• শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫
  • ||

নওগাঁ জেলার ছয়টি আসনের চালচিত্র

দখল ধরে রাখতে চায় আ'লীগ, পুনরুদ্ধারে তৎপর বিএনপি

প্রকাশ:  ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৩:২৯ | আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৩:৫০
আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রিন্ট

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কয়েক মাস আগেই নওগাঁ জেলার ছয়টি আসন মনোনয়ন প্রত্যাশীদের পদচারণায় নির্বাচনী হাওয়া বইছে। দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এ হাওয়া প্রবল হয়েছে উঠছে। আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা এ জেলার বিভিন্ন দলীয় মনোনয়ন পেতে শুরু করে দিয়েছেন দৌড়-ঝাঁপ। মানুষের মুখে মুখে এখন নির্বাচন ও প্রার্থীদের নিয়েই আলোচনা।

নওগাঁ জেলার আসনগুলো দীঘদিন ছিল বিএনপির দখলে। গত ২০০৮ সাল কে ছয়টি আসনই দখলে নেয় আওয়ামী লীগ। ক্ষমতাসীন দল তাদের সব আসন এবারও ধরে রাখতে চায় আর হারানো আসন পুনরুদ্ধারে তৎপর বিএনপি। প্রতিটি আসনে মূল লড়াইটা সীমিত থাকবে প্রধান দুই দলের মধ্যেই। ভোটের মাঠের শেষ পর্যবেক্ষনে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে আওয়ামী লীগ। কারণ পর পর দুই মেয়াদ ক্ষমতায় থাকায় আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্যরা এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকতে পেরেছে। নির্বাচনী প্রচারণা তার এসব উন্নয়ন কথাই মানুষের কাছে তুলে ধরছে। অন্যদিক নির্বাচন নিয়ে কেন্দ্র থেকে পরিস্কার কোনো নির্দেশনা না থাকায় ভোটের মাঠে দোটানায় আছে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের নামে মামলা থাকায় অনেকে মাঠে নামতে পারছেন না।

নওগাঁ-১ (নিয়ামতপুর-পোরশা-সাপাহার)

ভারতের সীমান্তবর্তী ৩টি উপজেলা পোরশা, সাপাহা ও নিয়ামতপুর নিয়ে গঠিত নওগাঁ-১। বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে যায় নবম সংসদ নির্বাচনে। পর পর দুবার বিএনপি ক্ষমতায় না থাকায় বর্তমানে পাল্টে গেছে এই আসনের ভোটের হিসাব-নিকাশ।

২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা সাধন চন্দ্র মজুমদার বিপুুল ভোটের মাধ্যমে তিনবারের নির্বাচিত বিএনপির এমপি ডা. ছালেক চৌধুরীকে পরাজিত করেন। এরপর দশম সংসদ নির্বাচনে বিনা ভোটে এমপি হন সাধন চন্দ্র মজুমদার। বর্তমান সরকারের বদৌলতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা আ’লীগের সাধারন সম্পাদক বাবু সাধন চন্দ্র মজুমদার প্রত্যন্ত অবহেলিত এই অঞ্চলে ছড়িয়ে দিয়েছেন উন্নয়নের ছোঁয়া। আধুনিক মান সম্মত যোগাযোগ ব্যবস্থা এই অঞ্চলের প্রধান দৃশ্যমান উন্নয়ন যা এই অঞ্চলের মানুষের কাছে ছিলো স্বপ্ন। এ আসনের তিনটি উপজেলাই ঠাঁ-ঠাঁ বরেন্দ্রভূমি। এখন উপজেলাগুলোতে লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। গ্রামে গ্রামে জ্বলছে বৈদ্যুতিক বাতি। সড়কের উন্নয়ন হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও হয়েছে আগের তুলনায় অনেক সহজতর ।

নির্বাচনী এলাকা ঘুরে জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে নওগাঁ-১ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে কোন প্রতিদ্ব›িদ্ব প্রার্থী না থাকায় বর্তমানে আ’লীগের অবস্থান খুবই শক্তিশালী। অপরদিকে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়েছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ-১ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে এখন পর্যন্ত নওগাঁ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও ধর্ম মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু সাধন চন্দ্র মজুমদারের একক নাম শোনা যাচ্ছে। এই আসনে আওয়ামীলীগের আর কোন মনোনয়ন প্রত্যাশী না থাকায় বাবু সাধন চন্দ্র মজুমদার বেশ শক্তিশালী ও সুবিধাজনক অবস্থায় আছেন।

