• বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮, ২ কার্তিক ১৪২৫
  • ||

বিশ্ববিদ্যালয় মানেই নতুন জ্ঞান সৃষ্টি

প্রকাশ:  ১২ অক্টোবর ২০১৮, ১৮:০৪
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী
প্রিন্ট

মানুষের জীবনের মৌলিক অধিকারের অন্যতম একটি বিষয় হলো শিক্ষা। শিক্ষা মানুষকে কেবল শিক্ষিতই করে না, তাকে গৌরবান্বিতও করে। গৌরবের বিষয়টি ব্যক্তির নতুন সৃষ্টির সঙ্গে সম্পৃক্ত। সেক্ষেত্রে শিক্ষা একটি বিন্দু ও বৃত্তের মধ্যে আবদ্ধ না থেকে ক্রমাগত পরিবর্তনশীলতার প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকে। আর এই পরিবর্তনশীলতা নির্ভর করে নতুন নতুন জ্ঞান উদ্ভাবনের মাধ্যমে। ফলে নতুন নতুন জ্ঞানের মাধ্যমে শিক্ষার পরিবর্তনের ধারা অব্যাহত থাকে। এই পরিবর্তনের ধারা কেবল সম্ভব হয় গবেষণালব্ধ অর্জিত জ্ঞান থেকে। মৌলিক ও ফলিত এই দুই ধরনের গবেষণার মাধ্যমে শিক্ষা সমাদৃত হয়। তবে ফলিত গবেষণার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের গবেষকরা নিজেদের নিয়োজিত রাখলেও মৌলিক গবেষণার বিষয়টি প্রায় উপেক্ষিত বললেই চলে। আবার ফলিত গবেষণার ক্ষেত্রে গুণগতমানের বিষয়টি সেভাবে ভাবা হয় না। আমাদের দেশে শিক্ষা ব্যবস্থার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকরা কেবল তাদের পদোন্নতির জন্য যতটুকু গবেষণা করা দরকার ততটুকু গবেষণায় করে থাকেন। ফলে একজন শিক্ষক অধ্যাপক হওয়ার পর গবেষণা ক্ষেত্রে তার যে দায়বদ্ধতা রয়েছে সেটি একটি ঐচ্ছিক বিষয়ে পরিণত হয়। এতে করে শিক্ষা সীমাবদ্ধ গন্ডির মধ্যে আবদ্ধ হয়ে যায়। এরই ধারাবাহিকতায় একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের কাছে শিক্ষা দেয়াটা একটি গতানুগতিক পেশায় পরিণত হয়। তাকে ও তার শিক্ষার্থীকে যে গবেষণার মাধ্যমে সমৃদ্ধ করা দরকার, সে বিষয়টি কোনভাবেই প্রতিফলিত হয় না।

ফলে মানদণ্ডের বিচারে একজন প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের মধ্যে কোন পার্থক্য থাকে না। কিন্তু উন্নত বিশ্বে বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের। সেখানে একজন শিক্ষকের অধ্যাপক হওয়ার পর শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে তার অবদানের বিষয়টি বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়ে। আবার এক্ষেত্রে একজন অধ্যাপক তার দায়বদ্ধতা কোনভাবেই এড়াতে পারেন না। ফলে অনেকটা প্রতিযোগিতা করেও তাকে গবেষণার অর্থ সংগ্রহ করতে হয়। আবার গবেষণা কার্য অব্যাহত রাখার জন্য গবেষণা মনস্ক ছাত্রের সন্ধানও তাকে করতে হয়। কিভাবে এক ছাত্রের মাধ্যমে এই গবেষণা কর্মটি শেষ হয়ে শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদান রাখবে সে বিষয়টিও তার দায়বদ্ধতার মধ্যে চলে আসে। এটি প্যাটেন্ট হবে নাকি প্রকাশনা হবে অথবা কোন্ মানসম্মত জার্নালে প্রকাশ করতে হবে সব বিষয় তিনি নির্ধারণ করে থাকেন। আবার বছর শেষে অধ্যাপকের শিক্ষা ও গবেষণা ক্ষেত্রে পারফরমেন্সের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে বিশ্লেষণ করা হয়। কোন কারণে পারফরমেন্স নিম্নমুখী হলে তিরস্কার থেকে বহিষ্কার পর্যন্ত ঘটতে পারে। কিন্তু আমাদের দেশে এ ধরনের সংস্কৃতি এখনও পর্যন্ত গড়ে তোলা যায়নি। এর প্রধান কারণ হচ্ছে, দায়িত্ব ও জবাবদিহিতার বিষয়টি শিক্ষকদের কাছে অনেকটা গৌণ হয়ে, স্বেচ্ছাচারিতার বিষয়টি মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে বাংলাদেশে শিক্ষা ক্ষেত্রে গবেষণা যেভাবে অগ্রসর হওয়ার কথা ছিল, ঠিক সেভাবে তা অগ্রসর হয়নি। তবে এ বিষয়টি এখন অবহেলা করার কোন ধরনের সুযোগ নেই। বরং এটি গুরুত্বসহকারে ভাবা উচিত। তা না হলে বিশ্ববিদ্যালয় নতুন জ্ঞান উদ্ভাবন ও বিতরণের কেন্দ্র বিন্দু না হয়ে, ব্যক্তি স্বার্থ ও গোষ্ঠী স্বার্থের কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হবে। ফলে সমাজ ও রাষ্ট্রের ওপর এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়বে।

