• বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
  • ||

শরীকদের দাবি ১১৫, আ’লীগ ছাড়তে রাজি ৭০

প্রকাশ:  ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ০৩:৩৯ | আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ০৩:৪৪
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রিন্ট

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলীয় জোটের শরিকেদের জন্য সর্বোচ্চ ৭০ অাসন ছাড়বে। তবে তাদের প্রত্যেককে হতে হবে নিজ নিজ আসনে জনপ্রিয়। শরিক দলগুলোর কাছ থেকে পাওয়া তাদের প্রার্থী তালিকা এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার হাতে পৌঁছেছে। ওই তালিকা অনুযায়ী শরিক দলগুলো চাইছে ১১৫ আসন। আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে তা পূরণ সম্ভব নয় জানিয়ে শরিকদলগুলোর কাছে আরেকটি শর্ট তালিকা চাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে সক্রিয় একাধিক সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে শরীক দলগুলো আরও কয়েকটি আসনে ছাড় পেতে ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে দেন-দরবার চালিয়ে যাচ্ছে। আরো অাসন পেতে জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, যুক্তফ্রন্ট, জেপি, বিএনএফ, তরীকত ফেডারেশন, বিএনএ, ইসলামিক ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স, সাম্যবাদী দল, গণতন্ত্রী পার্টি, কমিউনিস্ট কেন্দ্র, জাকের পার্টি, এনডিএ এবং ইসলামিক ফ্রন্টের নেতারা তৎপরতা চালাচ্ছে।

সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগপ্রধান শেখ হাসিনা ইতিমধ্যে নিজের দল, ১৪ দল ও মহাজোটগতভাবে ছয়টি জরিপ করিয়েছেন। জরিপ অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে ৩০০ আসনে দলীয় প্রার্থীর তালিকা চূড়ান্ত করলেও আপাতত আনুষ্ঠানিকভাবে সবার নাম ঘোষণা না করার আগাম সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। বর্তমানে ১৪ দলীয় জোট এবং মহাজোটগতভাবে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত রয়েছে। একইসঙ্গে কোনো কারণে প্রার্থিতা নিয়ে সংকট তৈরি হলে ৩০০ আসনে দলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণারও প্রস্তুতি রয়েছে।

বর্তমান সংসদে জাতীয় পার্টির আসন ২৯টি। তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটি ৮০ আসনের দাবি তুলেছে। বিভিন্ন জরিপ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দশম সংসদের প্রধান বিরোধী দলটির ১৫/১৬টি আসনে জনপ্রিয় প্রার্থী অাছে। দলটির বর্তমান সংসদ সদস্যদের অর্ধেকেরই নিজ নিজ আসনে ন্যুনতম ভিত্তি নেই। জাতীয় পার্টির বর্তমান এমপিদের বাইরে দলে তরুণ বা নবাগত জনপ্রিয় অন্য প্রার্থী নেই। সে হিসেবে আসন সমঝোতা বৈঠকে জয়-পরাজয়ের কথা উঠলে জাতীয় পার্টির প্রার্থীসংখ্যা আরো কমে যেতে পারে।তবুও সার্বিক দিক বিবেচনায় ক্ষমতাসীন দলের নীতি-নির্ধারকরা জাপাকে বড় জোর ৩০টি অাসনে ছাড় দিতে প্রস্তুত। তবে বিএনপি নির্বাচনে চলে আসায় সরকারী দলের কাছে জাতীয় পার্টর গুরুত্ব বেড়ে যাওয়ায় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দলীয় মিত্রকে বলা হয়েছে, আসন সমঝোতার আগে প্রার্থী তালিকা জমা দিতে। জিতে আসার মতো প্রার্থী হলে অবশ্যই তাঁদের মনোনয়ন দেওয়া হবে।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটে রয়েছে মোট ১৩টি রাজনৈতিক দল। এর মধ্যে ৫টির নিবন্ধন নেই। অন্য আটটি দলের নিবন্ধন থাকলেও তারা এবার নৌকা প্রতীকে ভোট করবেন। ছোট দলগুলোর বড় চাহিদা রয়েছে আওয়ামী লীগের কাছে। নিবন্ধনহীন রাজনৈতিক দলও ৫টি করে আসন চায়। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জোটবদ্ধ হয়ে অংশ নিতে ১৪ দলের শরিকরা আওয়ামী লীগের কাছে তাদের প্রার্থী তালিকা দিয়েছে। ১৪ দলীয় জোটের প্রার্থীদের নৌকা প্রতীক বরাদ্দ করতে ইসিতে চিঠিওে পাঠানো হয়েছে।

