• শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ১ পৌষ ১৪২৫
  • ||

জলজোছনায় উদ্ভাসিত অদম্য পীর হাবিব

প্রকাশ:  ১২ নভেম্বর ২০১৮, ১১:২৫ | আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০১৮, ১১:৫৬
বাউল রিপন
প্রিন্ট

বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক, সিনিয়র সাংবাদিক, বিশিষ্ট কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক পীর হাবিবুর রহমানের ৫৫তম জন্মদিন আজ। ১৯৬৩ সালের ১২ নভেম্বর মঙ্গলবার বেলা ১২টায় সুনামগঞ্জ শহরের হাসননগরের এক সভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বাংলাদেশের রাজনীতির ভিতর-বাহির দাপিয়ে বেড়ানো অকুতোভয় কলম সৈনিক ২০০৭ সাল থেকে নিয়মিত কলাম লিখে চলেছেন। তিনি ১৯৮৪ সাল থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন অবস্থায় সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি নেন।

রাজশাহী প্রেসক্লাবের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা পীর হাবিবুর রহমান ছাত্রজীবনে ছাত্ররাজনীতি ও গল্প লেখালেখি করতেন। সাংবাদিকতায় এসে রাজনৈতিক দলীয় বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসেন। ১৯৯১ সাল থেকে সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন। ’৯২ সালে বাংলাবাজার পত্রিকার নির্মাণ পর্ব থেকে মূলত তার পেশাদারিত্বের সূচনা ঘটে। তারপর দৈনিক যুগান্তরের নির্মাণ পর্ব থেকে ছিলেন দীর্ঘদিন। বিশেষ সংবাদদাতা হিসেবে থেকেছেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। আমাদের সময়, আমাদের অর্থনীতি হয়ে দীর্ঘদিন থেকে বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।ভারতের লোকসভা নির্বাচন কাভার করা এই সাংবাদিক ২০০০ সালে জাতিসংঘের সহস্রাব্দের অধিবেশন, জর্ডানের আইপিও সম্মেলনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইভেন্ট কাভার করেন।

মাঝখানে তিনি চ্যালেঞ্জ হিসেবে শুরু করেন অনলাইন সাংবাদিকতা। পূর্বপশ্চিমবিডিডটকম নামে নিউজপোর্টাল চালু করেন তিনি। চাঞ্চল্যকর সংবাদ, ইতিহাসের অমিমাংসিত সত্যের সন্ধানে আধুনিক পেশাদার সাংবাদিক, নতুন-পুরনো দক্ষ সব কর্মীদের নিয়ে পূর্বপশ্চিমবিডিডটকম এগিয়ে চলেছে সামনের দিকে। পরবর্তীতে তিনি পুনরায় বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব নেন।

জন্মেছিলেন সে এক উত্তাল সময়ে! উজানে সাঁতারেই কেটেছে তার জীবন লেখাপড়া, ছাত্ররাজনীতি, পেশাগত জীবন, ঘরসংসার, টানাপোড়েন, উত্থান পতন, সাফল্য ব্যর্থতা, আনন্দ বেদনা মিলে কালের আয়নায় তার জীবন দেদীপ্যমান। তার পরিবার তাকে দিয়েছে মানবিক মূল্যবোধ। পরিবার এবং সমাজ তাকে শিখিয়েছে অসাম্প্রদায়িক চেতনা। পরিবার থেকে গণতান্ত্রিক চেতনার পাঠ নিয়েছেন তিনি, জেনেছিলেন শৃঙ্খল ভেঙ্গেই স্বাধীনতাভোগ করতে হয়! মুক্তিযুদ্ধের চেয়ে গৌরবের কিছু নেই, মানুষকে ভালোবাসার চেয়ে বড় আনন্দ আর কিছু নেই সেটাও পরিবার থেকেই শিখেছিলেন তিনি। জন্মস্থান জল জোছনার শহর সুনামগঞ্জ শহরের বুকচিরে বহমান সুরমা, মেঘালয়ের কোলে শুয়ে থাকা শহরের চারদিকে অথৈ জলরাশির হাওর, আসমান ভেঙ্গে নেমে আসা জোছনা, চাঁদনি রাত, তারাভরা আকাশ, শুকতারা, ধ্রুবতারা প্রেমিক হৃদয়ে আবেগ নির্ভর এক রোমান্টিক মানুষ হিসেবে তাকে নির্মান করেছে! নিজের লেখনীতে তিনি বারবার স্বীকার করেছেন প্রকৃতির কাছে তার আজন্ম ঋণের কথা! বন বাঁদারে ছুটে বেড়ানো দুরন্ত কৈশোরে শাসন, অনুশাসন তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। তার বেহিসেবি জীবন মস্তিষ্ক নির্ভর ছিলোনা কখনো। হিসেবের অংকে ছিলেন ভীষণ কাঁচা! হৃদয় নির্ভর জীবনে মানুষের ভালোবাসাই তার মুল পূঁজি!

