• রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৮ আশ্বিন ১৪২৫
  • ||

চট্টগ্রাম জেলার ১৬ আসনের চালচিত্র (দ্বিতীয় পর্ব)

বিএনপির ঘাঁটিতে আওয়ামী লীগের হানা

প্রকাশ:  ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৭:৪১ | আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৮:২০
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের অন্যসব জায়গার মতোই চটগ্রামেও ভোটের হাওয়া বইছে। এ জেলার নির্বাচনী অাসনগুলোতে সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে কাদের দেখা যাবে , এই নিয়ে লোকমুখে আলোচনার আলোচনা ঝড় এখন তুঙ্গে। জেলার ১৬টি আসনের মধ্যে প্রথম পর্বে ছিল ৮টি আসন (চট্টগ্রাম-১ থোক ৮), দ্বিতীয় পর্বে তুলে ধরা হলো বাকি ৮টি আসনের (চট্টগ্রাম-৯ থেকে ১৬) পরিস্থিতি।

চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী)

নগরীর পশ্চিম বাকলিয়া, পূর্ব বাকলিয়া, দক্ষিণ বাকলিয়া, চকবাজার, দেওয়ান বাজার, আন্দরকিল্লা, বকশির হাট, পাথরঘাটা, ফিরিঙ্গি বাজার, আলকরণ, উত্তর পাঠানটুলী, এনায়েত বাজার, জামালখান ও বাগমনিরাম ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-৮ সংসদীয় আসন। বন্দরনগরীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এলাকার এ আসনে আগের নির্বাচনগুলোতে বিএনপিই বেশি সাফল্য পেয়েছে। আসনটির বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টি জিয়াউদ্দীন আহমেদ বাবলু। ২০১৪ সালের নির্বাচনে এই আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ। দশম সংসদের মতো জাতীয় পার্টি এবারও মহাজোট থেকে নির্বাচনে অংশ নিলে এ আসন থেকে মনোনয়ন চাইবেন বর্তমান সংসদ সদস্য।

২০০৮ সালের নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে জয়ী হয়েছিলেন বর্তমান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি। দশম সংসদ নির্বাচনে ছাড় দিলেও এবার তিনি ভোটের মাঠ ছাড়তে রাজি নন। পুরোপুরিই নির্বাচনী প্রস্তুতির মধ্যে আছেন তিনি। এ আসনের আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী হলেন চট্টগ্রামের প্রয়াত মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। দলের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নওফেল এ আসনে দলীয় মনোনয়ন চাইবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়াও চট্টগ্রাম-৯ আসন থেকে ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় রয়েছেন চট্টগ্রাম নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-সিডিএর বর্তমান চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা জহুর আহমদ চৌধুরীর পুত্র সাবেক ছাত্রনেতা জসীম উদ্দিন চৌধুরী এবং নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও বার কাউন্সিলের সদস্য অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন বাবুল।

এদিকে নগর বিএনপি থেকে এ আসনে মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে আছেন নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন। পাশাপাশি চট্টগ্রাম সিটির সাবেক মেয়র মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনও বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী। জাতীয় পার্টি আলাদাভাবে নির্বাচনে অংশ নিলেও এ আসন থেকে মনোনয়ন চাইবেন বর্তমান সংসদ সদস্য জিয়াউদ্দীন আহমেদ বাবলু জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সোলায়মান আলম শেঠ এ আসনে জাতীয় পার্টি মনোনয়ন পেতে আগ্রহী। এছাড়াও ওয়ার্কার্স পার্টি চট্টগ্রামের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবু হানিফ আজাদী ও ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ থেকে ওয়াহেদ মুরাদ এ আসনে নির্বাচনে প্রার্থী হবেন।

চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-হালিশহর)

