• শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫
  • ||

কর্নেল অলির মান ভাঙাতে তৎপর বিএনপি

প্রকাশ:  ১৫ অক্টোবর ২০১৮, ২০:৩৭ | আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০১৮, ২১:০৮
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রিন্ট

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ দীর্ঘদিন ধরেই জোটের কোনো বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন না। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর থেকে জোটের কোনো শীর্ষ বৈঠকে তিনি যোগ দেননি। নতুন ঐক্যজোট গঠনে বিএনপি’র তৎপরতা তার সমর্থন পায়নি। বিশেষত সরকার বিরোধী ঐক্যবদ্ধ প্লাটফর্ম গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বি. চৌধুরীর শর্তারোপে কর্নেল অলি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়াও জানিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে তার ভারত সফর, জোটের সভায় অনুপস্থিতি আর জাতীয় ঐক্য নিয়ে কঠোর সমালোচনায় গুঞ্জন ওঠে ভোটের আগে ক্ষমতাসীন জোটে যুক্ত হচ্ছেন বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জিয়ার একসময়ের এই ঘণিষ্ঠ সহচর।

দীর্ঘদিন দলে থাকার পর ২০০৬ সালে বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সঙ্গে বিএনপি ত্যাগ করা কর্নেল (অব.) অলি আহমদের মান ভাঙাতে এবার তৎপর হয়েছে তার পুরনো দলের শীর্ষনেতারা। ২০ দলীয় জোটের রাজনীতিতে সক্রিয় করতে রোববার রাতে তার মহাখালীর পুরনো ডিওএইচএসের বাসায় যান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও নজরুল ইসলাম খান।

এলডিপির যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, বিকল্পধারার দর কষাকষির কারণেই মূলত তাদের নিয়ে ঐক্যগড়ার বিরোধী ছিলেন অলি আহমেদ। এ নিয়ে এলডিপি চেয়ারম্যান গণমাধ্যমে কঠোর প্রতিক্রিয়াও জানান। ওই স্পষ্ট বক্তব্যের জন্য অনেকেই তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এবার বিএনপির শীর্ষ নেতারাও অলি আহমদের সঙ্গে দেখা করে তার ওই বক্তব্যের সঙ্গে সহমত প্রকাশ করেন এবং তাকে জোটের রাজনীতিতে সক্রিয় হতে অনুরোধ জানান।

এলডিপির নেতা শাহাদাত আরও জানান, বি চৌধুরীকে ছাড়া জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হওয়াকে কর্নেল অলি স্বাগত জানিয়েছেন এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে যৌথভাবে বিএনপি যে কর্মসূচি দেবে তাতে তার সমর্থন থাকবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন।

এর আগে গত শনিবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনকে শুভ উদ্যোগ উল্লেখ করে গণমাধ্যমকে এলডিপি চেয়ারম্যান কর্ণেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, নির্বাচনের আগে জোট গঠন নতুন কিছু না। নির্বাচন আসলেই মেরুকরণ হয়। সব দলই অন্য দলের সঙ্গে জোট করতে চায়। যদিও শুরুতেই ঐক্যফ্রন্টের এক পক্ষ রণভঙ্গ দিয়েছে। আশা করি অন্যরা রণভঙ্গ দেবেন না। জাতিকে হতাশ করবেন না।

তিনি আরও বলেন, জোট হোক আর দলই হোক- জনগণের কাছে যাদের ভিত্তি নেই, তাদের নিয়ে নির্বাচনে গেলে সুফল হবে না। অতীতেও শুভ হয়নি। প্রতীক নিয়ে পাশ করা যায় না। নিজের এলাকায় গ্রহণযোগ্যতা থাকতে হবে।

নির্বাচনকালীন সরকারে থাকার প্রস্তাব প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কর্নেল অলি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গত নয় বছরে আমার কোনও কথা হয়নি। সরকারের কারও সঙ্গে এ বিষয়ে আমার কোনো কথা হয়নি।

বিএনপি সরকারের সাবেক এ মন্ত্রীর ঘণিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন, কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ শেষ পর্যন্ত ২০ দলীয় জোটেই থাকছেন। এটা নিশ্চিত।

এনই

কর্নেল অলি,অলি আহমেদ
apps