• শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ১ পৌষ ১৪২৫
  • ||

ফলোঅনে জিম্বাবুয়ে, ৩০৪ রানে থামল ইনিংস

প্রকাশ:  ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ১৮:১৮ | আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ১৮:৪৭
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রিন্ট

সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের তৃতীয় দিনশেষে ফলোঅনে পড়েছে জিম্বাবুয়ে। ৯ উইকেট হারিয়ে ৩০৪ রানে শেষ তাদের ইনিংস। জিম্বাবুয়ের টেন্ডাই চাতারা ব্যাটিং করার অবস্থায় না থাকায় এখানেই থামতে হলো তাদের। আর ২১৮ রানে এগিয়ে দিন শেষ করলো বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে প্রথমবারের মতো বিপক্ষ কোনো দলকে ফলোঅনে ফেললো টাইগাররা।

কিন্তু দিনের খেলা শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে, বোঝা গেলো না জিম্বাবুয়েকে ফলোঅন করাবে কি না বাংলাদেশ। তবে, খেলার গতি প্রকৃতি দেখে বোঝাই যাচ্ছে, বুধবার সকালে আবারও জিম্বাবুয়েকে ব্যাটিংয়ে পাঠাতে পারেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

ঐতিহাসিক ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে জিম্বাবুয়ের সামনে রানের পাহাড় তুলে দেয়ার পর গতকাল সংবাদ সম্মেলনে মাশফিকুর রহিম বলেছিলেন, এখনও অনেক কাজ বাকি। আর সেই কাজটা করতে হবে বোলারদের। তৃতীয় দিনে সেই কাজটা বেশ ভালোভাবেই সেরেছেন তাইজুল-মিরাজরা।

মঙ্গলবার (১৩ নভেম্বর) মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টেস্টের তৃতীয় দিনের শুরুতে ব্র্যান্ডন চারি (৫৩) ও ব্র্যান্ডন টেইলরের ব্যাটে চড়ে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে যায় জিম্বাবুয়ে। পরে এক জুটি গড়েন টেইলর-মুর। দুজনে ক্রিজে এমনই জাঁকিয়ে বসেন যে মোস্তাফিজ-খালেদ আহমেদের মতো পেসারদের বল অনায়াসে মাঠ ছাড়া করেন। শীর্ষ পেসাররা উইকেট তুলতে না পারায় আরিফুল হকের হাতে বল তুলে দেন টাইগার অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। দিনের শেষ পানি বিরতির ঠিক আগে অধিনায়কের আস্থার প্রতিদান দিয়ে মুরকে (৮৩) লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন আরিফুল।

তবে মুরের বিদায়েও দমে যাননি টেইলর। তাইজুলের বলে এক্সট্রা কভার দিয়ে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ৯৯০-এ পৌছান তিনি। এরপর ৯৫তম ওভারে মিড উইকেটে শট খেলে ২ রান নিয়ে নিজের পঞ্চম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেন টেইলর। ১৮৭ বল খেলে ৮ চারে সেঞ্চুরিটির ইনিংসটি সাজিয়েছেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান।

কিন্তু সেঞ্চুরি পেয়েই মেরে খেলতে শুরু করেন টেইলর। আর তার ফায়দা তুলে নেন অফ স্পিনার মেহেই হাসান মিরাজ। তার বলে সুইপ শট খেলতে গিয়ে স্কয়ার লেগে থাকা তাইজুলের হাতে ক্যাচ তুলে দেন টেইলর। ফলো-অন থেকে ৩৩ রান দূরে থাকা জিম্বাবুয়ের ব্র্যান্ডন মাভুতা ও রেগিস চাকাভা বেশীক্ষণ টিকে থাকতে ব্যর্থ হন। মাভুতাকে স্লিপে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন মিরাজ।

কাইলি জারভিস ও চাকাভা জিম্বাবুয়ের ইনিংস তিনশ পার করেন। কিন্তু চাকাভাকে ব্যক্তিগত ১০ রানে শর্ট লেগে ক্যাচ বানিয়ে ৩০৪ রানেই জিম্বাবুয়ের ইনিংসের যতি টেনে দেন তাইজুল।

চলতি টেস্ট সিরিজের টানা তিন ইনিংসে ৫ উইকেট শিকার করে সাকিব আল হাসান ও এনামুল হক জুনিয়রের কীর্তিতে ভাগ বসালেন টাইগার বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। সাদা পোষাকে লাল-সবুজের হয়ে টানা তিন ইনিংসে ৫ উইকেট পাওয়া বোলার তারা তিনজনই।

