• বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫
  • ||

ঝিনাইদহ জেলার ৪টি আসনের চালচিত্র

বিএনপির ঘাঁটিতে উন্নয়নই আওয়ামী লীগের ভরসা

প্রকাশ:  ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৯:২৬ | আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২০:২৮
শাহজাহান আলী বিপাশ, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রিন্ট

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দরোজা কড়া নাড়ছে। দেশে ছড়িয়ে পড়ছে নির্বাচনী আমেজ, ঝিনাইদহ জেলার ৪টি আসনেও ছড়িয়ে পড়ছে ভোটের হাওয়া। নির্বাচনে প্রার্থী হতে আগ্রহীরা গণসংযোগ শুরু করেছেন বহু অাগেই। এখন শেষ সময় নিজ নিজ দলের মনোনয়নে নিশ্চিতে ধর্ণা দিচ্ছেন ঢাকা কেন্দ্রীয় অফিসে। দেখা করছেন কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে। মনোনয়ন পাবার জন্য জোর তদবিরও চলছে।

এ জেলার ৬টি উপজেলা ঝিনাইদহ সদর, শৈলকুপা,হরিনাকুন্ডু,কালীগঞ্জ,কোটচাদপুর ও মহেশপুর নিয়ে মোটি ৪টি সংসদীয় আসন। এক সময় ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির ঘাটি হিসেবেই পরিচিত ছিলো। কিন্তু ২০০৮ সালের নির্বাচনে পাল্টে যায় চলচিত্র। বিএনপির ভরাডুবি হয়, আওয়ামী লীগ জয় হয় ৪টি আসনেই। দশম সংসদ নির্বাচনেও আসনগুলো তারা ধরে রাখে। জেলার ৪টি আসনেই ক্ষমতাসীন দলের চার সংসদ সদস্য যোগ করেছেন উন্নয়নের ধারা। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ধারণা এই উন্নয়নই নৌকাকে পৌছে দেবে কাঙ্খিত লক্ষ্যে। চার অাসন তারা ধরে রাখতে চান।

পুরো ঝিনাইদহে বিএনপির রয়েছে নিরব সমর্থন। এই সমর্থনে ভর করেই দলটি তাদের হারানো ৪টি আসন ফিরে পেতে চাইছে। নির্বাচন নিয়ে দলীয় কোনো সিদ্ধান্ত না হলেও মাঠে আছেন বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। ধানের শীষের সমর্থকদের দাবি, নির্বাচন যদি সুষ্ঠু হয় তবে বিএনপির জয় সুনিশ্চিত।

ঝিনাইদহ-১: আওয়ামী লীগের ৫, বিএনপির ৪ প্রার্থী

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এরই মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীরা মনোনয়ন পেতে তৃণমুল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে গণসংযোগ শুরু করেছে। ঝিনাইদহ ১ আসন ( শৈলকুপা) থেকে এবার আওয়ামী লীগের ৫ জন প্রার্থী ও বিএনপির ৩ জন প্রার্থী মনোয়ন পেতে মাঠে নেমেছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের যে সকল সম্ভাব্য প্রার্থী কাজ করছেন তারা হলেন সাবেক মৎস্য ও প্রার্ণী সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বর্তমান সংসদ সদস্য আব্দুল হাই, আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য কামরুজ্জামানের মেয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য কল্পনা আক্তার, শৈলকুপা উপজেলার পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নায়েব আলী জোয়াদ্দার, বিশ্বাস বিল্ডার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলাম দুলাল বিশ্বাস ও প্রিয়াংকা গ্রুপের মালিক সাইদুর রহমান সজল। অপর দিকে বিএনপি থেকে প্রচারনায় রয়েছে সাবেক সংসদ সদস্য ও শৈলকুপা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল ওহাব, বিএনপির কেন্দ্রীয় মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ ও বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সহ সহসাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ডু। এই আসন থেকে জামায়াতের কোন প্রার্থীর প্রচারণায় না পাওয়া গেলেও জাতীয় পার্টির মনিকা আলম নামের নাম শোনা যাচ্ছে।

ঝিনাইদহ ১ আসনটি (শৈলকুপা) উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। মোট ভোটার ২ লাখ ৪৯ হাজার ২৪২ জন। এর মধ্যে মহিলা ভোটার ১ লাখ ২৪ হাজার ৭৭৭ এবং পুরুষ ভোটার ১ লাখ ২৪ হাজার ৪৬৫ জন।(নির্বাচন অফিসের সুত্র মতে)।

