• সোমবার, ২৩ জুলাই ২০১৮, ৮ শ্রাবণ ১৪২৫
  • ||

অরোরার কলমে নিয়াজির আত্মসমর্পণ

প্রকাশ:  ০২ জানুয়ারি ২০১৮, ০১:৪৪ | আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০১৮, ০১:৫৮
বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম
প্রিন্ট
সুস্বাগত শুভ ইংরেজি নববর্ষ। গত বছরের সব মলিনতা-দৈন্যতা দূরীভূত করে সম্ভাবনাময় ২০১৮ অর্থবহ হোক— নতুন বছরের দ্বিতীয় দিনে এই কামনাই করি। পঞ্জিকার পাতায় পুরনো দিন চলে যায়, নতুন দিন আসে। তবু কোনো কোনো বছর বা দিন মানুষের হৃদয়ের অনেক জায়গা জুড়ে থাকে। দুঃখ-বেদনা-উৎকণ্ঠা ও নির্মমতার বছর ছিল ২০১৭। বুকভরা আশা নিয়ে অপেক্ষায় থাকব— ২০১৮ হবে শান্তি, মুক্তি ও স্বস্তির বছর। ২০১৭-এর শেষ দিনে ৩১ ডিসেম্বর বিজয় দিবস এবং কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে টাঙ্গাইল শহীদ মিনারের জনসভায় সেই কামনাই করেছি। বিপুল লোকসমাগম আমার হৃদয়কে আলোড়িত করেছে। জনগণের সেবায় সক্রিয় হতে আরও উদ্বুদ্ধ করেছে। হাজার হাজার মানুষের উদ্দীপনা ও ভালোবাসায় পুরনো বছরকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে শুভ কামনা জানিয়েছি। শুভ, শুভ, শুভ হোক ২০১৮ সাল। শুভ হোক। ঢাকা দখল নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। চিঠি তো লেখা হলো, কিন্তু তা হানাদার সেনাপতির হাতে পৌঁছানো যায় কী করে। শেষে ঠিক হলো দুটি জিপ হানাদার নিয়াজির গুহায় যাবে। ভারতীয় একজন মেজর ও কাদেরিয়া বাহিনীর একজন জুনিয়র কমান্ডার বাঘের গুহার দিকে ছুটল। জিপের জন্য দুটি সাদা পতাকার দরকার। কিন্তু আমাদের হাতে সাদা পতাকা নেই। কী উপায়! মুক্তিবাহিনীর দুজন সদস্যের ফ্যাকাশে সাদা শার্ট বেঁধে দেওয়া হলো ফ্ল্যাগস্ট্যান্ডে। যুদ্ধক্ষেত্রে সাদা কোনো পছন্দের রং নয়, দূর থেকে দেখা যায় তাই সাদা রং নিষিদ্ধ। তবু মুক্তিবাহিনীর দু-এক জনের গায়ে আধো সাদা ময়লা জামা, ময়লা গেঞ্জি পাওয়া যেত। সে রকমই পাওয়া গিয়েছিল। দুটি জিপে তিনজন ভারতীয়, একজন কাদেরিয়া বাহিনীর বীরযোদ্ধা শত্রুশিবিরের দিকে ধেয়ে চলেছে আত্মসমর্পণের প্রস্তাব নিয়ে। তাদের মনে নানা শঙ্কা শত্রুবাহিনী কী করবে, আমরা ভাবছি ঢাকা কী হবে। শত শত বছরের পুরনো ঢাকা শহর কয়েক ঘণ্টা পর ধ্বংস হতে শুরু হবে। নানা কিছু ভাবছি আর সামনে এগিয়ে চলেছি। ব্রিগেডিয়ার সানসিং, ব্রিগেডিয়ার ক্লের, মেজর জেনারেল নাগরার সঙ্গে দৃঢ় পায়ে আমিনবাজারের দিকে এগোচ্ছিলাম। আমিনবাজার আর হেমায়েতপুরের মাঝামাঝি একেবারে ফাঁকা জায়গায় চকের মধ্যে কয়েকজন লোক ছোটাছুটি করছে। সেদিকে ভালো করে তাকাতেই দেখি তারা সাধারণ লোক নয়। ক্লেরের কাছে শক্তিশালী দুরবিন ছিল। দুরবিনে দেখে আমাকে বললেন, ‘টাইগার! মাঠের মধ্যে যে পাঁচ-সাত জন ছোটাছুটি করছে তারা সাধারণ লোক নয়, তাদের হাতে অস্ত্র। ভালো করে দেখুন তো ওরা কারা। কোনো রাজাকার নয় তো অথবা পাকিস্তানি সৈন্য। কারণ, সানসিং সারা রাত লড়াই করেছেন। আপনি দেখুন, ভালো করে দেখুন।’ দুরবিন দিয়ে দেখলাম তারা আমাদের থেকে হাজার-বারো শ গজ দূরে ছোটাছুটি করে মূল রাস্তার দিকে আসছে। খুব ভালো করে অনেকক্ষণ দেখার পর মনে হলো, এরা আমাদেরই লোক। দু-এক মিনিট পর সবুর খান বীরবিক্রম আর মোস্তফা বীরপ্রতীকের মতো মনে হলো। আমি খুব ভালো করে দেখছি আর এগোচ্ছি। চার-পাঁচ মিনিট পর সবই স্পষ্ট হলো। সত্যিই সবুর খান, মোস্তফাসহ আরও চার-পাঁচ জন। আমি অবাক হলাম ওরা কেন এখানে। তিন-চার শ গজ দূরে থাকতে বার বার হাত তুলছিল ইশারা করছিল যাতে আমরা গুলি না ছুড়ি। আমরা সেদিকে দেখছিলাম আর নিজেদের লোকের ওপর কে গুলি ছোড়ে! আমাদের সামনে এসে হাঁপাতে হাঁপাতে সবুর বলল, আমরা মিরপুরের কাছাকাছি পৌঁছে গেছি। তাই আমাদের ওপর যাতে গুলি ছোড়া না হয় সেটা বলতে এসেছি। এই কদিনে আবদুস সবুর খান বীরবিক্রম মিত্রবাহিনীর কাছে খুবই প্রিয় এবং পরিচিত হয়ে উঠেছিল। ব্রিগেডিয়ার সানসিং জিজ্ঞাসা করলেন, ‘বেটে সবুর, তুম ইহা?’ মানে ‘তুমি এখানে? সকালে সাভারে ছিলে, এখন কীভাবে মিরপুর পর্যন্ত পৌঁছে গেলে?’ সবুর খান একটা গুয়ার্মুরি হাসি দিয়ে বলল, ‘হা হা, ওই জন্যই তো হামলোগ মুক্তিবাহিনী হইতা হায়।’ সবুরের কথা শুনে সেনাপতিরা হেসে ফেললেন। তখন জানা গেল সবুর খান বর্তমান বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের কাছে পৌঁছে গেছে। তার সঙ্গে ছয়-সাতটা কোম্পানিতে আড়াই-তিন হাজার মুক্তিযোদ্ধা। যেভাবে ছুটে এসেছিল খবর দিয়ে সেভাবেই ছুটে গেল। আমাদের সামনে রাস্তা এবং দুই পাশ দিয়ে এক ব্যাটালিয়ন নিয়মিত ভারতীয় সৈন্য। ছত্রীবাহিনীসহ পেছনে আরও কয়েক দলে আমরা খুব সন্তর্পণে এগিয়ে চলেছি। মিরপুর স্বাধীনতা সেতু থেকে দু-তিন শ গজ দূরে থাকতে হঠাৎ দিগ্বিদিক কাঁপিয়ে দু-তিনটা মেশিনগান গর্জে উঠল। আমরা অবাক হলাম। কোথাও কোনো আওয়াজ নেই, হঠাৎ এ কী হলো। গোলাগুলি আমাদের, নাকি শত্রুপক্ষের। আমাদের বেশি সময় দুশ্চিন্তায় থাকতে হলো না। চার-পাঁচ মিনিটের মধ্যে একজন ক্যাপ্টেন এসে বলল, শত্রুর কাছে পাঠানো দূতেরা ফিরে আসছিল। তীব্র গতিতে আসায় এবং তাদের গাড়িতে সাদা পতাকা না থাকায় শত্রু মনে করে আমাদের দিক থেকে গুলি চলেছে। একটা জিপ রাস্তার নিচে পড়ে গেছে, আরেকটা রাস্তার ওপর পড়ে আছে। আমরা ছুটে গেলাম। গাড়ি রক্তে ভেসে গেছে। যে মেজরকে পাঠিয়েছিলাম, যাওয়ার সময় সে চালকের পাশে ছিল। কিন্তু গিয়ে দেখি সে স্টিয়ারিংয়ে মাথা নুইয়ে পা ধরে আছে। তার সঙ্গী পেছনে পড়ে আছে। রক্তে গাড়িটা ভেসে গেছে। ওই অবস্থাতেই মেজর স্বাধীনতার অমর বাণী শোনাল, ‘পাকিস্তানি হানাদাররা স্যারেন্ডার করবে। তার প্রাথমিক ব্যবস্থা হিসেবে এক্ষুনি তাদের লোক আসছে।’ আমরা আহত-নিহতদের কোথায় পাঠানো যায় এ নিয়ে ভাবছিলাম। পেছন থেকে হেলিকপ্টার আনা হলো। তাদের মির্জাপুর হাসপাতালে পাঠানো হলো। হেলিকপ্টার আকাশে উড়তেই জেনারেল জামশেদের নেতৃত্বে মিরপুর সেতু পেরিয়ে আমিনবাজারে এলো। আমরা সারিবদ্ধভাবে চারজন দাঁড়িয়ে ছিলাম। সে এসেই আমাদের স্যালুট করল। তারপর এক এক করে রিভলবার, বেল্ট, টুপি ও গাড়ির জেনারেল ফ্ল্যাগ আমাদের হাতে তুলে দিল। আমরা গিয়ে উঠলাম জামশেদের মার্সিডিজ বেঞ্জে। আমাদের কাছে যৌথবাহিনীর কোনো জেনারেল ফ্ল্যাগ ছিল না, বাংলাদেশের জেনারেল ফ্ল্যাগও ছিল না। তাই নাগরার জেনারেল ফ্ল্যাগ মেজর জেনারেল জামশেদের গাড়িতে লাগিয়ে আমরা এগোলাম শত্রুকবলিত ঢাকার পথে। প্রথমে মিরপুর সেতু। সেখানে হানাদাররা ছিল, টেলিফোন ছিল। ফোন তুলে দেখা গেল কথা বলছে না, লাইন কাটা। আমরা আরও এগিয়ে চললাম। একসময় মোহাম্মদপুর রেসিডেন্সিয়াল স্কুলে এলাম। কারণ সেটা ছিল সিভিল আর্মস ফোর্সের জেনারেল জামশেদের হেডকোয়ার্টার। সেখানেও ফোন পাওয়া গেল না, মৃত। নাগরা আমাদের আলাদা এক রুমে নিয়ে আমার কাঁধে হাত দিয়ে বললেন, ‘টাইগার! কিছুই বুঝতে পারছি না। আমাদের নিয়ে ভাবছি না। যত ভাবনা তোমাকে নিয়ে। শত্রুরা যদি বিশ্বাসঘাতকতা করে আমাদের মেরে ফেলে তাহলে তো ঢাকা দখল অনেকটা পিছিয়ে যাবে।’ বললাম, ‘না, আমি আপনাদের সঙ্গে একমত হতে পারছি না। বিশ্বাসঘাতকতা করে আমাদের মেরে ফেললে ঢাকা দখল বরং এগিয়ে আসবে। দেশের মানুষ মুক্তি পাবে। তাই এতটা পথ যখন এসেছি চলুন বাঘের গুহায়। দেখা যাক কী হয়। আমরা এগিয়ে চললাম ক্যান্টনমেন্টের ১৪ ডিভিশন হেডকোয়ার্টারে। গিয়ে দেখি বাঘ খাঁচায় নেই। অফিসে ঢুকতেই এক ক্যাপ্টেন এসে বলল, ‘জেনারেল আসছেন।’ আমরা বসতে যাব এ সময় নিয়াজি এলেন। সটান স্যালুট করলেন আমাদের চারজনকে। সামনাসামনি বসলে নাগরা পরিচয় করিয়ে দিলেন, ব্রি. সানসিং, ব্রি. ক্লের ও আমাকে। আমার পরিচয় দিতে গিয়ে বললেন, ‘এ তোমার পরম বন্ধু যার জন্য মনে হয় এক রাতও শান্তিতে ঘুমাতে পারোনি। ইনি সেই বিখ্যাত টাইগার সিদ্দিকী।’ টাইগার সিদ্দিকী বলতেই তিনি আবার স্যালুট করলেন। হাত বাড়িয়ে দিলেন হ্যান্ডশেক করার জন্য। আমার শরীর তখন কাঁপছিল, ঘেমে গিয়েছিল সারা শরীর, ভয়ে নয় ঘৃণায়। এই সেই জালিম; যার জন্য বাংলার ৩০ লাখ মানুষ নিহত হয়েছে। এক দিন আগে ধরতে পারলেও হয়তো তাকে চরম শাস্তি দিতাম। আমাকে পেলে তারা টুকরো টুকরো করে ফেলত। আর আজ আমার সঙ্গে হ্যান্ডশেকের জন্য হাত বাড়িয়ে আছে। প্রায় মিনিট পেরিয়ে গিয়েছিল। নাগরা বলছিলেন, ‘এ কী টাইগার! পরাজিতের সঙ্গে হাত না মেলানো বীরত্বের অবমাননা।’ বলেছিলাম, থাক ওসব বীরত্ব। যে আমার মা-বোনের ইজ্জত নষ্ট করেছে, লাখ লাখ মানুষ হত্যা করেছে, তার সঙ্গে হাত মিলিয়ে আমি নিজেকে কলঙ্কিত করতে পারি না। আল্লাহ আমায় ক্ষমা করবেন না। মাত্র কয়েক মিনিট কথা হয়েছিল। আত্মসমর্পণের দলিল স্বাক্ষর হবে কোথায়? নিয়াজি ক্যান্টনমেন্টের বাইরে যেতে চান না। বাইরে গেলে সাধারণ মানুষ তাকে ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলবে। কিন্তু আমাদের কথা তাকে ক্যান্টনমেন্টের বাইরে যেতেই হবে। যেখান থেকে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণা দিয়েছেন সেই পবিত্র সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তাকে আত্মসমর্পণ করতে হবে। নাগরা, সানসিং, ক্লের