• বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
  • ||

২০ দলের জন্য বিএনপির ছাড় ৫০, ঐক্যফ্রন্ট পাচ্ছে ১৫

প্রকাশ:  ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ০২:১৯ | আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ০৩:৪১
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রিন্ট

একই সঙ্গে দুই জোট নিয়ে ভোটে অংশ নিতে চাইলেও শরিকদের আসন ছাড় দেওয়া নিয়ে মহাফাঁপড়ে পড়েছে বিএনপি। একে তো নিজ দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে ৩০০ আসনে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি করে এখন মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তদবির ও লবিং সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে দলটির হাইকমান্ড। অন্যদিক দুই জোটের মধ্যে ২০ দলের শরিক দলগুলোর দাবি ১০০ আসনের. আর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট চায় ৫০ আসন।

দুই জোটের শরিকদের জন্য যদি সংসদের অর্ধেক আসনই বিলিয়ে দিতে হয়, দলের দুঃসময়ের কান্ডারিদের বঞ্চিত করা হবে বলে মনে করছেন বিএনপির শীর্ষনেতারা। এক্ষেত্রে শরিকদের জন্য সর্বোচ্চ ৬৫ আসন ছাড় দিবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। এরমধ্যে ২০ দলীয় জোটের শরিকদের জন্য বিএনপির ছাড়তে চায় ৫০ আসন, আর ঐক্যফ্রন্টকে দিতে চায় ১৫ আসন। বিএনপির নির্বাচন পরিচালনার কাজে সম্পৃক্ত একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০-দলীয় জোটের শরিকদের সঙ্গে এখনও আসন সমঝোতা নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনায় বসেনি বিএনপি। অনানুষ্ঠানিকভাবেই দুই জোটের শীর্ষনেতাদের কাছে কাঙ্খিত আসনের তালিকা চেয়েছে বিএনপি, চটজলদিই ওই তালিকা সংসদের বাইরে থাক বড় দলটির হাতে চলে এসেছে। আর দুই জোটের চাহিদা জেনে চমকে ওঠেছেন বিএনপির নেতারা। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলের শরিকদের চাহিদা সবমিলিয়ে ১৫০ আসন।

নির্বাচন পরিচালনার কাজে সম্পৃক্ত বিএনপির একটি সূত্র জানায়, ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামী একাই ৬০টি আসন বরাদ্দ চায়। এরই মধ্যে তারা উল্লেখিত আসনগুলো আন্ডারগ্রাউন্ডে প্রচারণাও শুরু করেছে। ২০ দলের অপর শরিক অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চায় ৩০টি আসন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের মধ্যে নিবন্ধিত দল মাত্র আটটি। নিবন্ধিত দলগুলো পাশাপাশি অনিবন্ধিত দলগুলোও ২ থেকে ৩ আসনের দাবি তুলেছে।

সূত্র জানায়, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এতদিন ১০০ আসন চাওয়ার কথা ভাবছিল। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে তাদের কাছে বিজয়ী হওয়ার মতো সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা চাওয়া হলে এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সেখান থেকে তারা সরে এসেছে। বিএনপির কাছে এখন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা ৫০ আসনে ছাড় চাইছে।

এই ৫০ আসনের মধ্যে ফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হেসেনের গণফোরামের দাবি ১৫ আসন। ফ্রন্টের অন্যতম শরিক আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বাধীন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডিও ১৫ জনের প্রার্থী তালিকা পাঠিয়েছে বিএনপির কাছে। মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বাধীন নাগরিক ঐক্য ১০, বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগ ১০ আসনে প্রার্থী তালিকা ঠিক করে রেখেছে। এর বাইরে আছে বিএনপিকে সমর্থন দেওয়া পেশাজীবী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের চাপ। তাদের কয়েকজন এবার বিএনপির ব্যানারে ভোটে দাঁড়াতে চান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, এখন আমাদের প্রধান কাজ হচ্ছে আসন বন্টন। প্রতিকূল পরিবেশে নির্বাচন করতে হচ্ছে। এটি মনে রেখে আসন বণ্টনের ব্যাপারে সব শরিককে সর্বোচ্চ উদারতা দেখাতে হবে।

বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, এলডিপির জন্য বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা ৫ থেকে ৬টি আসনের কথা ভাবছে। এর মধ্যে এলডিপির সভাপতি অলি আহমদ (চট্টগ্রাম-১৪), মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ (কুমিল্লা-৭), আবদুল করিম আব্বাসী (নেত্রকোনা-১) ও শাহাদাত হোসেন সেলিমকে (লক্ষ্মীপুর-১) জোটের প্রার্থিতার ব্যাপারে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

২০ দলের অন্য শরিকদের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) আন্দালিব রহমান পার্থ (ভোলা-১), জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) শফিউল আলম প্রধানের মেয়ে তাসমিয়া প্রধান (পঞ্চগড়-২), মসিউর রহমান যাদু মিয়ার মেয়ে পিপলস পার্টি অব বাংলাদেশের রীতা রহমান (নীলফামারী-১) ও মাইনরিটি জনতা পার্টির সুকৃতি কুমার মণ্ডলও (যশোর-২) জোটের মনোনয়ন পেতে পারেন বলে আলোচনা আছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম এবং খেলাফত মজলিস ও জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামকে একাধিক আসনে ছাড় দেওয়া হতে পারে।

সূত্র জানায়, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দলগুলোর মধ্যে গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনকে ঢাকা-১০ আসনে, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টুকে ঢাকা-৭ ও নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরীকে ঢাকা-৬ আসনে প্রার্থী করার চিন্তাভাবনা চলছে। ঐক্যফ্রন্টের অন্য নেতাদের মধ্যে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ মৌলভীবাজার-২, মাহমুদুর রহমান মান্নাকে বগুড়া-৭, আ স ম রবকে লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে ও আবদুল কাদের সিদ্দিকীকে টাঙ্গাইলের (৪ ও ৮) দুটি আসনের একটিতে প্রার্থী করা হতে পারে। তাঁদেরসহ ঐক্যফ্রন্টের বাকি নেতাদের বিষয়ে আলোচনা করে চূড়ান্ত করা হবে।

জোটসূত্রে জানা গেছে, ২০ দলীয় জোট ও ঐক্যফ্রন্টের শরিক দলগুলো যার যার মতো করে নিজেদের চাহিদার তালিকা তৈরি করছে, যা বিএনপি–সংশ্লিষ্ট নেতাদের হাতে দিচ্ছে। এর মধ্যে শরিক দলগুলোর মধ্যে যোগ্য প্রার্থী কে কোন আসনে আছেন, সে বিষয়ে বিএনপিও খোঁজখবর নিচ্ছেন। দু–এক দিনের মধ্যে এ নিয়ে শরিকদের সঙ্গে বিএনপি আলাদাভাবে বসবে।

দুই জোটই যে ভোটের মাঠে বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ ব্যবহার করবে এটা নিশ্চিত। ২০ দল ও ঐক্যজোট আলাদাভাবে এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে তা জানিয়ে দিয়েছে।

এনই

ঐক্যফ্রন্ট,২০ দলে,বিএনপি
apps