বিএনপি থেকে দলটির নিয়ামতপুর উপজেলা শাখার সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য ডা. ছালেক চৌধুরী, সাপাহার উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুন নূর, পোরশা উপজেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা ও বিএনপি নেতা শাহ আহমেদ মোজ্জাম্মেল চৌধুরী মনোনয়ন প্রত্যাশী।

১৯৯১, ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালের নির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্য ডা. ছালেক চৌধুরী। তাঁর সময়ে তিনি অত্র এলাকায় যোগাযোগ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বেশ অবদান রেখেছিলেন। বর্তমানে এই তিন উপজেলায় বিএনপির দলীয় কোন্দলের কারনে তাঁর একক নেতৃত্ব গড়ে উঠেনি। ফলে তৃনমুল নেতাকর্মীদের মাঝে এক ধরনের হতাশা কাজ করছে। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কাছ থেকে নিরাপদ দুরত্ব বজায় রেখে পরিস্থিতি অবলোকন করছেন তৃনমূল নেতাকর্মীরা।

বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী পোরশা উপজেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা বয়সে বেশ তরুণ। দলীয় কর্মকান্ডের চেয়ে প্রচার-প্রচারনায় বেশ এগিয়ে আছেন তিনি। পোরশা উপজেলায় বাহিরে নিয়ামতপুর ও সাপাহার উপজেলার নেতাকর্মীদের সাথে তেমন সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারেননি বলেই জানা গেছে। অন্যদিকে জাতীয় পাটির আকবর আলী কালু মনোনয়ন প্রত্যাশী। তবে জাতীয় পার্টির একাধিক নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, জাতীয় পার্টির ভোট পাওয়ার চেয়ে ১৪ দলের সাথে দরকষাকষিই বড় কথা। নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন ইসলামী আন্দোলনের (ইসা) পোরশা উপজেলা শাখার সাবেক সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ।

এ আসনে মোট ভোটার ৩ লক্ষ ৮৬ হাজার ৯ শত ২৯জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৯১ হাজার ৫২ জন এবং নারী ভোটার এক লাখ ৯৫ হাজার ৯২৭ জন।

নওগাঁ-২ (ধামইরহাট-পত্নীতলা)

নওগাঁ জেলার পত্নীতলা ও ধামইরহাট সীমান্তবর্তী এই দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে।আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে পুনরুদ্ধারে বিএনপিকে আর ধরে রাখার লড়াইয়ে আওয়ামী লীগকে ভোট যুদ্ধে নামতে হবে। আসন্ন নির্বাচনে এ আসনে দেশের প্রধান তিন রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন চাইবেন একাধিক প্রার্থী।

নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের একাধিক প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। এরা হলেন বর্তমান জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ্ব শহীদুজ্জামান সরকার বাবলু এমপি। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে শহীদুজ্জামান সরকার প্রথমবার এ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির দলীয় প্রার্থী শামসুজ্জোহা খানের কাছে পরাজিত হন।

আবার নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির দলীয় প্রার্থী শামসুজ্জোহা খানকে পরাজিত করে দ্বিতীয়বারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্ব›িদ্বতায় নির্বাচিত হয়ে তিনি জাতীয় সংসদের হুইপ নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি আবারো আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশি। এছাড়াও আওয়ামীলীগের অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন, নওগাঁ জেলা আওয়ামীলীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক, পত্নীতলা উপজেলা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, নজিপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল হক। এছাড়া আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক ও জেলা আ’লীগের কার্যকরী সদস্য প্রকৌশলী ড. আখতারুল আলম মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে জানা গেছে।

অপরদিকে এ আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সাংসদ সামসুজ্জোহা খান জোহাসহ অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন, নওগাঁ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি নতুন মুখ খাজা নাজিবুল্লাহ চৌধুরী এই আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন চাইবেন। তবে তৃনমূল পর্যায়ে এক জনপ্রিয় মুখ খাজা নাজিবুল্লাহ চৌধুরী।

জাতীয় পার্টি (জাপা) থেকে নওগাঁ জেলা কমিটির সহ-সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য বিএম হুমায়ন কবির চৌধুরী জাতীয় পার্টি থেকে এ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি এবারেও জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী।

দুই উপজেলায় ভোটারের সংখ্যা মোট ৩,১৭,৭২৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৫৯০২৮ জন এবং মহিলা ভোটার ১৫৮৬৯৮ জন। পত্নীতলা উপজেলায় পুরুষ ভোটার ৮৮,৭০০ জন এবং মহিলা ভোটার ৮৮,৫০৫ জন। ধামইরহাট উপজেলায় পুরুষ ভোটার ৭০,৩২৮ জন এবং মহিলা ভোটার ৭০,১৯৩ জন।