ক্যান্টনমেন্টের অফিসার্স মেসে গেলেন। আমি গেলাম মিরপুরের দিকে মূল দল সঙ্গে নিতে। যশোর থেকে হেলিকপ্টারে জেনারেল জ্যাকব এলেন আত্মসমর্পণের দলিল নিয়ে। কলকাতায় জন্ম নেওয়া ইহুদি এই জেনারেল জ্যাকবই মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নানা কথা বলেছেন। তার কথাবার্তায় মনে হয় সবই তিনি যেন করেছেন। আমরা পায়ে হেঁটে যুদ্ধ করতে করতে ঢাকা এসে হানাদারকে বন্দী করেও যেন কিছু করিনি, সব করেছেন জ্যাকব। তিনি জেনারেল অরোরার সমালোচনা করেছেন, ভুল ধরেছেন। ভারতীয় সেনাপ্রধান মানেকশর কাজেকর্মে ভুল ধরেছেন। কিন্তু তৎকালীন ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার গাড়ির ব্যবস্থা করতে পারেননি। এতিমের মতো জেনারেল নাগরার কাছে গাড়ি চেয়েছিলেন। বিকাল ৪টা ৫-৭ মিনিট হবে, ২৫-৩০টা হেলিকপ্টারে জেনারেল অরোরা এলেন তেজগাঁও বিমানবন্দরে। আমরা তাকে স্বাগত জানালাম। সঙ্গে নিয়াজি। জেনারেল অরোরার সঙ্গে তার স্ত্রী এসেছিলেন। আমাকে দেখে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে উঠেছিলেন, ‘টাইগার! তোমার জন্য আমি এক সুন্দরী কন্যা দেখে যাব।’ বড় আনন্দময়ী পাঞ্জাবি মহিলা ছিলেন জেনারেল অরোরার স্ত্রী। বিমানবন্দর থেকে আমরা রওনা হলাম সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে। জেনারেল অরোরা ও নিয়াজি একই গাড়িতে ছিলেন। তার পেছনের গাড়িতেই আমি। তখন আমার মন ছিল বিক্ষুব্ধ। সকালে আমিনবাজারে জামশেদের গাড়িতে ওঠার সময় নাগরার গাড়ির ভারতীয় জেনারেল ফ্ল্যাগ যখন জামশেদের গাড়িতে লাগানো হচ্ছিল তখন তেমন প্রতিক্রিয়া হয়নি। কিন্তু তেজগাঁও বিমানবন্দরে নিয়াজির গাড়িতে যখন ভারতীয় জেনারেল ফ্ল্যাগ লাগানো হলো তখন ভীষণ মন খারাপ হয়েছিল, এ কী ব্যাপার! তবে কী আমরা শুধু পতাকা বদল করলাম? পাকিস্তানের জায়গায় ভারতীয় জেনারেল ফ্ল্যাগ! যৌথবাহিনী হলো, যৌথবাহিনীর জন্য কেন আলাদা জেনারেল ফ্ল্যাগ হলো না? বার বার মনে প্রশ্ন জাগছিল। আর নিয়াজির গাড়ির পেছনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলাম। কোথা থেকে হাজার হাজার লাখ লাখ মানুষ একত্র হয়েছিল বলতে পারব না। সে কী অশ্রাব্য ভাষায় নিয়াজিকে গালাগাল। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যখন আমাদের গাড়ি এসে থামে তখন গাড়ি থেকে নামার অবস্থা ছিল না। অনেক চেষ্টা করে অরোরা ও নিয়াজিকে নামানো হয়। ছোট্ট একটা তিন ফুট টেবিলের পাশে হাতল ছাড়া চেয়ারে বসে বিজয়ী ও পরাজিত সেনাপতিরা স্বাক্ষর করেন। স্বাক্ষর করতে গিয়ে দেখা গেল নিয়াজির কলমের কালি শুকিয়ে গেছে। অরোরার কলম দিয়ে পরে নিয়াজি আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন। কলকাতা থেকে অরোরার সঙ্গে এসেছিলেন এ কে খন্দকার, ডেমরার দিক থেকে মেজর সফিউল্লাহ ও হায়দার। আর কয়েক হাজার কাদেরিয়া বাহিনী নিয়ে বাহুবলে সেদিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একটি নতুন দেশের ধাত্রী হিসেবে হাজির ছিলাম। লেখক : রাজনীতিক।