অনেকে বাংলাদেশে গবেষণার পরিবেশ নেই বলে খোঁড়া যুক্তি উত্থাপন করেন। কিন্তু গবেষণার পরিবেশ তৈরির দায়িত্ব যে অধ্যাপক ও গবেষকদের ওপর বর্তায় এটি তারা অনেকটা সচেতনভাবেই এড়িয়ে যেতে চান। মূলত গবেষণা নির্ভর করে সৃজনশীল মানসিকতার ওপর। বড় বড় লজিক্যাল যুক্তি দেখিয়ে এই দায়িত্ব কোনভাবেই এড়ানো সম্ভব নয়। শিক্ষকদের শিক্ষা ও গবেষণার সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত থাকতে হবে। চিকিৎসা বিদ্যা, প্রযুক্তি বিদ্যাসহ বিভিন্ন বিষয়ে যে মৌলক গবেষণা সারা বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণাগারে চলছে, তা আমাদের দেশেও শুরু করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে দেশে ক্যান্সার নিয়ে মৌলিক গবেষণা চলছে। কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে কোন ধরনের বায়োম্যাটেরিয়াল উপযোগী হবে এবং তা একটি স্বাভাবিক কিডনির মতো কার্যক্ষমতা বজায় রাখবে তা চিকিৎসাবিদ ও প্রযুক্তিবিদদের সম্মিলিত গবেষণার মাধ্যমে বের করে আনতে হবে। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে পারস্পরিক শিক্ষা ও গবেষণাকেন্দ্রিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। এক সময় বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারি ধাতু ব্যবহার করা হলেও আজকাল হালকা ধাতু ব্যবহারের প্রচলন বাড়ছে।