এই আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির তৃণমুল পর্যায়ে গ্রুপিং রয়েছে। গ্রæপিং ও সামাজিক দ্বন্দের কারনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী নিহত হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একাধিক প্রার্থী কোমর বেধে এবার মনোনয়ন পেতে মাঠে নেমে পড়েছেন।

বিগত নির্বাচনের তথ্য অনুযায়ীয়,১৯৯১ সালের নির্বাচনে ১লাখ ৩১০৭৫ ভোটের মধ্যের বিএনপির প্রার্থী আব্দুল ওহাব ৬৩ হাজার ৬৬৩ ভোট পেয়ে বিজীয় হন। তার নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্ব আওয়ামী লীগের মো: কামরুজ্জামান পান ৪৬ হাজার ০২৯ ভোট। আর জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের সিরাজ আলী পান ১১ হাজার ৯২৬ ভোট। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বিএনপির আব্দুল ওহাব পান ৭৫ হাজার ১০৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্ব›িদ্ব আওয়ামী লীগের মো: কামরুজ্জামান পান ৬৮ হাজার ৫১৪ ভোট, জায়ামাতের আবু তৈয়ব ৫ হাজার ৯৪৫ জন।২০০১ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আব্দুল হাই পান ৯২ হাজার ৬৫২ ভোট, এবং বিএনপির আব্দুল ওহাব পান ৯২৩০৬ ভোট। এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুল হাই নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের আব্দুল হাই নৌকা প্রতিকে পান ১ লাখ ৯ হাজার ৫০ ভোট। তার নিকটতম প্রার্থী বিএনপির আব্দুল ওহাব পান ৮৫ হাজার ৮শ ৯৯ ভোট।২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আব্দুল হাই পান ১ লাখ ১১ হাজার ১৫৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নায়েব আলী জোয়ার্দ্দার পান ১৮ হাজার ৬২ ভোট।

১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে বিএনপির প্রার্থী আব্দুল ওহাব, ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুল হাই নির্বাচিত হন সংসদ সদস্য হিসেবে।

ঝিনাইদহ -২: আ’লীগ চায় ধরে রাখতে চায়, বিএনপি চায় পুনরুদ্ধার

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে উঠেছে ঝিনাইদহ ২ আসন। গ্রামে-গঞ্জে,হাট- বাজারে ছেয়ে গেছে দোয়া সমর্থনের পোষ্টার-ডিজিটাল ব্যানারে। । এই আসনটি বিএনপির শক্ত ঘাটি হিসেবে পরিচিতি হলে ২০০৮ সালের পর থেকে আওয়ামী লীগের দখলে চলে যায়। ঝিনাইদহ ২ আসনটি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন, ২টি পৌরসভা ও হরিণাকুন্ডু উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। বর্তমান সংসদ সদস্য হিসেবে আছেন সদস্য আওয়ামী লীগের যোগদানকৃত তাহজিব সিদ্দিকী সমি। এই আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একাধিক প্রার্থী প্রচারণায় রয়েছে।

আওয়ামী লীগের যে সকল প্রার্থীর নাম পাওয়া গেছে তারা হলেন বর্তমান সংসদ সদস্য তাহজিব আলম সিদ্দিকী সমি,সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সফিকুল ইসলাম অপু, ঝিনাইদহ পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টু এবং শিল্পপতি নাসের শাহরিয়ার জাহেদী।

অপর দিকে বিএনপি থেকে যাদের নাম পাওয়া গেছে ও নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে রয়েছেন তারা হলেন ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি ও বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মসিউর রহমান, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও হরিনাকুন্ডু উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাড. এম এ মজিদ ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মীর রবিউল ইসলাম লাবলু।

ঝিনাইদহ আসনটিতে ১৯৯১ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ৩টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মসিউর রহমান বিজয়ী হয়েছিলেন। এর পর ২০০৮ সালের নির্বাচনে সফিকুল ইসলাম অপু এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তাহজীব আলম সিদ্দিক সমি নির্বাচিত হন। পরে তিনি আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। আওয়ামী লীগের যে চার জন প্রার্থী এই আসন থেকে মনোনয়ন চাইবেন তাদের সম্পর্কে দলীয় ভোটাররা জানান, সফিকুল ইসলাম অপু বিএনপির শক্তিশালী প্রার্থী মসিউর রহমানকে পরাজিত করেছেন। যার কারনে তার গ্রহনযোগ্যতা আছে। বর্তমান সংসদ সদস্য তাহজিব আলম সিদ্দিকী সামি বিষয়ে বলেন, তিনি বর্তমান সংসদ সদস্য হিসেবে রয়েছেন। তবে তিনি নির্বাচন করেছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে। তার বাবা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরে আলম সিদ্দিকী ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেছিলেন।