ক্ষমতাসীন দলের একটি সূত্র জানানয়, ১৪ দলের মধ্যে ৬টি আসনে ওয়ার্কার্স পার্টি এবং ৫টি আসনে জাসদের প্রার্থীরা মনোনয়ন পাবেন। এ ছাড়া পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি-জেপি এবং সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারীর নেতৃত্বাধীন তরীকত ফেডারেশন দুটি করে আসনে মহাজোটের মনোনয়ন পাবে। সাবেক মন্ত্রী দিলীপ বড়ূয়ার নেতৃত্বাধীন সাম্যবাদী দল, ব্যারিস্টার আরশ আলীর নেতৃত্বাধীন গণতন্ত্রী পার্টি এবং ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খানের নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট কেন্দ্রও কয়েকটি আসনে ১৪ দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছে।

এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থনে এগিয়ে আসা বি চৌধুরীরর যুক্তফ্রন্ট তথা বিকল্পধারা ১০টি আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছে। এ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ আবারও সরকার গঠন করতে পারলে বিকল্পধারাকে বাড়তি সুযোগের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৩ অাসনে ছাড় দেওয়া হতে পারে। নতুন মিত্র জাকের পার্টি চায় ৩ আসন। তাদের সর্বোচ্চ ১ আসনে ছাড় দেওয়া হবে।

এছাড়াও ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট অ্যালায়েন্স (বিএনএ), আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ), মিছবাহুর রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ইসলামিক ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স, সৈয়দ বাহাদুর শাহের নেতৃত্বাধীন ইসলামিক ফ্রন্ট এবং আলমগীর মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সের (এনডিএ) পক্ষ থেকে নূ্যনতম একটি করে আসনে মহাজোটের মনোনয়ন প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

এদিকে আসন বণ্টন নিয়ে সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের সর্বশেষ বৈঠকে অল্প-বিস্তর আলোচনা হয়। তবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ওই বৈঠকে নেতারা ৩০০ আসনে দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে তৈরি করা বিভিন্ন জরিপ প্রতিবেদনের ওপর বিশদ আলোচনা করেন। তবে দলের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ সংসদীয় বোর্ডের সদস্য ও দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ জানান, ১৪ দলীয় জোট কিংবা মহাজোটগত প্রার্থীর তালিকা চূড়ান্ত করা নিয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করার পর এই নিয়ে ১৪ দল ও মহাজোট নেতাদের আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে।

আওয়ামী লীগ সংসদীয় বোর্ডের অপর সদস্য এবং দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান জানান, প্রধানমন্ত্রী ও দলের সভাপতি শেখ হাসিনা আজ বুধবার ৩০০ আসনে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবেন। এরপর কাল বৃহস্পতিবার শুরু হবে দলগতভাবে চূড়ান্ত প্রার্থী বাছাইয়ের কার্যক্রম।

জানা যায়, আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ৪ হাজার ২৩ নেতাকে আজ সকাল ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আসার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। সেখানে তাদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত কথা বলবেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। পরে তিনি গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার জন্য মনোনয়নপ্রত্যাশীদের প্রতি আহ্বান জানাবেন। প্রধানমন্ত্রী দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দেওয়ার পর তাদের গণভবনে মধ্যাহ্নভোজে আমন্ত্রণ জানাবেন।

এদিকে ৩০০ আসনে দলের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে সংসদীয় বোর্ডের ধারাবাহিক বৈঠক শুরু হবে। এই কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর ১৪ দল ও মহাজোটের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হবে বলে উল্লেখ করে লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান জানান, দলগত মূল্যায়নের পর জোটগতভাবে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।

শরীকদের দাবি ১১৫,নির্বাচন,আওয়ামী লীগ
apps