সাম্প্রতিককালে এ্যালুমিনিয়ামের ওপর প্রচুর গবেষণা চলছে। এই গবেষণার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, কিভাবে এ্যালুমিনিয়ামের গুণগতমান বৃদ্ধি করে এটি ভারি শিল্পের উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা যায়। আবার বিভিন্ন ধরনের কম্পোজিট ম্যাটেরিয়াল তৈরির মাধ্যমে এর বাণিজ্যিক ব্যবহার শুরু হয়েছে। নিউক্লিয়ার এনার্জির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুত উৎপাদন করা সম্ভব। কিন্তু এটি মানুষ ও পরিবেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতিকর প্রভাব বয়ে আনতে পারে বলে এর বিকল্প নতুন নতুন এনার্জি ম্যাটেরিয়াল ও পদ্ধতি আবিষ্কারের মৌলিক গবেষণা বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অব্যাহত রয়েছে। এ্যাটোমিক ট্রান্সফারের মাধ্যমে কিভাবে নতুন নতুন ম্যাটেরিয়াল তৈরি করা যায় তার গবেষণা পৃথিবীব্যাপী চলছে। ন্যানো টেকনোলজির মৌলিক গবেষণার মাধ্যমে প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নতুন নতুন ধ্যান-ধারণা তৈরি হচ্ছে। প্রকৃতির পরিবর্তনের জন্য যে কার্বন নিঃসরণ প্রভাবক শক্তি হিসেবে কাজ করছে তা কিভাবে কমিয়ে এনে প্রকৃতিকে সুরক্ষিত করা যায় এ ধরনের অসংখ্য গবেষণা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এ ধরনের মৌলিক গবেষণার কাজে সম্পৃক্ত হওয়া দরকার। তা না হলে উন্নত বিশ্বের গবেষণার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আমাদের অগ্রসর হওয়া সম্ভব হবে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল উদ্দেশ্য শিক্ষা ও গবেষণার কাজকে সম্প্রসারিত করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে তাকে কিভাবে সম্পৃক্ত করা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের প্রকৃত ও যৌক্তিক মূল্যায়ন পদ্ধতির মাধ্যমে তাদের জবাবদিহিতার বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। যদি গবেষণা না থাকে তবে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি কীভাবে হবে আর নতুন জ্ঞান সৃষ্টির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে যে শিক্ষাদানের কথা তারও বা কী হবে। কারণ বড় বড় লেখকদের বইয়ের রেফারেন্স আমরা শিক্ষার্থীদের হাতে ধরিয়ে দেই। মনে করি আমাদের পুরো দায়িত্বই শেষ হয়ে গেছে। আসলে বিষয়টি এমন নয়। বড় বড় লেখকদের বই পড়ে পড়ানো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাজ হতে পারে না। কেননা স্কুল ও কলেজে বড় বড় লেখকদের বই পড়ানো হয়। সেটাই যদি হয়ে থাকে তবে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়কে স্কুল ও কলেজের কাতারে নিয়ে আসছি কিনা বিষয়টি গভীরভাবে ভেবে দেখার প্রয়োজন আছে। এখানে বই পড়াকে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে না। আদিকালে পাথরের বই ছিল। এরপর কালো ছাপা অক্ষরে কাগজের বই এলো। আর এখন আমরা সবাই ই-বুকের দিকে ঝুঁকে পড়েছি। কোনোটাকেই উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যদি বড় বড় লেখকদের বই পড়ে সেটাই শিক্ষার্থীদের ধারণা দেন তবে এটাকে নকল করা বলা যাবে কিনা তা বিবেচনার বিষয়। এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যেটি করতে পারেন, তা হল বিভিন্ন লেখকদের বই তো তারা পড়বেনই, এর সঙ্গে তারা যে বিষয়টি পড়াবেন সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার যে অনেক পরিবর্তন ঘটে গেছে তার ধারণা গ্রহণ করবেন বিভিন্ন ধরনের গবেষণাধর্মী প্রবন্ধগুলো পাঠ করে। এর সাথে গবেষণা ও উদ্ভাবনকে সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে শক্তিশালী তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা দরকার। এর সঙ্গে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পারস্পরিক জ্ঞান ও উদ্ভাবন আদান-প্রদানের মাধ্যমে গ্রপভিত্তিক গবেষণাকে প্রাধান্য দেয়া যেতে পারে।

