• বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
  • ||

সংসদে সড়ক পরিবহন বিল-২০১৮ পাস

প্রকাশ:  ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০১:১৭
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

কোনো ব্যক্তির বেপরোয়া ও অবহেলা জনিত গাড়ি চালানোর কারণে দুর্ঘটনা ঘটলে এবং সেই দুর্ঘটনায় কেউ আহত বা নিহত হলে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড বা ৫ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান বহাল রেখে জাতীয় সংসদে ‘সড়ক পরিবহন বিল-২০১৮’ পাস হয়েছে।

বুধবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে জাতীয় সংসদে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে চলা অধিবেশনে বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বিলে জনমত যাচাই-বাছাই ও কমিটিতে প্রেরণের প্রস্তাব করেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশিদ, ফখরুল ইমাম, নুরুল ইসলাম মিলন, বেগম নূর-ই-হাসনা লিলি চৌধুরী, বেগম মাহজাবীন মোরশেদ, বেগম রওশন আরা মান্নান ও শামীম হায়দার পাটোয়ারী। কিন্তু তাদের সেই প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। তারা বিলের বিভিন্ন ধারায় সংশোধনী প্রস্তাব দিলেও সেগুলো গৃহীত হয়নি।

গত ২৯ জুলাই রাজধানীতে সড়ক দুর্ঘটনায় শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দেশে সাড়া ফেলার পাশাপাশি বিশ্বেও আলোচিত হয়েছিল।

কয়েক বছর ধরে ঝুলে থাকা আইনের খসড়াটি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে গত ৬ অগাস্ট মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পায়।

তবে বিল উত্থাপনের সময় মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, অনেকে বলেছেন, ছাত্র–ছাত্রীরা আন্দোলন করেছে বলে এই বিল এসেছে। এটা ঠিক নয়। এই বিলটি দেড় বছর আগে তৈরি করা। অংশীজনদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা করে এটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে আলোচনার সোনালী ফসল এই সংসদে এসেছে।

ইচ্ছাকৃত দুর্ঘটনার শাস্তির বিষয়টি পরিষ্কার করে মন্ত্রী বলেন, অনেকে বলেন ডেলিভারেটলি কিলিংয়ের (ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড) ক্ষেত্রে কী শাস্তি হবে? এটা কি পাঁচ বছরেই থাকবে? আমি পরিষ্কার করে দিচ্ছি। কেউ ডেলিভারেটলি কিলিং করলে প্যানাল কোডের ৩০২ ধারা অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। কাজেই সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট । তাছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও আছে। সব কিছু মিলিয়ে শাস্তিটা কম নয়। অপরাধ অনুযায়ীই শাস্তি সেভাবে হবে।

বিলটি সংসদে পাসের জন্য উত্থাপনের জনমত যাচাই–বাছাইয়ের প্রস্তাবের জবাব দিতে উঠে ওবায়দুল কাদের বলেন, “যারা জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব করেছেন, তাদের বলব, ২৫ বছর অপেক্ষার পর আর কত অপেক্ষা করব? আপনারাই বলছেন, দুর্ঘটনা ঘটছে, যানজট হচ্ছে।

বিলের মধ্যে সব কিছু আনার প্রয়োজন নেই। বিধি–প্রবিধান করে অনেক কিছু সংযোজন করা যাবে,” সংশোধন প্রস্তাবগুলো নাকচ করে বলেন তিনি।

বিলে বলা হয়েছে, কোনো কোম্পানি এই ধরনের অপরাধ করলে ওই কোম্পানির মালিক, পরিচালক, নির্বাহী কর্মকর্তা, ব্যবস্থাপক, সচিব বা অন্য কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী অপরাধ করেছেন বলে গণ্য হবে।

বিলের ৪ ধারাতে বলা আছে, কোনো ব্যক্তির ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকলে বা মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স ব্যবহার করে পাবলিক প্লেসে গাড়ি চালাতে পারবে না বা চালানোর অনুমতি দেওয়া যাবে না।

বিলে বলা হয়েছে, অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ এবং পেশাদার লাইসেন্সের ক্ষেত্রে বয়স কমপক্ষে ২১ হতে হবে। আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণি পাস হতে হবে। আরও বলা হয়েছে, ড্রাইভিং লাইসেন্স হস্তান্তর করা যাবে না। এই ধারা কেউ লঙ্ঘন করলে তা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

কোনো সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট চালক, কন্ডাক্টটর বা তাদের প্রতিনিধি নিকটস্থ চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র বা হাসপাতালে নিয়ে না গেলে এবং নিকটস্থ থানা, ফায়ার সার্ভিস বা হাসপাতালকে অবহিত না করলে অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে বলে বিধান রাখা হয়েছে।

এই অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ১ মাসের কারাদণ্ড বা ২০ হাজার বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। একইসাথে চালকের এ পয়েন্ট কাটা যাবে।

এছাড়া বিলে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার জন্য চালকের কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণি পাসের শর্ত রাখা হয়েছে। আগের আইনে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো বাধ্যবাধকতা ছিলো না। নতুন আইনের সহকারী হতেও শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে। সহকারীর পঞ্চম শ্রেণি পাসের সার্টিফিকেট থাকতে হবে। আগের অধ্যাদেশে সহকারীদের লাইসেন্সের কথা থাকলেও তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত ছিল না। এছাড়া সহকারী হতে বাধ্যতামূলকভাবে লাইসেন্সের বিধানও থাকছে। বিলে চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকলে অনধিক ছয় মাসের জেল বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। সহকারীরও শাস্তির বিধান যুক্ত করা হয়েছে বিলে। চালকের সহকারীর লাইসেন্স না থাকলে এক মাসের জেল বা ২৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

সড়ক পরিবহন বিল,ড়ক পরিবহন বিল-২০১৮
apps