• বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
  • ||

ড. কামাল আজ সমাবেশ থেকে যে ঘোষণা দিবেন

প্রকাশ:  ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৪:২৩
পীর হাবিবুর রহমান
প্রিন্ট

মহানগর নাট্যমঞ্চের 'জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া'র সমাবেশ থেকে সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন সরকারকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দাবি মেনে নেয়ার আল্টিমেটাম দিতে পারেন।

শুক্রবার রাতে বিএনপি নেতারা তার সঙ্গে দেখা করে এই আল্টিমেটাম দেয়ার প্রস্তাব করেন। তবে চূড়ান্ত প্রস্তাব ও কর্মসূচি প্রণয়ন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের এখতিয়ার ড. কামাল হোসেনের উপর দিয়েছেন।

শনিবার বিকেল ৩টায় এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সমাবেশ থেকে কি কর্মসূচি ঘোষণা করবেন তা আজ সকাল ১১টায় ড. কামাল হোসেন একাই চূড়ান্ত করবেন।

ঐক্য প্রক্রিয়ার দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বিএনপি নেতারা শুক্রবার রাতে ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে দেখা করে তার ওপর দায়িত্ব অর্পণ করেছেন। এমনকি তারা কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানাতে এবং তাকে আইনি প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা দিতে অনুরোধ জানিয়েছেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, খোন্দকার মোশারফ হোসেন ও দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শুক্রবার রাতে মতিঝিলের চেম্বারে ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেন। এ সময় ঐক্য প্রক্রিয়ার অন্যতম নেতা মোস্তফা মহসীন মন্টু, সাবেক ডাকসু ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ, অ্যাড. সুব্রত রায় ও আ ন ম সফিক উল্ল্যাহ উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ ড. কামাল হোসেনকে একজন সংবিধান প্রণেতা ও জাতীয় মুরুব্বি হিসেবে তার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বলেন, জাতির এই দুঃসময়ে একটি গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন আদায়ে আপনি দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে পারেন।

বিএনপি নেতারা ড. কামাল হোসেনের প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন ও আস্থা প্রকাশ করে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তারা সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য তাদের দলীয় বক্তব্য ও রূপরেখা লিখিত আকারে তার কাছে পেশ করেন।

তারা বলেন, এই বিষয়ে আপনি যে নীতি গ্রহণ করবেন, সেখানেই আমাদের সমর্থন থাকবে। ড. কামাল হোসেন এই সময় বিএনপি নেতাদের বলেন, আমাকে নেতৃত্ব দেয়ার কথা বলে বিভ্রান্ত করবেন না। আমি সব সময় যৌথ নেতৃত্বে বিশ্বাসী। আমরা সবাই মিলেই একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে চাই। সেই জন্য আমাদের যা করণীয় তা করতে হবে।

সূত্র জানায়, সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়। আজকের সমাবেশে ড. কামাল হোসেন সভাপতিত্ব করবেন। প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ কিউ এম বদরুদোজা চৌধুরী। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখবেন বিএনপি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আরও বক্তব্য রাখবেন জেএসডির সভাপতি এবং গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক আ স ম আব্দুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, সাবেক ডাকসু ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ, অ্যাড. সুব্রত রায় ও সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. জয়নুল আবেদীন। এছাড়াও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন এবং গণস্বাস্থ্যের ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বক্তব্য রাখবেন।

কৃষক শ্রমীক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীকে সমাবেশে যোগদানের আহ্বান জানালেও তিনি আজকের সমাবেশে থাকতে পারবেন না জানিয়ে পরবর্তীতে যুক্ত হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

এদিকে সূত্র জানায়, সংসদ ভেঙে দেয়াসহ গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উল্লেখ করে ড. কামাল হোসেন সরকারকে সময়সীমা বেধে দিতে পারেন।

অন্যদিকে ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধিদের ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউটে একটি সভা করার উদ্যোগ নিয়েছেন। আর খন্দকার মাহবুব হোসেন ঐক্য প্রক্রিয়ার ড. কামাল হোসেনকে সামনে নিয়ে সুপ্রীম কোর্টে সারাদেশের আইনজীবীদেরও একটি সমাবেশ করতে যাচ্ছেন।

জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে বাম গণতান্ত্রিক জোটকে যুক্ত করার জোর চেষ্টা চলছে। সেখানে বামপন্থীরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও ধীরে চল নীতি গ্রহণ করেছেন বলে জানা যায়।

এদিকে ড. কামাল হোসেন এ সপ্তাহে উচ্চ আদালতে গায়েবি ব্যক্তিদের নামে মামলা ও ধরপাকড়ের একটি রিট মামলাও ড. কামাল হোসেন আইনি লড়াইয়ে দাঁড়াতে যাচ্ছেন।

[সূত্র:পীর হাবিবুর রহমান/বাংলাদেশ প্রতিদিন]

ড. কামাল হোসেন
apps