• সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
  • ||

নির্বাচন পেছানো আর নয়, দাবি আ’লীগের

প্রকাশ:  ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ২১:১২ | আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ২১:১৭
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

আওয়ামী লীগের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচ টি ইমাম বলেছেন, আমরা নির্বাচন কমিশনকে পরিষ্কার বলেছি, ৩০ তারিখ পর্যন্ত নির্বাচন পিছিয়েছেন। আর নয়। একদিনও নয়, একঘণ্টাও নয়।

বুধবার (১৪ নভেম্বর) রাতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি।

এইচটি ইমাম বলেন, জানুয়ারিতে নতুন করে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হবে। তখন কয়েক লাখ নতুন ভোটার হবে। কিন্তু সর্বশেষ ভোটার তালিকা অনুযায়ী, তারা ভোট দিতে পারবেন না। আর নতুন ভোটাররা মামলা করে দিলে নির্বাচন ভণ্ডুল হতে পারে। এই দায়িত্ব কে নেবে? এরপর নতুন বছরে ছাত্রদের নতুন বই দেওয়ার দায়িত্ব রয়েছে। সেটিও বিলম্বিত হতে পারে। এছাড়া জানুয়ারিতে বিশ্ব ইজতেমা রয়েছে। একটি বিশাল আয়োজন। এখানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা, থাকার ব্যবস্থা করার বিষয় আছে। এ সময় নির্বাচন করা সম্ভব নয়।

৩০ তারিখ নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের আসতে সমস্যা হবে, বিএনপির এমন দাবি হাস্যকর মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, আমার হাসি পাচ্ছে-কোনো দেশ কি বিদেশিদের জন্য নির্বাচন পেছায়? আমরা একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র। নির্বাচনের সিদ্ধান্ত আমাদের নিজেদের। সেখানে কে পর্যবেক্ষণ করতে আসলো আর কে আসলো না তা বিষয় নয়।

তিনি বলেন, বিদেশিরা নিশ্চয়ই পর্যবেক্ষণে আসবেন। তারা ২০০৮ সালে ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তখন প্রচুর সংখ্যক বিদেশি পর্যবেক্ষক এসেছিলেন। তখন কোনো কিছুই বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।

এইচ টি ইমাম বলেন, বুধবারও তারা নির্বাচন পেছানোর দাবি নিয়ে এসেছিল। কিন্তু নয়াপল্টনে যা ঘটেছে, তা সবাই দেখেছে। তারা একদিকে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশের কথা বলবে, অন্যদিকে আগুন সন্ত্রাস সৃষ্টি করবে, সেটি হতে পারে না। তাদের কর্মকাণ্ডে ১৪ জন পুলিশ আহত হয়েছেন। বেশ কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিএনপি কার্যালয়ের সামনে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নির্বাচন আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী, ১১, ১৭ ও ১৮ বিধি ভঙ্গ হয়েছে। বিধিমালায় যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ন্যূনতম শাস্তি ৬ মাসের কারাদণ্ড। আমার এই ঘটনাকে নির্বাচনী অপরাধ হিসেবে গণ্য করে বিএনপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্বাচনের কাছে দাবি জানিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, যারা নির্বাচন পেছানোর দাবি করছেন, তাদের এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে কি-না? কেননা, তাদের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে, নির্বাচন বানচাল করার অপচেষ্টা করছেন কি-না।

এইচ টি ইমাম বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর একটি আনন্দমুখর পরিবেশ সারাদেশে সৃষ্টি হয়েছে। সবাই ভোট দেওয়ার জন্য উদগ্রীব। এটিই হলো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড। এই পরিবেশ বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশনকে এখনই ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে সমস্যা সৃষ্টি হবে। তাই সবার জন্যই নির্বাচন কমিশনকে কঠোর হওয়ার দাবি জানিয়েছি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গণভবনে প্রার্থীরা দলীয় প্রধানের দোয়া নিতে গিয়েছিলেন। সেখানে কোনো নির্বাচনী প্রচারণা হয়নি।

এর আগে, সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন অফিসে এ বৈঠক শুরু হয়।

নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচ টি ইমামের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন মশিউর রহমান, ডা.দীপু মনি, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পী প্রমুখ।

/আরাফাত

এইচ টি ইমাম,নির্বাচন,আওয়ামী লীগ
apps