২০০৮ সালে চট্টগ্রাম-৮ (ডবলমুরিং) আসনটি ভেঙে দুটি আসন করা হয়েছিল। একটি চট্টগ্রাম-১০ (হালিশহর-ডবলমুরিং) আসন, অপরটি চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা)। চট্টগ্রাম-১০ আসন গঠিত হওয়ার পর দুই মেয়াদে এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের টিকিটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ডা. আফছারুল আমীন। প্রথম মেয়াদে জয়ী হওয়ার পর তাকে নৌপরিবহনমন্ত্রী এবং পরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী করা হয়। আগামী সংসদ নির্বাচনেও এ আসন থেকে মনোনয়ন চাইবেন আফছারুল আমীন। তবে এ আসনে রয়েছে তার বেশ কয়েকজন প্রতিদ্বন্দ্বী। এ আসনে বিএনপির একক প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এবার এ আসনে বর্তমান সাংসদ নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আফছারুল আমীন দলের মধ্যেই প্রবল বিরোধিতার মুখে রয়েছেন। বিগত দুই নির্বাচনে বিজয়ী আফছারুলের সঙ্গে দলীয় নেতা-কর্মীদের দূরত্ব যেমন রয়েছে, তেমনি এ আসনে তাঁকে চ্যালেঞ্জ জানাতে মাঠে রয়েছেন যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ মাহমুদ এবং আওয়ামী লীগের সদস্য সাইফুদ্দিন খালেদ এ আসনে নির্বাচন করতে আগ্রহী।

দলীয় মনোনয়ন দৌড়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান কিছুটা স্বস্তির মধ্যে রয়েছেন। কারণ, নির্বাচনী মাঠে এখন পর্যন্ত দলে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। ২০০৮ সালে হেরে গেলেও তিনি মাঠ ছাড়েননি। প্রতিটি ওয়ার্ডে ঘুরছেন। জনসংযোগ করছেন। এ আসনে তাঁকে চ্যালেঞ্জ জানাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ছাড়া আর কেউ নেই। কিন্তু দলীয় সূত্রের ভাষ্য, চট্টগ্রাম-১১ আসন আমীর খসরুর জন্য একপ্রকার বরাদ্দ। তাই অনেকটা নির্ভার নোমান।

১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে এ পর্যন্ত ছয়টি নির্বাচনের মধ্যে চারটিতে বিএনপি এবং দুটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। এবার দুই দলের প্রার্থীই মনে করছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তাঁদের জয় সুনিশ্চিত।

চট্টগ্রাম-১১ (হালিশহর-পতেঙ্গা)

বন্দর-পতেঙ্গা-ইপিজেড ও হালিশহর-ডবলমুরিং-সদরঘাটের অংশবিশেষ নিয়ে এই সংসদীয় আসনটি গঠিত। এই আসন থেকে সর্বশেষ ছয়টি সংসদ নির্বাচনের মধ্যে চারটিতে বিএনপি প্রার্থী বিজয়ী হন। এর মধ্যে একবার দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বিজয়ী হয়েছিলেন। আসনটিকে ‘বিএনপির ঘাঁটি’ বলা হলেও টানা দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের এম আবদুল লতিফ।একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এই আসনে দীর্ঘদিন ধরেই মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা নৌকায় ভোট প্রার্থনা করছেন। অন্যদিকে মামলার কারণে বিএনপির কর্মীদের মাঠে কম দেখা যাচ্ছে। বিরোধী দল জাতীয় পার্টির কর্মীদেরও এলাকায় তেমন দেখা যাচ্ছে না।

বর্তমান সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফ চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং চারটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে প্রায় ২৬ হাজার ভোটে পরাজিত করে প্রথমবার সংসদ সদস্য হন আবদুল লতিফ। গত নির্বাচনেও এই আসন থেকে তিনি সংসদ সদস্য হন। এবারও তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশী। ক্ষতমাসীন দলের আরো বেশ কজন নেতাও এ আসনে প্রার্থী হতে চান। তারা হলেন- চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন, একই কমিটির সহসভাপতি ও নগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, নগর আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম বাহাদুর প্রমুখ।

এ আসনে টানা তিনবারের সংসদ সদস্য সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাবেন এটা প্রায় নিশ্চিত। এ আসনে তার বিকল্প অন্য কেউ আছে বলে মনে করে না, গত সংসদ নির্বাচন বয়কট করা দলের নীতি নির্ধারকেরা। জাতীয় পার্টি থেকে গত নির্বাচনে এই আসনে দলের টিকিট পান দলের ভাইস চেয়ারম্যান মোরশেদ মুরাদ ইব্রাহিম। চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক এ সভাপতি এবারওেএ আসনে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া)

চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরী। দুই মেয়াদে এখানে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। ফলে আসনটি ধরে রাখতে চায় দলটি। অন্যদিকে আসনটি পুনরুদ্ধারে তৎপর বিএনপি। বিভক্তি ও কোন্দলের কারণে পটিয়ায় অস্বস্তিতে রয়েছেন প্রধান দুই দলের নেতারা।

আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরী এবারও এ আসনে মনোনয়ন চাইবেন। পাশাপাশি দলীয় মনোনয়ন চাইছেনপোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সমিতির (বিজিএমইএ) প্রথম সহসভাপতি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. নাছির, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং চট্টগ্রাম জেলা চট্টগ্রাম জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চেমন আরা তৈয়ব ও যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা বিভাগ) মুহাম্মদ বদিউল আলম।

বিএনপির মনোনয়ন আলোচনায় আছেন সাবেক সংসদ সদস্য গাজী শাহজাহান জুয়েল, সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহসভাপতি ইদ্রিস মিয়া ও দলের একই শাখার সহসভাপতি এনামুল হক এনাম। জাতীয় পার্টির মনোনয়ন চান সাবেক সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ও সামশুল আলম মাস্টার। এলডিপি থেকে দলটির কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক এম এয়াকুব আলী নির্বাচন করতে চান। সিপিবির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম ও ইসলামী ফ্রন্ট থেকে গাজী মনজুরুল করিম রেফায়ী প্রার্থী হবেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলি)

জেলার এ আসনটি আনোয়ারা উপজেলা এবং কর্ণফুলি উপজেলা নিয়ে গঠিত। এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ভূমিপ্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। এবারও তিনি এ আসন থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় আরো আছেন আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য আতাউর রহমান খান কায়সারের মেয়ে নারী সাংসদ ওয়াসিকা আয়েশা খান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নুরুল কাইয়ুম খান ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহজাদা মহিউদ্দিন। তবে আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রয়াত আখতারুজ্জামান চৌধুরীর বাবু’র জ্যেষ্ঠ পুত্র জাবেদকে এলাকায় প্রভাব ও পারিবারিক ঐতিহ্য মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে রেখেছে।

বিএনপি তাদের এই হারানো আসনটি পুনরুদ্ধারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে দলীয় কোন্দলের কারণে আসনটি পুনরুদ্ধার নিয়ে সংশয়ে আছে দলটির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। এ আসনে বিএনপির বেশ কয়েকজন মনোনয়ন প্রত্যাশী ভোটের মাঠে আছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন গত তিন বারের সংসদ সদস্য ও বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মো. আলী আব্বাস ও বিএনপি নেতা মোস্তাফিজুর রহমান। মনোনয়নের জন্য তাঁরা কেন্দ্রে দৌঁড়ঝাপ করছেন বলে তাদের অনুসারীরা জানিয়েছেন। তবে বিএনপির মনোনয়ন লড়াইয়ে এগিয়ে আছেন সাবেক সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম।

এ আসনটিতে আরো প্রার্থী হচ্ছেন ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব এম এ মতিন ও জাতীয় পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরের সিনিয়র সহ সভাপতি তপন চক্রবর্তী।

চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া)

জেলার চন্দনাইশ উপজেলা এবং সাতকানিয়া উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়ন, কালিয়াইশ ইউনিয়ন, বাজালিয়া ইউনিয়ন, ধর্মপুর ইউনিয়ন, পুরানগড় ইউনিয়ন ও খাগরিয়া ইউনিয়নি নিয়ে এ আসনটি গঠিত। এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ক্ষমতাসীন দলের আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম চৌধুরী। ২০১৪ সালে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত এ সংসদ সদস্য এবারও নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নে অংশ নিতে চান। তবে এ আসনে তার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান। এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন তালিকায় আরো আছেন সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আফসার উদ্দিন আহমেদের ছেলে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার অন্যতম আইনজীবী ব্যারিস্টার ইমতিয়াজ উদ্দিন আসিফ, চন্দনাইশের তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা ও চট্টগ্রাম রিহ্যাবের সভাপতি আবদুল কৈয়ুম চৌধুরী প্রমুখ।