এছাড়াও আরেক প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার মেয়র সাইদুল করিম মিন্টু সম্পর্কে দলীয় ভোটারা বলেন, তরুন এই নেতা পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হয়ে পৌর এলাকার নাগরিক সমস্যার সমাধান করছেন। এছাড়াও তিনি দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তৃণমুল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের কাছে যেতে পেরেছেন। আওয়ামী লীগের আরেক মনোনয়ণ প্রত্যাশী শিল্পপতি নাসের শাহরিয়ার জাহেদী সম্পর্কে ভোটাররা জানান তিনি এলাকার অসহায় গরীব দুস্থ মানুষের সহায়াতা করেন প্রতিনিয়ত। তার বাবা ঝিনাইদহের প্রবীন রাজনীতিবিদ, ভাষা সৈনিক জাহিদ হোসে মুসা মিয়া। তার অবস্থানও বেশ ভাল।

অপর দিকে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মসিউর রহমানের বিকল্প তেমন কোন প্রার্থী নেই বলে বিএনপির দলীয় নেতাকমীরা জানান। কারন তিনি এই আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে ৩ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ঝিনাইদহ ২ আসনে তিনি ব্যাপক উন্নয়ণ করেছিলেন। তবে ২০১৭ সালে ২৫ অক্টোবর দুনীতি দম কমিশনের করা একটি মামলায় আদালত মসিউর রহমানকে ১০ বছরের কারাদন্ড দিয়েছেন। তবে তিনি ঐ মামলায় বর্তমানে জামিনে আছেন। এ অবস্থায় মসিউর রহমান নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কিনা এ নিয়ে অনশ্চিতার মধ্যে রয়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। আর এই সুযোগটি বা বিকল্প প্রার্থী হিসেবে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. এম এ মজিদ ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির মীর রবিউল ইসলাম লাভলু। তারা এই আসন থেকে প্রচারণায় রয়েছেন।

নির্বাচন কমিশন সুত্রে জানা যায়, ঝিনাইদহ সদর ও হরিণাকুন্ডুর উপজেলার ২টি পৌরসভা, ২১টি ইউনিয়ন নিয়ে ঝিনাইদহ ২ আসন গঠিত। এ আসনে ৩ লাখ৮৯ হাজার ৭শ ৩৯ জন ভোটার। এর মধ্যে মহিলা ভোটার ১লাখ ৯৬ হাজার ১৯৬ জন ও পুরুষ ১ লাখ ৯৩ হাজার ৫৪৩ জন।

বিগত দিনগুলোর নির্বাচনের তথ্য অনুযায়ী , ১৯৯১ সালের নির্বাচনে ১ লাখ ৬২ হাজার ৪৬৪ ভোটের মধ্যের বিএনপির প্রার্থী মশিউর রহমান পান ৭৬ হাজার ০০১ ভোট। তার নিটকতম প্রার্থী আওয়ামী লীগের মতিয়ার রহমান পান ৩৭হাজার ১৬৬ ভোট। আর এ আসন থেকে জামায়াতে ইসলামীর আবুল কাশেম পান ৩৩ হাজার ৯৭৫ ভোট। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বিএনপির মশিয়ার রহমান পান ৮৩ হাজার ৯৬৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্ব›িদ্ব আওয়ামী লীগের নুর-ই আলম সিদ্দিক পান ৬৯ হাজার৩৫৩ ভোট, জায়ামাতের নুর মোহাম্মাদ পান ৪১ হাজার ২৪৭ ভোট। ২০০১ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নুর আলম সিদ্দিক পান ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০৬ ভোট, এবং বিএনপির মসিউর রহমান পান ১লাখ ৪৪ হাজার ৯৫১ ভোট। এ আসনে বিএনপির মসিউর রহমান নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের সফিকুল ইসলাম অপু নৌকা প্রতিকে পান ১ লাখ ৬১ হাজার ০৬২ ভোট। তার নিকটতম প্রার্থী বিএনপির মশিউর রহমান পান ১লাখ ৪৬ হাজার ৭শ ৩৬ ভোট। সর্বশেষ ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সফিকুল ইসলাম অপু পান ৫১ হাজার২৪৪ ভোট। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তাহজীব আলম সি্িদ্দক পান ৬৭ হাজার ৯৮৪ ভোট। তাহজীব আলম সি্িদ্দক এ আসন থেকে নির্বাচিত হন।

