• রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ২ পৌষ ১৪২৫
  • ||

অরিত্রির মৃত্যু: ফেসবুকে নাগরিক প্রতিক্রিয়া

প্রকাশ:  ০৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৮:৩৭ | আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ২০:২৮
নিউজ ডেস্ক
প্রিন্ট

অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার হৃদয়বিদারক ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিপুল সংখ্যক মানুষ কথা বলছেন। এই আত্মহত্যাতে তাঁরা আবেগ আক্রান্ত এবং গভীর দুঃখবোধ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে গভীর ভাবনার অবকাশ আছে বলেও তাঁরা মনে করছেন। ইতোমধ্যে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এই শিক্ষার্থীর আত্মহত্যাকে হৃদয়বিদারক ও বাজে রকমের দৃষ্টান্ত বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মানসিক কাউন্সেলিং দরকার বলে মন্তব্য করেন হাইকোর্ট।

অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার হৃদয়বিদারক ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নাগরিকদের কিছু পোস্ট পাঠকদের সামনে তুলে ধরা হল:

লেখক ও গণমাধ্যম কর্মী রবিউল কমল লিখেছেন:

'আপনি শিক্ষক। মানুষ গড়ার কারিগর। আপনি একজন ছাত্রীকে ইমোশনালি ব্ল্যাকমেইল করে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিতে পারেন না। সেই অধিকার আপনার নেই।

পরীক্ষার হলে মোবাইল নিয়ে যাওয়া অন্যায়। তবে এটা এমন কোনও অন্যায় নয় যে আপনি সেজন্য সবার সামনে বাবা-মেয়েকে একসঙ্গে অপমান করবেন। একটা ছোট অন্যায়ের শাস্তি দিতে গিয়ে আপনি গুরুতর অপরাধ করে ফেলেছেন। যা ক্ষমারও অযোগ্য।

ভিকারুননেসার ঘটনা শুধু একটি আত্মহত্যা নয়। মেয়েটি আমাদের জানিয়ে দিল আমরা দিন দিন কতটা অমানবিক হয়ে যাচ্ছি। সে জানিয়ে দিল সব শিক্ষকরা মানুষ না। কিছু কিছু শিক্ষক অমানুষও হয়।

একজন শিক্ষকের মুখের ভাষা কতটা অমার্জিত হলে একটি মেয়ে মৃত্যুর মতো ভয়াবহ সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এটি কোনোভাবেই আত্মহত্যা নয়। আপনি পরোক্ষভাবে একটি মেয়েকে হত্যা করেছেন। শুধু একটি মেয়েকে নয় একটি সুন্দর জীবনকে হত্যা করেছেন। একটি পরিবারের স্বপ্নকে হত্যা করেছেন।

অথচ একজন শিক্ষকের কাজ হলো মানুষকে তার স্বপ্নের কাছে পৌঁছে দেওয়া। মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া নয়।'

