• বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫
  • ||

ড. কামালের সামর্থ্য জানা আছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশ:  ১৯ অক্টোবর ২০১৮, ১৮:৫৪ | আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০১৮, ১৮:৫৭
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ‘ড. কামাল হোসেনের টার্গেট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেজন্য তিনি আদর্শ ছেড়ে বিএনপির সঙ্গে জোট বেধেছেন। ড. কামাল হোসেনের কী সামর্থ্য আছে, তা আমাদের জানা আছে। তিনি কোনোদিন এমপি নির্বাচিত হতে পারেননি। বঙ্গবন্ধুর ছেড়ে দেওয়া আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় একবার নির্বাচিত হয়েছেলেন।’

রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) শুক্রবার কোরিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (কেবিসিসিআই) আয়োজিত ‘শো-কেস কোরিয়া’ শীর্ষক মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘২১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর গ্রেনেড হামলায় তারেক রহমানসহ বিএনপির অনেক নেতা জড়িত, আজ তা প্রমাণিত। বিএনপি একটি সন্ত্রাসী দল হিসেবে প্রমাণিত।’

তোফায়েল বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন, এটা তাদের এখতিয়ার। নির্বাচনকালীন সরকারে থাকবে বর্তমান সরকার প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে। সুতরাং প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এ সরকারের আমলে নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তারিখ অনুসারে নির্বাচন হবে। তারা (ঐক্যফ্রন্ট) সাত দফা দাবি দিয়েছে। এগুলো সংবিধান পরিপন্থী দফা। একটা দফাও গ্রহণযোগ্য না। নির্বাচন হবে যথা সময়ে।’

‘নির্বচন অংশগ্রহণমূলক হবে, অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে। নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করবে। এর বাহিরে যত দফায় দেয়া হোক না কেন, যত কূটনৈতিকের সঙ্গে বৈঠক হোক না কেন, আমারা আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছাব। গ্রামের মানুষ বঙ্গবন্ধু কন্য শেখ হাসিনার পক্ষে। ৬৬ শতাংশ মানুষ শেখ হাসিনাকে পছন্দ করেন’ যোগ করেন তোফায়েল আহমেদ।

পদ্মা সেতুর প্রসঙ্গ তুলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কেউ ভাবে নাই আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা ব্রিজ করতে পারব। আমাদের দেশেরই কোনো ব্যক্তি ষড়যন্ত্র করে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধ করে দেয়। দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। কিন্তু কানাডার আদালতে প্রমাণ হয় কোনো দুর্নীতি হয়নি। সেদিন প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, আমি আমার অর্থায়নে পদ্মা ব্রিজ করব। ১৪ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমরা পদ্মা ব্রিজ দেখতে গিয়েছিলাম। ৬০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এখন পদ্মা ব্রিজ দৃশ্যমান।’

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘কোরিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশর বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। বাংলাদেশে কোরিয়ার অনেক বিনিয়োগ আছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত স্পেশাল ইকোনমিক জোনে কোরিয়ার বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করলে লাভবান হবেন। সরকার বাংলাদেশে বিনিয়োগে আকর্ষণীয় সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। কোরিয়া থেকে বাংলাদেশ অনেক যন্ত্রপাতি আমদানি করে থাকে, সে কারণে আমাদের আমদানি বেশি। গত ২০১৬-১৭ অর্থবছর বাংলাদেশ কোরিয়ায় রফতানি করেছে ২৩৮ দশমিক ২৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য। একই সময়ে আমদানি করেছে ১২৬৮ দশমিক ২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য। বাংলাদেশে বিশ্বমানের ওষুধ উৎপাদন করছে। কোরিয়া কম মূল্যে বাংলাদেশ থেকে বিশ্বমানের ওষুধ আমদানি করতে পারে। বাংলাদেশ এখন ১২৯টি দেশে ওষুধ রফতানি করছে। কোরিয়া বাংলাদেশকে অনেকগুলো পণ্য রফতানিতে বাণিজ্য সুবিধা দিয়েছে। বাংলাদেশ থেকে সে সব পণ্য রফতানি সন্তোষজনক নয়।’

উল্লেখ্য, শোকেস কোরিয়া-২০১৮’তে কোরিয়ার ২০টি এবং বাংলাদেশের ১৩টিসহ মোট ৩৩টি কোম্পানির ১০০টি স্টল রয়েছে। ইলেক্ট্রনিকস, গাড়ি, সিরামিক,পেপার, কসমেটিক্সসহ নানা ধরনের পণ্য রয়েছে স্টলগুলোতে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দর্শণার্থীদের জন্য মেলা খোলা থাকবে। আগামী বছর এ মেলা কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে।

কোরিয়া বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি-এর চেয়ারম্যান এবং মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন– ঢাকায় নিযুক্ত কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত হু কাং ইল, এফবিসিসিআই-এর প্রেসিডেন্ট মো. সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, কোরিয়া ইপিজেড-এর প্রেসিডেন্ট জাহাঙ্গীর সা’দাত, এলজি ইলেক্ট্রনিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডং কন সন এবং শোকেস কোরিয়া-এর অর্গানাইজিং কমিটির চেয়ারম্যান সাহাবউদ্দিন খান।

-একে

ড. কামাল হোসেন,তোফায়েল আহমেদ
apps