ঝিনাইদহ-৩: গ্রুপিং সংকটে প্রধান দুই দল

ঝিনাইদহের কোটচাদপুর ও মহেশপুর উপজেলার ২টি পৌরসভা ও ১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে ঝিনাইদহ-৩ সংসদীয় আসন। এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ২০ হাজার ৫৫৮ জন। এর মধ্যে মহিলা ভোটার প্রায় ১ লাখ ৫৯ হাজার ৮৭০ জন। পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬০ হাজার ৬৮৮ জন। এই আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে দলীয় কোন্দল চরমে। আওয়ামী লীগের দুটি গ্রুপ শক্তিশালী। আর বিএনপির ৩টি গ্রুপ বিদ্যমান। উভয় গ্রæপ দলীয় আলাদা আলাদা কর্মসূচি পালন করে।

ঝিনাইদহ-৩ আসনে ইসলামী ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ও থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাজ্জাতুজ জুম্মা চৌধুরী এবং মায়া তালুকদার, ব্যারিষ্টার মোহাম্মদ আলী, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-ত্রাণ ও সমাজকল্যান সম্পাদক এম এম জামান মিল্লাত, সাজ্জাদুল ইসলাম সাজ্জাদ এবং কোটচাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শরিফুননেছা মিকি ,এ্যাডভোকেট রোকনুজ্জামান প্রিন্স এবং রেজাউল করিম টিটন ।

অপর দিকে এই আসনে বিএনপির পক্ষে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক বিষয়ক সহ সম্পাদক কন্ঠশিল্পী মনির খান, কেন্দ্রীয় বিএনপির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সহ সম্পাদক আমিরুজ্জামান খান শিমুল, কোটচাদপুর থানা বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম এবং মহেশপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জি: মোমিনুর রহমান মমিন, সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম মাষ্টারের ছেলে মেহেদী হাসান রনির এর নাম শোনা যাচেছ। এছাড়াও জামায়াতের পক্ষ থেকে জামায়াতের সুরা সদস্য অধ্যাপক মতিয়ার রহমান নির্বাচনী প্রচারনায় রয়েছেন।

গত ৫টি নির্বাচনের তথ্য বিশ্লেষনে দেখা যায়, ১৯৯১ সালের নির্বাচনে ১লাখ ৪২ হাজার ০০৯ ভোটের মধ্যে বিএনপির শহিদুল ইসলাম মাষ্টার পান ৬১ হাজার ৩৯১ ভোট। তার নিকটতম প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর ্এ এস এম মোজাম্মেল পান ৪৪ হাজার ৮৬১ ভোট। আওয়ামী লীগের সাজ্জাতুজ জুম্মা পান ৩১ হাজার ৪১২ ভোট।১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বিএনপির শহিদুল ইসলাম মাষ্টার পান ৬৫ হাজার ৭২৫ ভোট। তার নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর এসএম মোজাম্মেল হক পান ৫৬ হাজার ৪৫ ভোট। আর আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাজ্জাতুজ জুম্মা পান ৫০ হাজার ৮৮২ ভোট। ২০০১ সালের নির্বাচনে এই আসনে বিএনপির শহিদুল ইসলাম মাষ্টার পান ১ লাখ ২৭ হাজার ২৩ ভোট। তার নিকটতম আওয়ামী লীগের সাজ্জাতুজ জুম্মা পান ৮৪ হাজার ২৮৯ ভোট। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শফিকুল আজম খান চঞ্চল পান ১ লাখ ১৮ হাজার ৩৬১ ভোট। আর জামায়াতে ইসলামীর মো: মতিয়ার রহমান পান ৮১ হাজার ৭৩৯ ভোট। বিএনপির শহিদুল ইসলাম মাষ্টার পান ৫৯ হাজার ০১৫ ভোট। সর্বশেষ ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নবী নেওয়াজ পান ৪৬হাজার১০৫ ভোট। আর নিকটতম প্রার্থী জাতীয় পার্টির কামরুজ্জামান স্বাধীন পান ১ হাজার ৪৬৫ ভোট।