অভিনেত্রী শাহনাজ খুশি লিখেছেন

'সব সহ্য হয়ে যায় এক সময় ,কিন্তু সন্তানের মৃত মুখ কোন বাবা মা মানার শক্তি রাখে না।আমি মা বলেই এ কথা জানার পর অসুস্থ বোধ করছি।দিন রাত গুলো যদি প্রকৃতির হাতে না থেকে অরিত্রির মা বাবার হাতে হতো,তাহলে অনেক আগেই স্তব্ধ হয়ে যেত।অরিত্রি কত বড় অপরাধ করেছিল আমি জানিনা,তবে অপরাধ সংশোধন করে সঠিক পথ নির্দেশনার সুতিকাগারই বিদ্যালয়।আমার দুই সন্তােনর নামকরা একটি স্কুলে পড়াশোনা করবার সুযোগ ঘটেছিল,আমি সেখানেও কমবেশী এমনই দেখেছি।যদিও প্রসাশনিক কড়াকড়ির জন্য এসব শিক্ষকগন খুব ঘোষনা দিয়ে সুবিধা করতেপারেনি,কিন্তু যতটুকু হয়েছে তাতেই আমি হতাশার চুড়ান্ত।বাচ্চারা অনুসন্ধিৎসু। ফাঁকি দেবার,বিধি লংঘন করবার বয়স তো বাচ্চাদেরই,সেটার শাস্তি দেয়া/শুধরে দেওয়া অবশ্যই শান্তিপুর্ন পথেই হওয়া উচিত।আমরা কেউই পদ পেলে আর সহজ সরল থাকিনা,কেমন যেন শাসক হয়ে উঠি।এতোগুলো বাচ্চার দ্বায়িত্ব যাদের দেওয়া হয় অবশ্যই তাদের বিশেষ মমত্ববোধ সম্পন্ন এবং দুরদৃষ্টি সম্পন্ন হওয়া উচিত।অন্যের সন্তানটাকে নিজ সন্তান জ্ঞান করতে না পারলে দয়া করে এই মহান পেশাটায় কেউ যাবেন না।১০মাস গর্ভেধারন করে,তীব্র প্রসববেদনায় সন্তান জন্ম দিয়ে ,এই কঠিন দর কষাকষির সমাজে একটা সন্তানকে এই পর্যায়ে,এতটুকু আনতে একজন বাবা মাকে কি করতে হয়,তা কেবল বাবা মায় জানেন।শিক্ষক-শিক্ষিকা গন তো ২য় মাতা-পিতা,বাচ্চাদের মন বোঝা আপনাদের দ্বায়িত্বের প্রধান পর্ব হওয়া উচিৎ। সব কিছুর পরেও বলি,অরিত্রি,তুমি ঠিক করনি মা,বাবা মায়ের এক মুহুর্তের কান্না-অপমান মানতে পারোনি,কিন্তু সারাজীবন কান্নায় ডুবিয়ে দিয়ে চলে যেয়ে তুমি তো স্বার্থপর হয়ে গেলে মা!তোমার বাবা মা যে আজ পৃথিবীতে সব চেয়ে দু:খী,অসহায়!সন্তানদের বলি তোমরা কেউ তোমাদের মা বাবাকে এমন একা করো না।সমস্যার মুখোমুখি হওয়ায় জীবন,মরন তো কোন জীবন নয়,এ কেবল পিছু হটা,অনন্ত প্রস্থান !এর পরে আর কিচ্ছু থাকে না।তোমার কোন অস্তিত্ব না..........'

লেখিকা ও গণমাধ্যম কর্মী শারমিন শামস লিখেছেন:

'ভিকারুন্নিসা নূনের মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে দেখে যারা অবাক হয়েছেন তাদের জন্য একটা ছোট্ট গল্প বলি। আব্বার সরকারি চাকরিসূত্রে আমরা রাজশাহী থাকতাম। সেখানকার বিখ্যাত সরকারি পিএন গার্লস স্কুল থেকে আমি এসএসসি পাশ করি চারটি লেটারসহ স্টার মার্কস পেয়ে। এসএসসি'র পর ১৯৯৬ সালে ঢাকায় শিফট করি। ভর্তি হই ভিকারুন্নিসা নূন কলেজে। একদিন ইংরেজি পোয়েট্রি ক্লাস চলছে। ক্লাস নিচ্ছেন অতি স্টাইলিশ মিস। পাশে বসা আমার বন্ধু কোন একটা হাসির কথা বলায় আমি ফিক করে হেসে ফেলেছিলাম। মিসের নজর পড়লো আমার দিকে। তিনি আমাকে উঠে দাঁড়াতে বললেন। টানা দশ মিনিট ধরে ভৎসনা করলেন। আমি বিব্রত, মুখের ওপর আসা চুল হাত দিয়ে সরিয়ে দিচ্ছিলাম। তিনি লক্ষ্য করলেন আমার হাতের নখে নেইল পলিশ আছে যা কিছু কিছু জায়গায় উঠে গেছে। তিনি চিৎকার করে উঠলেন, 'নামাও তোমার ডার্টি নেইলস। এ্যাই তুমি কোত্থেকে এসেছো? তোমার স্কুল কোনটা?'

