২৫
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রিন্ট

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সারাদেশ এখন সরগরম। চলছে নানা হিসাব নিকাশ। নির্বাচনে সব দল অংশ নেবে কি নেবে না, সুষ্ঠ ও অবাধ নির্বাচন হবে কি হবে না- সেই বিতর্ক এড়িয়ে বিগত চারটি (১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের) জাতীয় নির্বাচনে ফলাফলের ভিত্তিতে অাওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামী ও অন্যান্য দলের প্রাপ্তভোটের পরিসংখ্যান তুলে ধরতেই এই প্রতিবেদন। সঙ্গত কারণেই অস্বাভাবিক প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি এবং ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ভোটের হিসাব এই পরিসংখ্যান তৈরিতে গোনায় ধরা হয়নি।http://pbd.news/

নব্বুই পরবর্তী গণতন্ত্রে উত্তরণের পর অনুষ্ঠিত বিভিন্ন নির্বাচনের ফলাফল থেকে দেখা যাচ্ছে, আওয়ামী লীগের মোট প্রাপ্তভোট কখনোই কমেনি। বরং ধারাবাহিকভাবে তা বেড়েছে। ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত ৫ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটের ৩০.০৮ শতাংশ পায় আওয়ামী লীগ। ওই বছর ৮৮ আসনে বিজয়ী হয়ে বিরোধী দলের আসনে বসে দলটি। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে দলটির ভোট ৭ শতাংশ বেড়ে ৩৭.৪৪ শতাংশে দাঁড়ায়। ওইবছর ১৪৬ আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। ২০০১ সালের নির্বাচনে দলটির ভোট ৩ শতাংশ বেড়ে ৪০.১৩ শতাংশে দাঁড়ায়, তবে কমে যায় আসন সংখ্যা। মাত্র ৬২ আসনে বিজয়ী হয়ে বিরোধী দলের আসনে বসে আওয়ামী লীগ। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভোট আরও প্রায় ৮ শতাংশ বেড়ে ৪৮.০৪ শতাংশে দাঁড়ায়। ২৩০আসনে নিরুঙ্কুশ জয় নিয়ে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ।

দেশের চারটি জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী বিএনপির ভোট কখনো বেড়েছে, কখনো কমেছে। ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে কাস্ট হওয়া ভোটের ৩০.৮১ শতাংশ পায় বিএনপি। ওই বছর তারা ১৪০টি আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে দলটির ভোট ৩ শতাংশ বেড়ে ৩৩.৬০ শতাংশে দাঁড়ায়। ওই বছর ১১৬ আসন নিয়ে বিরোধী দলের আসনে বসে দলটি। এরপর ২০০১ সালের নির্বাচনে ৭ শতাংশ বেড়ে ৪০.৯৭ শতাংশে দাঁড়ায় বিএনপির ভোট। ওই বছর তারা ১৯৩ আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। কিন্তু ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রাপ্তভোট ৮ শতাংশ কমে ৩২.৫০ শতাংশে দাঁড়ায়। এ দফায় তারা মাত্র ৩০ আসন পেয়ে বিরোধী দল হয়।http://pbd.news/

জাতীয় পার্টি এবং জামায়তে ইসলামীর ভোট ধারাবাহিকভাবে কমেছে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টি প্রাপ্তভোটের মধ্যে ১১ শতাংশ ভোট পেয়ে ৩৫টি আসনে জয়ী হয়। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে অবশ্য ভোট বেড়েছিল জাতীয়পার্টির। ওই নির্বাচনে ১৬.৪০ শতাংশ ভোট পেয়ে ৩২টি আসন জয়ী হয় দলটি।২০০১ সালে জাতীয় পার্টি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গে জোট গঠন করে ৭.২৫ শতাংশ ভোট পেয়ে ১৪ আসনে জয়ী হয়! ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে মহাজোট করে ৪৯টি আসনে প্রার্থী দিয়ে আসন পায় ২৭টি। প্রাপ্তভোট ৭ শতাংশ।http://pbd.news/

১৯৯১ সালের নির্বাচনে কাস্ট হওয়া মোট ভোটের ১২.১৩ শতাংশ পায় জামায়াত, আসন পায় ১৮টি। এর পর ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে দলটির ভোট ৪ শতাংশ কমে ৮.৬১ শতাংশে দাঁড়ায়, নির্বাচনে জামায়াত আসন পায় মাত্র ৩টি। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিতর্কিত এই রাজনৈতিক দলটির ভোট আরও ৪ শতাংশ কমে গিয়ে দাঁড়ায় ৪.২৮ শতাংশে। তবে ভোট কম পেলেও জোটের কল্যাণে সে বছর তারা ১৭টি আসনে বিজয়ী হয়। এর পর ২০০৮ সালের নির্বাচনে কাস্ট হওয়া মোট ভোটের ৪.৭০ শতাংশ পেলেও আসন পায় মাত্র ২টি।

চার নির্বাচনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের ন্যুনতম ৩০.০৮ শতাংশ ভোট। এর সঙ্গে যদি যোগ হয় জাতীয় পার্টির ন্যুনতম ৭ শতাংশ ভোট। তাহলে জোটগতভাবে আ’লীগ-জাপার মোট ভোট ৩৭.০৮। অন্যদিকে বিএনপির ন্যুনতম প্রাপ্তভোট ৩০.৮১% এবং জামায়াতের ন্যুনতম ভোট। বিএনপি-জামায়াত জোটের মোট ভোট ৩৫.০৯ শতাংশ। এক্ষেতে এগিয়ে বর্তমানের ক্ষমতাসীনরাই।

ধরা যাক, আওয়ামী লীগ-বিএনপির মোট সংরক্ষিত (রিজার্ভ ) ভোট ৭২.১৭ শতাংশ। বাকি থাকে ২৭.৮৩ শতাংশ ভোট, যা ভাসমান (সুইং ভোট)। নির্বাচনের ফলাফল মূলত নির্ভর করবে মূলত এই ভাসমান বা সুইং ভোটের ওপর। যারা এই ভোট বেশি টানতে পারবে নির্বাচনে জয়ী হবে তারাই।

এনই

apps