এই আসন থেকে ১৯৯১,১৯৯৬ ও ২০০১ সালে মরহুম শহিদুল ইসলাম মাষ্টার (বিএনপি), ২০০৮ সালে শফিকুল ইসলাম চঞ্চল (আওয়ামী লীগ) ও ২০১৪ সালে নবী নেওয়াজ (আওয়ামী লীগ) জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচত হন। ঝিনাইদহ ৩ আসনটি মুলত বিএনপি জামায়াতের ঘাটি হিসেবেই পরিচিত। ১৯৯১ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বিএনপির প্রার্থী শহীদুল ইসলাম মাষ্টার ৩ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আর বিএনপির নিকটতম প্রার্থী হিসেবে জামায়াতের প্রার্থীই বেশি ভোট পান। তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি এ আসনটি হাতছাড়া করতে বাধ্য হয়। আর ২০১৪ সালের নির্বাচনে তারা অংশ নেয়নি। তবে সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আওয়ামী লীগ থেকে এবার মনোনয়ণ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুল আজম চঞ্চল ও সাজ্জাতুজ জুমার মধ্যে কেউ একজন। বর্তমান সংসদ সদস্য নবী নেওয়ায় এলাকায় তেমন উন্নয়ণ করেননি বলে ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভও রয়েছে।

অপর দিকে বিএনপি থেকে শক্তিশালী ৪জন প্রার্থীর মধ্যে থেকে যে কেউ মনোনয়ন পেতে পারেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক বিষয়ক সহ সম্পাদক কন্ঠশিল্পী মনির খান, কেন্দ্রীয় বিএনপির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সহ সম্পাদক আমিরুজ্জামান খান শিমুল এবং সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম মাষ্টারের ছেলে মেহেদী হাসান রনি এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জি: মমিনুর রহমান মমিন। তবে ইঞ্জিনিয়ার মমিনুর রহমান ও মনির খান এগিয়ে আছেন নির্বাচনী প্রচারণায়।

বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম শহিদুল ইসলাম মাষ্টার মারা যাবার পর মুলত ঝিনাইদহ ৩ আসনটিতে বিএনপি নেতা কন্ঠ শিল্পি মনির খান একটি গ্রæপে এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মমিনুর রহমান মমিনের একটি গ্রæপ আলাদা আলাদ কর্মসুচী দিয়ে কোট্চাদপুর ও মহেশপুরের বিএনপির নানা কর্মসূচী পালন করেছেন। বিএনপির অন্য নেতাদের তেমন মাঠে নামতে দেখা যায়নি। অনেক ভোটার জানিয়েছেন মনির খান ইতিমধ্যে ভোটারদের অনেক কাছে পৌছাতে পেরেছেন। ভোটারা আরো জানিয়েছেন যদি বিএনপির মধ্যে দলীয় কোন্দল না মেটানো সম্ভব হয় তাহলে জামায়াতের পক্ষ থেকে স্বতন্ত্র কোন প্রার্থী দিলে ভোটের হিসাব নিকাশ পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে।

ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ ও সদরের আংশিক): উভয় দলই প্রার্থীজট

ঝিনইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়ন এবং ঝিনাইদহ সদরে আংশিক ৪টি ইউনিয়ণ নিয়ে ঝিনাইদহ ৪ আসনটি গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৪৯ হাজার ২২ জন। ্এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ২৪ হাজার ৪৬৫ জন এবং মহিলা ভোটার ১ লাখ ২৪ হজার ৭৭৭ জন।

ঝিনাইদহ ৪ (কালীগঞ্জ ও ঝিনাইদহ সদরের কিছু অংশ) আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একাধিক প্রার্থী আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন চাইবেন। এর মধ্যে তারা বিভিন্ন ভাবে প্রচারণায় ব্যস্ত রয়েছে। কেউ বা বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে সাইনবোর্ড ঝুলিয়েছেন। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে যারা মনোনয়ন চাইতে পারেন তারা হলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল আজীম আনার, সাবেক সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মান্নান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর সিদ্দিক ঠান্ড, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান মতি এবং কালীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও যুবলীগের সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বিজু, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রাশেদ শমসের।

অপর দিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদূ দল বিএনপি থেকে যাদের নাম পাওয়া গেছে তার মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য শহীদুজ্জামান বেল্টু, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক হামিদুল ইসলাম হামিদ, বিশিস্ট সমাজ সেবক ও বিএনপির নেতা হারুন অর রশিদ মোল্লা।