আমি স্কুলের নাম বললাম। তিনি রেগে চ্যাচাতে চ্যাচাতে বলতে লাগলেন, ‌'এই জন্যই বলি মফস্বলের স্কুল থেকে না নিতে। এরা কিচ্ছু জানে না। এরা যা তা, খ্যাত' ইত্যাদি ইত্যাদি।

আমি এতক্ষণ সব অপমান সহ্য করছিলাম। এবার স্কুল নিয়ে কথা বলায় এত কষ্ট হল, আমি বেঞ্চ থেকে বের হয়ে ওনার টেবিলের কাছে গেলাম। মিস বেশ অবাক হয়ে তাকিয়ে আছেন। আমি খুব শান্ত স্বরে ওনাকে বললাম, 'ম্যাম, আমি যে ক্লাসে কথা বলেছি, এজন্য আমাকে ক্ষমা করবেন। আর নখে নেইলপলিশ যে এভাবে উঠে গেছে, সেটা খেয়াল করিনি। নেক্সট টাইম এমন আর হবে না।'

আমার এই শান্ত নম্র ধীর স্বরের কথা শুনে অবাক হয়ে মিস তাকায় থাকলেন দুই মিনিট। সম্ভবত তার বিখ্যাত ভিকিরা এভাবে কখনো ক্ষমা চায় না। হঠাৎ তিনিও খুব কোমল স্বরে আমাকে বললেন,'না না ঠিক আছে। ক্লাসে মনোযোগী থাকতে হবে, কেমন? আর নেইলগুলো মেনিকিউর করে লাইট কালারের কোন নেইলপলিশ দিয়ে রাখবে, কেমন?' আমি 'ওকে মিস' বলে নিজের জায়গায় ফিরে আসলাম।

যারা ভিকারুন্নিসার ছাত্রীটির অপমানের ঘটনায় অবাক, তাদের বলি, আজাইরা অহংকার আর দেমাগের চর্চা যেখানে খুব সাধারণ একটা ঘটনা, সেখানে একটা দুইটা এমন নরম কোমল বোকাসোকা ১৫ বছরের অরিত্রি অধিকারীরা বাপ মাসহ অপমান হবে, গলায় দড়িও দেবে, তাতে অবাক হবার কিছু দেখি না।'

কেউ কেউ বিষয়টিকে শুধুই হত্যা বা আত্মহত্যার আলোকে না দেখে দেখছেন ভিন্ন কোন দৃষ্টিকোণ থেকেও।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আহসান হাবিব লিখেছেন:

'গ্রিন ইউনিভার্সিটিতে পরীক্ষার ডিউটির সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হল এখানকার শিক্ষার্থীদের মধ্যে নকলের প্রবণতা নেই বললেই চলে। এর মধ্যেই কিছুদিন আগে পরীক্ষার সময় আমি একটা মেয়ের নকল ধরেছিলাম। আমাদের স্বাভাবিক চর্চা হল কোন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করলে তার ব্যাপারে চুপচাপ নির্ধারিত ফরমে রিপোর্ট করা যেন পরীক্ষার হলে অন্যান্য শিক্ষার্থী মনোসংযোগে ব্যাঘাত না ঘটে। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথানিয়মে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী শাস্তির ব্যবস্থা করে তা সার্কুলেট করে দেন। ব্যতিক্রম ঘটল মেয়েটির ক্ষেত্রে। ঐ মেয়েটি পরীক্ষার হলেই অনেক কান্না শুরু করল। তার কারনেই রুমের অন্যরাও জেনে গেল যে সে নকল করেছে।

