• বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫
  • ||

প্রথম তালিকায় ৮ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নিবে মিয়ানমার

প্রকাশ:  ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ০০:৫৬
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ থেকে দেওয়া রোহিঙ্গাদের প্রথম তালিকাটি যাচাই করে তালিকাভুক্ত ৮ হাজার রোহিঙ্গাকে নিজেদের বলে স্বীকার করেছে মিয়ানমার।

সোমবার (১৫ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।

তিনি বলেন, এ মাসের শেষেই মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসছে। এতে থাকবে দেশটির সরকারি দলের নেতৃবৃন্দও। তখন জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সভায় এ নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার পর পুনর্বাসন করতে রাখাইন প্রদেশে তাদের গ্রামে ঘর তুলতে হবে। এ জন্য ভারত মিয়ানমারকে সহযোগিতা করছে। এ কাজে সহযোগিতা করার জন্য চীনকেও অনুরোধ করেছেন বলে জানান তিনি।

এ বছরের জানুয়ারিতে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় প্রথম তালিকায় ১৬৭৩টি পরিবারের ৮ হাজার ২ জন রোহিঙ্গার নাম পাঠিয়েছিল বাংলাদেশ। চুক্তি অনুযায়ী ফেব্রুয়ারিতেই তাদের প্রত্যাবাসন হওয়ার কথা ছিল।

চুক্তি অনুযায়ী দুই বছরের মধ্যে ৭ লাখের মত রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসনের লক্ষ্য ঠিক করা হয়। কিন্তু প্রথম তালিকার মাত্র আট হাজার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে যাচাই করতেই প্রায় ১০ মাস সময় নিল মিয়ানমার।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের আগস্টের শেষের দিকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযান ও স্থানীয় বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর হামলার ঘটনায় ৭ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

জাতিসংঘ এ ঘটনায় মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যার অভিযোগ আনে। যদিও মিয়ানমার এটিকে বিদ্রোহী গোষ্ঠী দমন বলে সে অভিযোগকে অস্বীকার করেছে।

এদিকে কক্সবাজারের কয়েকটি আশ্রয় শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে রোহিঙ্গারা। ইতোমধ্যে অধিক জনসংখ্যার চাপে সেখানকার পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় অধিবাসীও অস্তিত্বের সম্মুখীন।

মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের আশ্বাস দিলেও নানা অযুহাতে পুরো প্রক্রিয়াকে ধীরগতির করে রেখেছে। যার কারণে কক্সবাজারের ওপর থেকে চাপ কমাতে সেখানকার আর্থ সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষার্থে রোহিঙ্গাদের একটি অংশকে নোয়াখালীর ভাসানচরে সরিয়ে নিচ্ছে সরকার।

/এসএম

রোহিঙ্গা,পররাষ্টমন্ত্রী
apps