নওগাঁ-৩ (বদলগাছী-মহাদেবপুর)

নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলা ও মহাদেবপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা সীমিত থাকবে নৌকা ও ধানের শীষ মার্কার মধ্যেই।। বর্তমান সংসদ সদস্য ছলিম উদ্দীন দশম সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থী হয়ে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী ড. আকরাম হোসেন চৌধুরীকে ৩০ হাজার ভোটে হরিয়ে দেন। নির্বাচিত হওয়ার প্রায় সাড়ে তিন বছর পর আওয়ামী লীগ ছলিম উদ্দীনকে দলীয় সংসদ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এর আগে নবম সংসদ নির্বাচনে আকরাম হোসেন বিএনপির প্রার্থী আখতার হামিদ সিদ্দিকীকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য হন।

এ আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চাইতে পারেন বর্তমান সংসদ সদস্য মো. ছলিম উদ্দীন তরফদার (সেলিম) এবং সাবেক সংসদ সদস্য ও বর্তমান বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ড. আকরাম হোসেন চৌধুরী। দু’জনই দলীয় প্রার্থী হওয়ার শক্ত দাবীদার বলে মনে করছেন দলটির নেতাকর্মীরা। এছাড়াও আ’লীগ থেকে সরকারের সাবেক সচিব মো: এনামুল হক, সাবেক পুলিশ সুপার বীরমুক্তিযোদ্ধা মরহুম আবু বক্কর সিদ্দিকের স্ত্রী সখিনা সিদ্দিক, তরুন ও নতুন মুখ ইঞ্জি: ডিএম মাহবুব উল মান্নাফ (শুভ) এর নাম শোনা যাচ্ছে।

বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কবি জসীমউদ্দীন হল ডিবেটিং ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও বদলগাছী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফজলে হুদা আকন্দ বাবুল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নওগাঁ ছাত্র এ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি একেএম শফিকুল ইসলাম (শফিক), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা ও নওগাঁ জেলা বিএনপির সদস্য রবিউল আলম বুলেট, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আসফ কবির চৌধুরী (শত) ও সাকে ডেপুটি স্পিকার মরহুম আখতার হামিদ সিদ্দিকের ছেলে আরেফিন সিদ্দিক জনি।

জাতীয় পাটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও নওগাঁ জেলা শাখার সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন। তিনি বিভিন্ন ভাবে দলীয় কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।

নওগাঁ-৩ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ৭৮ হাজর ১৮জন। হালনাগাদ করার পর এ সংখ্যা আরো বাড়বে বলে নির্বাচন অফিস থেকে জানানো হয়েছে।

নওগাঁ-৪ (মান্দা)

নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে বর্তমান আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী ইমাজ উদ্দিন প্রামানিক। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রাথী হিসেবে নির্বাচন করে তিনি নৌকার প্রার্থী আব্দুল লতিফ শেখকে বিপুল ভোটে হারিয়ে দেন। পরে ইমাজ উদ্দিন প্রামানিক যোগ দেন ক্ষমতাসীন দলে। দশম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে জাতীয় পার্টি (জেপি) প্রার্থীকে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

এবারও আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ইমাজ উদ্দিন প্রামানিক ভোটের লড়াইয়ে নামতে চান। তবে শারীরিক দুর্বলতা ও এলাকায় তেমন সময় দিতে না পারায় তাকে নৌকার বৈঠা নাও দেওয়া হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের শীর্ষনেতারা। এ আসনে ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন দৌড়ে আছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শেখ মো: আব্দুল লতিফ, মান্দা উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ব্রহানী সুলতান মামুদ গামা এবং স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের আজীবন সদস্য ডা. আব্দুর রহমান, এ্যাড. আব্দুল বাকী, বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান প্রমুখ। তবে বর্তমান সংসদ সদস্যের নিষ্ক্রিয়তা ও দলীয় কোন্দলের কারণে এ আসনে নষ্ট হয়ে গেছে আ’লীগের ভাবমূর্তি।