গত ৫টি নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায় ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৩১ ভোটের মধ্যে বিএনপির শহীদুজ্জামান বেল্টু পান ৪১ হাাজর ৯৭১ ভোট। তার নিকটতম আওয়ামী লীগের শাহ মো: জাহাঙ্গীর সিদ্দিক ৩১ হাজার ৫৫৩ ভোট। এ আসন থেকে জামায়াতের অধ্যাপক নজরুল ইসলাম পান ১৯ হাজার ৯৪৪ ভোট। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে ১ লাখ ৬৪ হাজার ১৪২ ভোটের মধ্যে বিএনপির শহীদুজ্জামান বেল্টু পান ৬০ হাজার ৬৯৬ ভোট। আওয়ামী লীগের আব্দুল মান্নান পান ৪৯ হাজার ৬০৫ ভোট। জামায়াত ইসলামীর আবু তালেব পান ২০ হাজার ১শ ৮ ভোট। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২ লাখ ৩ হাজার ২৭৬ ভোটের মধ্যে বিএনপির শহীদুজ্জামান বেল্টু পান ৯৫ হাজার ৯৯১ ভোট। আওয়ামী লীগের আব্দুল মান্নান পান ৭৪ হাজার ৪৫৮ ভোট। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আব্দুল মান্নান পান ১ লাখ ৫ হাজার ৮৫২ ভোট। আর বিএনপির শহীদুজ্জামান বেল্টু পান ১ লাখ ১ হাজার ১৭৫ ভোট। সর্বশেষ ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আনোয়ারুল আজীম আনার পান ১ লাখ ৩ হাজার৪৭৮ ভোট। তার নিকটতম প্রার্থী বাংলাদেশ ওয়ার্কাস পার্টির মোস্তফা আলমগীর পান ৫ হাজার ৩শ ৯৮ ভোট। এই নির্বাচনে বিএনপি অংশ গ্রহন করেনি।

এই আসনে ১৯৯১ ,১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির শহীদুজ্জামান বেল্টু, ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আব্দুল মান্নান ও সর্বশেষ ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আনোয়ারুল আজম আনার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

ঝিনাইদহ ৪ আসেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির উভয় দলের মধ্যে লবিং গ্রুপিং বিদ্যমান। আওয়ামী লীগের ৩টি গ্রæপ রযেছে। এর মধ্যে একটি বর্তমান সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল আজীম আনার, আরেকটি সাবেক সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মান্নান এবং আরেকটি নেতৃত্ব দিচ্ছেন কালীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা মোস্তাফিজুর রহমান বিজু। ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায় আনোয়ারুল আজীম আনার ও আব্দুল মান্নান মধ্যে কেউ একজন নৌকার মাঝি হতে পারে।

অপর দিকে বিএনপির ২টি গ্রুপ বিদ্যমান। এর মধ্যে সাবেক সংসদ শহীদুজ্জামান বেল্টু একটিতে আর সাবেক পৌর মেয়র মাহবুবুর রহমান ও হামিদুল ইসলাম নেতৃত্ব দেন। মুলত দলের দু:সময়ে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক হামিদুল ইসলাম হামিদ বিএনপিকে চাঙ্গা করে রাখেন। সংস্কার পন্থী হিসেবে পরিচিত শহীদুজ্জামান বেল্টু সেই সময় মাঠেই নামতে পারেন নি।

এই আসনে বিএনপির নতুন একজন প্রার্থী বর্তমানে বেশ আলোচনায় এসেছেন। তিনি হলেন বর্তমান জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ। তিনি এর আগে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ছিলেন। ছাত্রনেতা হিসেবে সাইফুল ইসলামের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। ঝিনাইদহ ৪ এলাকার অনেক লোকজনের তিনি চাকুরি দেওয়াসহ বিভিন্ন সহযোগিতা করেছেন। ইতিমধ্যে বিএনপির ভোটাদের অনেক কাছে তিনি যেতে পেরেছেন। এবারের নির্বাচনে তিনি এই আসন থেকে মনোনয়ন পেতে প্রচার প্রচারনায় নেমেছেন। তবে শহীদুজ্জামান বেল্টু ও হামিদুল ইসলাম হামিদও মনোনয়ন পেতে মরিয়া। বিএনপির ভোটারা চাইছেন নতুন ও তরুন নেতৃত্ব।

এনই

ঝিনাইদহ জেলার ৪টি আসন,ঝিনাইদহ জেলা
apps