ভিকারুননেসার একটা মেয়ে আত্নহত্যার পরে ফেসবুকে যেভাবে শিক্ষকের ফাসির দাবি ও ঐ স্কুলের জাত-মান-ঐতিহ্য গেল গেল রব উঠেছে। তা দেখে অনেক দিন পরে এসে আমার সে ঘটনা মনে করে গতকাল থেকে আমি কেমন যেন কিছুট আতংকিত, ভীত সন্ত্রস্তও বলা চলে। যদি সেদিন মেয়েটি বাইরে বের হয়ে আত্নহত্যা করে বসত? তাহলে নিশ্চয়ই আমার ফাঁসির দাবিতে হুজুগে বাঙ্গালী রাস্তায় নেমে পড়ত, ক্যাম্পাসের দেয়াল আর ফেসবুকের ওয়ালে ঠিল্লায় ঠিল্লায় মানবতা উপচে পড়ত, শাহবাগে হয়ত ইন্দুর বিরিয়ানীরও ব্যবস্থা হয়ে যেত।

একটা মেয়ে পরীক্ষায় মোবাইল দেখে নকল করেছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ শিষ্টাচার মেইন্টেইন করে তার অভিভাবককে স্কুলে ডেকে এনে জানিয়ে দিয়েছে তার মেয়েকে স্কুলের নিয়ম অনুযায়ী বহিস্কার করে টিসি দিয়ে দেয়া হবে। মেয়ের বাবা পৃথিবীর সকল বাবাদের মতই অনুরোধ করেছে এবারের জন্য মাফ করে দিতে। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিয়েছে নিয়মের বাইরে কিছু সম্ভব না। ব্যস! এটাইতো ঘটনা। এটা নিশ্চয়ই কারো জন্য সম্মানের না, অবশ্যই অপমানের। আর এই অবমাননা সহ্য করতে না পেরে মেয়েটি আত্নহত্যা করলে কেন কর্তৃপক্ষকে অপরাধী বানিয়ে তাদের তুলোধুনো করতে হবে? তারপরেও যেহেতু একটা দুর্ঘটনা ঘটেছে, বিষয়টির সঠিক তদন্ত দাবি করছি। শিক্ষক কি তার নিজের মোবাইল মেয়েটির টেবিলে রেখে মেয়েটির নামে অভিযোগ করেছিল? নাকি, মেয়েটির ব্যাগ থেকে মোবাইল বের করেছিল, নাকি নকল করা অবস্থায় মোবাইলটি পেয়েছিল? বাবা’র সাথে আদৌ কোন খারাপ ব্যবহার হয়েছিল কিনা???

প্রত্যেকটা মৃত্যুই দুঃখজনক। বিশেষ করে একজন নবম শ্রেণীতে পড়া কন্যা যখন আত্নহত্যার মাধ্যমে তার সকল সম্ভাবনাকে শেষ করে দেয়, বাবা-মা’য়ের সকল আশা-ভরসা, স্বপ্নকে নিভিয়ে দেয় তা আরো বেশি দুঃখজনক।

আজকে যে এই রচনামূলক স্টাটাস লিখলাম বা লিখতে হল এটা নির্লজ্জ ও আদর্শহীন সাংবাদিকতা আর প্রজন্মের অস্থিরতার কারণে। মোটামুটি অধিকাংশ গণমাধ্যমের শিরোনামগুলো ‘বাবাকে অপমান করায় ভিকারুননিসা নূন স্কুল শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা’- যমুনা টিভি। ‘পরীক্ষা দিতে না দেওয়ায় ভিকারুননিসা শিক্ষার্থীর ‘আত্মহত্যা’- বাংলা ট্রিবিউন। অপমান সইতে না পেরে ভিকারুননিসার শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা- একুশে। অথচ, সংবাদের মূল অংশ পড়েন। মেয়ের বাবার আর স্কুল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পড়লেই বিষয়টি পরিস্কার হয়ে যাবে।