এ আসনে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হায়াত মোঃ সামসুল আলম প্রামানিক, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. ইকরামুল বারী টিপু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক ও বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আব্দুল মতিন মনোনয়ন পাওয়ার প্রতিযোগিতায় রয়েছেন। ধানের শীষের মনোননয়ন প্রার্থীদের মধ্যে এগিয়ে আছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. ইকরামুল বারী টিপু । তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় এলাকায় নেতাকর্মীদের সাথে ভাল সম্পর্ক গড়ে তুলেন। বিএনপির তৃনমূল নেতাকর্মীদের মাঝে ডা. ইকরামুল বারী টিপুর ভালো গ্রহন যোগ্যতা আছে বলে নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক ও বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আব্দুল মতিন রয়েছেন মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিনি সুযোগ পেলেই এলাকায় নেতাকর্মীদের সাথে একত্রিত হন। ঢাকার কেন্দ্রিয় কমিটির সাথে তার ভালো যোগাযোগ রয়েছে বলে এলাকায় প্রচার আছে।

এছাড়া জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাড. এনামুল হক এবং সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. ফজলুর রহমানের একাদশ সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ-৪ আসনে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে

এই উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ২৮৭০৭৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৪১০২৩ ও মহিলা ভোটর ১৪৬০৫১ জন।

নওগাঁ-৫ (সদর)

সদর উপজেলার এ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা চোখে পড়ার মতো। মনোনয়ন পেতে নিজ দলের হাইকমান্ডের সঙ্গেও তারা সমানতালে লবিং চালাচ্ছেন। এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে বর্তমান সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আবদুল মালেক নিয়মিত গণসংযোগ, দলীয় কর্মসূচি ছাড়াও সার্বক্ষণিকভাবে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন।দলের ত্যাগী এই নেতার মনোনয়নের পক্ষেই জনসমর্থন বেশি।

আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মরহুম আবদুল জলিলেরর ছেলে ব্যারিস্টার নিজাম উদ্দিন জলিল (জন) দল থেকে মনোনয়ন চাইবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি আলহাজ রফিকুল ইসলাম এবং জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ও সাবেক ছাত্রনেতা খোদাদাদ খান পিটু এ আসনে ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী।

এ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন চাইবেন পরপর দুই বার পৌরসভার মেয়র ও বর্তমান জেলা বিএনপির সভাপতি নজমুল হক সনি এ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন চাইবেন। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তালিকায় আরো রয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আব্দুল লতিফ খান, জেলা বিএনপি সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু ও জেলা বিএনপির সিনিয়র সাংগঠনিক সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপন।

এ আসনে জাতীয় পার্টি থেকে জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক ইফতাখারুল ইসলাম বকুলের মনোনয়ন প্রায় নিশ্চিত। স্থানীয় জনগণ মনে করেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীর মধ্যেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।

নওগাঁ-৬ (রাণীনগর ও আত্রাই)

রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলা নিয়ে গঠিত নওগাঁ-৬ আসনটি আওয়ামী লীগ চায় ধরে রাখতে আর আসনটি উদ্ধারে মরিয়া বিএনপি। ১৯ ৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে নওগাঁ-৬ আসনটিতে বিএনপির সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির এমপি নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ঢাকা মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ইসরাফিল আলম এমপি নির্বাচিত হন, ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি বিনাভোটে এমপি হন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়ন প্রত্যাশায় আওয়ামী লীগ-বিএনপির একাধিক প্রার্থী মাঠে থাকলেও আওয়ামী লীগের মো. ইসরাফিল আলম এবং বিএনপির মো. আনোয়ার হোসেন বুলুকে সম্ভাব্য প্রার্থী মনে করছেন দুই দলের কর্মী-সমর্থকরা। দলীয় ভাবেও ওই দুই প্রার্থী মনোনয়নের দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে আছেন।

বর্তমান সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম ছাড়াও এ আসনে ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় রয়েছেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা নওশের আলী, নওগাঁ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক সুমন, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহীন মনোয়ারা হক, রানীনগর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন হেলাল ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও রানীনগর থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল ইসলাম।

এ আসনে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন বুলু ছাড়াও বিএনপির মনোনয়ন চান নওগাঁ জেলা তাঁতী দলের সভাপতি এছাহক আলী। এছাড়াও নওগাঁ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মোঃ সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, জেলা অ্যাডভোকেট বার সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট এ জেড এম রফিকুল আলম এবং জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ন আমিনুল হক বেলাল ভোটের লড়াইয়ে নামতে তৎপরতা চালাচ্ছেন। এছাড়া এ আসনে ছাড়া জাতীয় পার্টি থেকে রানীনগর উপজেলা জাপার সভাপতি কাজী গোলাম কবির. জাসদের মনোনীত প্রার্থী জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইফসুফ আলী এবার নির্বাচনে প্রার্থী হবেন বলে জানা গেছে।

নওগাঁ,নওগাঁ জেলার ছয় আসন
apps