• রবিবার, ২২ জুলাই ২০১৮, ৭ শ্রাবণ ১৪২৫
  • ||

পহেলা বৈশাখ যেন হয় বাঙালীর সার্বজনীন উৎসব

প্রকাশ:  ০৪ এপ্রিল ২০১৮, ১৮:২৮ | আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০১৮, ১৮:৩৪
তানভীর আলাদিন
প্রিন্ট

বাঙালীর সার্বজনীন প্রধান উৎসব বলতে ‘পহেলা বৈশাখ’। যে উৎসবে আমরা মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানরা সবাই মিলে-মিশে একাকার হয়ে যাই, দৃঢ় হয়ে উঠি জাতিয় ঐক্যের হাজার বছরের এক পরম দৃঢ় বন্ধনে।

এক সময় গ্রামের নদীর পাড়ে অথবা কোনো ছায়া সুনিবিড় স্থানে এই দিনকে ঘিরে বসতো ছোট-খাটো মেলা। মুড়ি-মুড়কি, মিঠাই-মন্ডা, মৌসুমী ফল-মূল, বাঁশ-বেত, মাটির থালা-বাটি, বাসন-কোসন, কাঠের আসবাব ও নানান ধরণের খেলনাসহ আরো কতো কি পসরায় সেজে উঠতো পহেলা বৈশাখের গ্রাম্য মেলাগুলো, জাত-ধর্ম নির্বিশেষে গাঁয়ের আবাল-বৃদ্ধ-বণিতারা দল বেধে সেখানে যেতো।

কালের বিবর্তনে আর বিশ্বায়নের নাগরিক হাওয়ায় বৈশাখী মেলার প্রাচীন আদলের আমূল পরিবর্তিত চেহারা হলেও, উৎসব প্রিয় এই জাতি আধূনিক ও বর্ণিলভাবে এই উৎসবকে উদযাপনের মধ্যদিয়ে নিজেদের স্বকীয় পরিচয় পৌঁছে দিয়েছে বিশ্ব দরবাবে...। তাইতো পহেলা বৈশাখে আমাদের মঙ্গল শোভাযাত্রা এখন (বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আবেদনক্রমে ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর বাংলাদেশের ‘‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’’ জাতিসংঘ সংস্থা ইউনেস্কোর অধরা বা ইনট্যানজিবল সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান লাভ করে।) আন্তর্জতিক স্বীকৃত উৎসব।

পহেলা বৈশাখ উদযাপন করতে গিয়ে বাঙালীকে কৃপন হয়ে থাকা মানায় না, এখন পারেওনা। এদিনের উচ্ছ্বাস প্রকাশে তাই অনেকটা খরুচেও হতে হয়। মেলায় অংশগ্রহণ আর এটা-সেটা কেনার খরচের পাশাপাশি পরিবারের সবাই নতুন পোশাকে সাজু-গুজু করেন আর এদিনে একটু উন্নত খাবারই খেয়ে থাকেন। এই খরচগুলো করতে গিয়ে সংসারের অন্যান্য বাজেটে বিঘ্ন ঘটে। হিমসিম খেতে হয় নিন্ম মধ্যবিত্ত আর মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে।

এই বিষয়টি হৃদয় দিয়ে অনুভব করেছিলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি সরকারি, বেসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও ব্যক্তিমালিকাধীন প্রতিষ্ঠানে বৈখাশী ভাতা প্রদানের জন্য ইতিপূর্বে নির্দেশনা দিয়েছিলেন।

তারই সূত্র ধরে দেশের বিভিন্ন সংবাদপত্র, বার্তা সংস্থা, টেলিভিশন ও অনলাইন সংবাদপত্র নিজ-নিজ প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের ১৪২৩ ও ১৪২৪ বঙ্গাব্দে বৈশাখী ভাতা প্রদান করে।

কিন্ত বেশ কিছু গণ্যমাধ্যম প্রতিষ্ঠাণ সরকারের নানান সুবিধা গ্রহণ করলেও গণমাধ্যমকর্মীদের এই অধিকার থেকে বঞ্চিত করে আসছে। আর তাই গণমাধ্যম সম্পর্কীত নেতৃবৃন্দ প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের গণমাধ্যমকর্মীদের বৈশাখী ভাতা প্রদানের জন্য অনুরোধ করে আসছে। ১৪২৫ বাংলা নববর্ষকে সামনে রেখে সম্প্রতি ডিইউজে সভাপতি আবু জাফর সূর্য ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে মূল বেতনের ২০ শতাংশ বৈশাখী ভাতা হিসেবে প্রদানের এ অনুরোধ জানান।

আমি ব্যাক্তিগতভাবে মনে করি, নেতৃবৃন্দ অনুরোধ করেছেন ভালো কথা, সেই সঙ্গে ফলোআপের মাধ্যমে চিহ্নিত করুন, কারা সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার পরও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অমান্য করে গণমাধ্যমকর্মীদের বৈশাখী ভাতা প্রদান করছেন না, সেই সব গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

আসুন, পহেলা বৈশাখের উৎসব আনন্দের মধ্যদিয়েই যেনো সবাই উদযাপন করতে পারি।

সবার জন্য ভালোবাসা ও বাংলা নববর্ষের অগ্রিম শুভেচ্ছা।

লেখক : তানভীর আলাদিন, প্রেসিডেন্ট, ইয়ুথ জার্নালিস্টস্ ফোরাম বাংলাদেশ– ওয়াইজেএফবি।