আসলে আমরা এমন একটি প্রজন্ম যাদের কোন কিছুর গভীরে যেতে ইচ্ছা করে না। আগে অনেকে চিলে কান নিয়ে গেছে শুনলে চিলের পেছনে দৌড়ানো শুরু করত। আর এখন আগে ফেসবুকে স্টাটাস তেয়, তারপরে সময় পেলে চিলের পেছনে দৌড়ায়। বেকারত্ব, দূর্ণীতি, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, কন্ঠরোধ, বাক-স্বাধীনতা হরন, শিক্ষা-স্বাস্থ্য-পরিবহন-দূষন-অগণতান্ত্রিক আচরণ-সন্ত্রাস-লুন্ঠন নিয়ে কোন কথা নাই। পাইছে... ‘শিক্ষকের ফাঁসি চাই’।

গোড়ায় গন্ডগোল। গোড়াতে হাত দেন, বাকিগুলো নিয়ে আপনার টেনশন করতে হবে না। স্বাভাবিকভাবেই ঠিক হয়ে যাবে।

মেয়ের বাবার বক্তব্য- ‘অরিত্রির বার্ষিক পরীক্ষা চলছিল। রোববার স্কুলে পরীক্ষার সময় তার মেয়ে মোবাইল নিয়ে গিয়েছিল। মোবাইলে নকল আছে এমন অভিযোগে ওই স্কুলের শিক্ষক সোমবার তাদের স্কুলে আসতে বলেন। সোমবার পরীক্ষার সময় অরিত্রির সঙ্গে তারা স্কুলে যান। পরে তাদের ভাইস প্রিন্সিপালের কাছে নিয়ে গেলে তারা মেয়ের নকল করার ব্যাপারে ভাইস প্রিন্সিপালের কাছে ক্ষমা চান। কিন্তু ভাইস প্রিন্সিপাল কিছু করার নেই বলে তাদের প্রিন্সিপালের রুমে যেতে বলেন। সেখানে গিয়েও তারা ক্ষমা চান। কিন্তু প্রিন্সিপালও তাতে সদয় হননি। এসময় স্কুল পরিচালনা পর্ষদের একজন সদস্যও ছিল। পরে তার মেয়ে প্রিন্সিপালের পায়ে ধরে ক্ষমা চাইলেও তাদের বেরিয়ে যেতে বলেন এবং পরের দিন টিসি নিয়ে আসতে বলেন। এ সময় আমি মেয়ের সামনেই কেঁদে ফেলি। অরিত্রি হয়তো আমার ওই কান্না-অপমান মেনে নিতে পারেনি।’

শিক্ষকের বক্তব্য- ‘পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন ব্যবহার করা নিষেধ। ওই শিক্ষার্থী মোবাইলে পুরো বইয়ের ছবি তুলে নিয়ে এসেছে। এরপর পরীক্ষার হলে দেখে দেখে লেখা শুরু করেছিল। আমাদের কর্তব্যরত শিক্ষক তা দেখে ধরেছেন। কেউ পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করলে তাকে বহিষ্কার করা সরকারি নিয়ম। শিক্ষক তাই করেছেন।’

সচেতন মহলের আলোচনায় আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভাবে উঠে আসতে দেখা যাচ্ছে। তা হল, সাম্প্রতিক সময়ে অরিত্রির মতো অনেক কিশোর-তরুণ শিক্ষার্থীদেরকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে দেখা যাচ্ছে। আত্মহত্যা প্রবণতা বৃদ্ধির কারণগুলো কী? লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, চাকরী না পেয়ে, বেকারত্ব বা অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে যেমন আত্মহত্যা করতে দেখা যাচ্ছে, তেমনই কেউ কেউ আত্মহত্যা করছেন প্রেম সংক্রান্ত জটিলতার কারণেও। প্রশ্ন হচ্ছে এই প্রবণতা কি বাড়তেই থাকবে? এর থেকে উত্তরণের উপায় কী?

আমাদের স্কুল-কলেজগুলোতে এখন শিক্ষার্থীদের মানসিক শক্তি বৃদ্ধি ও তাদেরকে যুক্তিসম্পন্ন দৃঢ় মানসিকতার মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থা করার সময় হয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

/হাসনাত

অরিত্রি,হাসনাত কাদীর
apps

সর্বাধিক পঠিত