অন্যদিকে বিদেশে যে বাঙালি শিক্ষক ও গবেষকরা কাজ করছেন, তাদের সঙ্গে আমাদের দেশের শিক্ষক ও গবেষকরা একত্রে গবেষণার কাজ করতে পারেন। বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে গবেষণাসংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে সমন্বিত উদ্ভাবন ও গবেষণাকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব। শিক্ষার প্রাথমিক স্তর থেকেই উদ্ভাবনমুখী আনন্দদায়ক শিক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে গবেষণাভিত্তিক মানবিক উন্নয়নকে নিশ্চিত করা যেতে পারে। শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত সব স্তরে বিজ্ঞান বা উদ্ভাবন মেলার আয়োজন করে উদ্ভাবনী সংস্কৃতিকে প্রাধান্য দেয়া দরকার। প্রয়োজনীয়তা থেকেই আসে উদ্ভাবন আর উদ্ভাবন থেকে একটি সফল গবেষণার জন্ম হয়। উদ্ভাবনমুখী গবেষণায় সাফল্য বা ব্যর্থতা দুটোই আসতে পারে। যেমন টমাস আলভা এডিসন যখন বৈদ্যুতিক বাল্ব তৈরির কাজ করছিলেন তখন যে ম্যাটেরিয়ালের মাধ্যমে বেশি আলো পাওয়া যাবে তা খোঁজার চেষ্টা করেছেন। তিনি একের পর এক ফিলামেন্ট ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার করলেন। কিন্তু দুই হাজারেরও বেশি ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার করার পরও ইতিবাচক কোনো ফলাফল পেলেন না। অর্থাৎ যে পরিমাণ আলো দরকার তা পেলেন না। এডিসনের সহযোগী বিজ্ঞানীরা বললেন, আমরা গবেষণায় ব্যর্থ হয়েছি, সফল হতে পারিনি। কিন্তু এডিসন বললেন অন্য কথা। তিনি বললেন, আমরা গবেষণায় সফল হয়েছি। আমাদের সফলতা হচ্ছে, গবেষণার মাধ্যমে এখন আমরা আগামী প্রজন্মের বিজ্ঞানীদের জানাতে পারব- তাদের আর আমাদের ব্যবহৃত ম্যাটেরিয়ালগুলো পরীক্ষা করে দেখার প্রয়োজন নেই। নেতিবাচক মনোভাব পরিহার করে ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তোলার নামই উদ্ভাবন ও গবেষণা। আমরাও ইতিবাচক ও আশাবাদী হতে চাই। এখন আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত উদ্ভাবনে শীর্ষস্থান অর্জন করা। সব ক্ষেত্রেই আমাদের বর্তমান অর্জন ঈর্ষণীয়। উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও সেই লক্ষ্য অর্জিত হবে বলে আমাদের বিশ্বাস। তবে আশার কথা হচ্ছে, ইতোমধ্যে সরকার ইনস্টিটিউট অব কোয়ালিটি এ্যাসুরেন্স সেল গঠনের মাধ্যমে শিক্ষা পদ্ধতিকে মানসম্মত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে সরকারের এই উদ্যোগটি প্রশংসা পাবার যোগ্য। এই উদ্যোগ যাতে অব্যাহত থাকে এবং এর মাধ্যমে যাতে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণাকে বিশ্বমানের পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব হয়, সেটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা দরকার।

বিশ্ববিদ্যালগুলোর স্বকীয়তা বজায় রেখে স্বায়ত্তশাসনের বিষয়টি একইভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্বায়ত্তশাসন মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ভিন্নতা দেখা দিলে তা জাত প্রথা ও বর্ণ বৈষম্যের মতো অবস্থা তৈরি করতে পারে। যা বাংলাদেশের শিক্ষার জন্য ইতিবাচক না হয়ে নেতিবাচক হতে পারে। বাংলাদেশের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়কে অধিক স্বায়ত্তশাসন প্রদান করা হলেও অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রে স্বায়ত্তশাসনের বিষয়টি সেভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মর্যাদার ক্ষেত্রে এক ধরনের ভারসাম্যহীনতা বিরাজ করছে। এ বিষয়টি আবার নতুন করে ভেবে দেখার সময় এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পৃথক পে স্কেলের বিষয়টি অনেকদিন ধরেই আলোচনার মূখ্য বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও নেপালসহ বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পৃথক পে স্কেল রয়েছে। আবার ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সে শিক্ষকদের মর্যাদার বিষয়টি যেভাবে দেখা দরকার ছিল, সেভাবে দেখা হয়নি। অতীতকাল ধরে শিক্ষকরা যে সুবিধা পেয়ে আসছিলেন সেগুলো ধীরে ধীরে সঙ্কুচিত করা হচ্ছে। যা শিক্ষা ও গবেষণা বিস্তারের ক্ষেত্রে এক ধরনের মনস্তাত্তি¡ক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। আবার এগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এক পক্ষ অন্য পক্ষকে দোষারোপ করলেও এর সুষ্ঠ সমাধানের জন্য যে উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার, তা কোনভাবেই হয়ে উঠছে না। ফলে সমস্যাগুলো যৌক্তিক সম্ভাবনা না হয়ে অযৌক্তিক দ্ব›েদ্ব পরিণত হচ্ছে। যা কোনাভাবেই দেশের স্বার্থে কোন পক্ষের জন্যই কাম্য নয়।

দেশ এগোচ্ছে, মানুষ এগোচ্ছে। আর দেশ ও মানুষের অগ্রগতির ক্ষেত্রে শিক্ষকদের শিক্ষা ও গবেষণার বিষয়টি যে প্রভাবক শক্তি হিসেবে কাজ করছে, তা কোনভাবেই উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। তাই, শিক্ষকদের দেশের স্বার্থেই শিক্ষা ও গবেষণার সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত রাখা প্রয়োজন। তবেই উন্নত রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে।

লেখকঃ শিক্ষাবিদ, কলামিস্ট, লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ।

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী

সর্বাধিক পঠিত