গেল ৩-৬ নভেম্বর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিলেট সিরিজের টেস্টের প্রথম ইনিংসে তাইজুল নেন ৬ উইকেট। কম যাননি দ্বিতীয় ইনিংসেও। একে একে ৫ জিম্বাবুইয়ানকে নিজের শিকারে পরিণত করে মোট সংগ্রহটা নিয়ে যান ১১তে। এরপর মঙ্গলবার (১৩ নভেম্বর) শের-ই-বাংলায় সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের প্রথম ইনিংসে তাইজুল নেন ৫ উইকেট।

বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে ২০০৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টানা তিন ইনিংসে ৫ ও তার বেশি উইকেট নিয়ে তিন ইনিংসে মোট ১৮টি উইকেট শিকার করেছিলেন এনামুল হক জুনিয়র। এর তিন বছর পর ২০০৮ সালে দক্ষিণ অফ্রিকা সফরে গিয়ে এনামুলের কীর্তিতে ভাগ বসান সাকিব আল হাসান। তিন ইনিংসে নেন ১৬ উইকেট।

এর আগে মুশফিকের ডাবল সেঞ্চুরি ও মুমিনুল হকের সেঞ্চুরির ওপর ভর করে বাংলাদেশ ৫২২ রান করে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে, যাতে মুশফিক একাই ২১৯ রানের হার না মানা একটি ইনিংস খেলেন। ৪২১ বলে ১৮ চার ও একটি ছক্কায় এই ইনিংস সাজিয়েছেন। শেষ দিকে এসে তাকে দারুণ সাপোর্ট দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এই তরুণ অলরাউন্ডার খেলেন অপরাজিত ৬৮ রানের একটি ইনিংস। এ ছাড়া মাহমুদউল্লাহ ৩৬ রান করেন।

মুশফিকের ক্যারিয়ারে এটি দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি। এর আগে ২০১৩ সালে গলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। বাংলাদেশের আরো দুটি ডাবল সেঞ্চুরি আছে, একটি সাকিব আল হাসানের, অন্যটি তামিম ইকবালের।

এর আগে প্রথম দিনে বাংলাদেশ ৯০ ওভারে ৩০৩ রান করেছিল, যাতে মুমিনুল ১৬১ রানের চমৎকার একটি ইনিংস খেলেন। এটি তাঁর ক্যারিয়ারের সপ্তম টেস্ট শতক। আর ষষ্ঠ সেঞ্চুরি করে মুশফিক ছিলেন ১১১ রানে অপরাজিত।

তবে দুজনে মিলে দারুণ একটি রেকর্ড গড়েছেন। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সর্বোচ্চ রানের জুটি গড়েছেন। চতুর্থ উইকেটে তাঁরা করেন ২৬৬ রান।

শেরেবাংলায় এটি হয়েছে দারুণ একটি রেকর্ড। এই মাঠে এটি সর্বোচ্চ রানের জুটি। এই ভেন্যুতে এর আগে সর্বোচ্চ জুটি ২০১০ সালে ভারতের বিপক্ষে। সেবার দ্বিতীয় উইকেটে তামিম ইকবাল ও জুনায়েদ সিদ্দিকী করেছিলেন ২০০ রান। এবার সে রেকর্ডকে ছাড়িয়েছেন তারা।

এর আগে লিটন দাস ৯ ও ইমরুল কায়েস শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন। কোনো রান না নিয়ে আউট হন এই ম্যাচে অভিষেক হওয়া মিঠুনও। আর মাহমুদউল্লাহ ৩৬, আরিফুল ও তাইজুল ৪ রান করে নেন।

সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে জিম্বাবুয়ে। সিরিজ বাঁচাতে হলে এই ম্যাচে টাইগারদের জয়ের কোনো বিকল্প নেই।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ (তৃতীয় দিনশেষে)

বাংলাদেশ ৫২২/৭, ডিক্লেয়ার্ড, (প্রথম ইনিংস)

মুশফিক ২১৯*, মুমিনুল ১৬১, মিরাজ ৬৮*

জারভিস ৫/৭১, চাতারা ১/৩৪

জিম্বাবুয়ে ৩০৪/৯, প্রথম ইনিংস, ১০৫.৩ ওভার

টেলর ১১৩, মুর ৮৩, চারি ৫৩

তাইজুল ৫/১০৭, মিরাজ ৩/৬১

/অ-ভি

ফলোঅন,জিম্বাবুয়ে,৩০৪ রান,থামল,ইনিংস
apps