দেশ ও মানুষকে ভালোবেসে গেছেন সবসময়। ভালোবেসেছেন ফুল পাখি নদী হাওর বৃক্ষ, জোছনারা,ও বর্ষণমুখর বৃষ্টির সন্ধা। মর্যাদাবান মানুষের প্রতি তার অবিরাম শ্রদ্ধা ছিল সবসময়। তার মতে, ভালোবাসার চেয়ে বড় কোন শক্তি নেই। কোন শাসকের কাছ থেকে তিনি কোন সুবিধা নেননি। সরকারি প্লটও নয়। দলবাজিতেও ছিলেন না কখনো। যদিও তার আত্মাজুড়ে বাঙালী জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার মহান আদর্শ।আড্ডাবাজ এই মানুষটি দারুন বন্ধুবৎসল।

তার লেখা অব দ্যা রেকর্ড, এক্সক্লুসিভ, টক অব দ্যা প্রেস, ভিউজ আনকাট ও মন্দিরা গ্রন্থগুলো একুশের বই মেলায় পাঠক জনপ্রিয়তায় শীর্ষে ছিল। গত বছরের বইমেলায় তার লেখা জেনারেলের কালোসুন্দরী ছিল অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।

তাঁর রাজনৈতিক কলাম সব শ্রেণির মানুষের কাছে জনপ্রিয়। দৈনিক আমাদের সময়ের পাঠক প্রিয়তার নেপথ্যে রয়েছে তাঁর আলোচিত বেশ কিছু কলাম। যুগান্তর ও বাংলাবাজার পত্রিকার নির্মাণ পর্ব থেকেই সাড়া জাগানো সব রিপোর্ট তাকে দিয়েছিলো আপাদমস্তক রিপোর্টারের জনপ্রিয়তা। কারো রক্তচক্ষুকে তিনি আমলে নেননি কখনো। সাহসী সাংবাদিক হিসেবে তার গ্রহণযোগ্যতা আকাশচুম্বী। কোন রাজনৈতিক দলের প্রতি নয়, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক উন্নত বাংলাদেশের প্রশ্নে তিনি আপোসহীন। দেশ ও মানুষের কাছে দায়বদ্ধ থেকে সব রকম খবর, তারুণ্যের খবর, খবরের পিছনের খবর, চিন্তাশীল মানুষের ব্লগ, সাহিত্য রাজনীতি, খেলাধুলা এবং বৈচিত্রময় ফিচার নিয়ে এদেশে তিনি চালু করেছেন সাংবাদিকতার নতুন ধারা।

আজ তার শুভ জন্মদিন আমাদের নিরন্তর শুভকামনা রইলো। তার সুস্বাস্থ্য, সুখী, সমৃদ্ধ এবং দীর্ঘজীবন কামনা করি।

/পি.এস

পীর হাবিব
apps