চট্টগ্রাম-১৪ আসনটিকে ধরা হয় কর্নেল (অব) অলি আহমদের আসন হিসেবে। মোট ছয়বার তিনি এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এরধ্যে পাঁচবার তিনি বিএনপির প্রাথী হিসেবে এবং একবার নিজের এলডিপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে জয়ী হন। কর্নেল অলি এবার এ আসনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক এলডিপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে পারেন। আর যদি বিএনপি জোটগত নির্বাচন না করে সে ক্ষেত্রে অলি আহমদ তাঁর দল থেকে প্রার্থী হতে পারেন। যদি বিএনপি জোটগত নির্বাচন না করে সে ক্ষেত্রে অলি আহমদ তাঁর দল থেকে প্রার্থী হতে পারেন। অন্যদিকে তখন বিএনপির একাধিক নেতা দলীয় মনোনয়ন চাইবেন বলে আলোচনা রয়েছে। তাঁদের মধ্যে আছেন ২০০৮ সালে বিএনপির পরাজিত প্রার্থী মিজানুল হক চৌধুরী এবং দলের চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন।

এ আসনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটের অন্যতম শরিক দল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ-ইনু) চট্টগ্রাম মহানগর শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ ওসমান গনি চৌধুরীও (অভিক ওসমান) মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।

চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া-সাতকানিয়া)

আসনটি চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া উপজেলা এবং সাতকানিয়া উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে তৎকালীন জামায়াত নেতা ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভীকে কাছে টেনে অনেকটা কাকতালীয়ভাবে এ আসন দখলে নেয় আওয়ামী লীগ। এর আগে প্রতিটি সংসদ নির্বাচনে হয় বিএনপি; না হয় জামায়াতের প্রার্থী জয়লাভ করেন এ আসন থেকে।তাই বিএনপি ও জামায়াত জোট চায় আসনটি পুনরুদ্ধার করতে। আওয়ামী লীগ চায় জয় আঁকড়ে ধরতে। ফলে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি-জামায়াত জোট দু’পক্ষই এই আসন নিয়ে রয়েছেন টেনশনে।

বর্তমান সংসদ সদস্য ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী জামায়াত ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেয়ায় তাকে নিয়ে দলে বিতর্ক আছে। বর্তমান সংসদ সদস্য ছাড়াও এ আসনে মনোনয়ন চাইছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, দলের সাতকানিয়া উপজেলা শাখার সভাপতি ব্যবসায়ী এম এ মোতালেব, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়াম লীগ নেতা আবু সুফিয়ান, জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এ কে এম সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মঈনউদ্দিন হাসান চৌধুরী, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. আ ম ম মিনহাজুর রহমান ও লোহাগাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খোরশেদ আলম চৌধুরী।

এ আসনে সর্বশেষ ১৯৯৬ সালে তৎকালীন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীরবিক্রম) নির্বাচিত হয়েছিলেন। তখন দক্ষিণ চট্টগ্রামে বিএনপির রাজনীতিতে ছিল তাঁর একচ্ছত্র আধিপত্য। কিন্তু ২০০৬ সালে তিনি বিএনপি ছেড়ে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) গঠন করেন। সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার অধিকাংশ নেতাকর্মী তখন এলডিপিতে যোগদান করে। ওই সময় থেকে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এখানকার বিএনপি। এ আসনে একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন দলের চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা শাখার জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও সাতকানিয়া উপজেলা শাখার সভাপতি শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, দক্ষিণ জেলা শাখার স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক ও সাতকানিয়া শাখার সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, দক্ষিণ জেলা শাখার প্রচার সম্পাদক নাজমুল মোস্তফা আমিন ও যুগ্ম সম্পাদক আবদুল গফ্ফার চৌধুরী।

১৯৯১ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে এ আসনে জামায়াতের শাহজাহান চৌধুরী বিজয়ী হন। ২০০৮ সালে আইনগত জটিলতায় তিনি আর নির্বাচন করতে পারেননি। তৎকালীন চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমির আ ন ম শামসুল ইসলাম নির্বাচন করে জয়লাভ করেন। ২০ দল থেকে জামায়াত প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী এবার মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী)

জেলার এ আসনটিতে বাঁশখালী আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সুলতানুল কবির চৌধুরী ১৯৯১ সালে জিতেছিলেন। এরপর প্রতিটি নির্বাচনেই আওয়ামী লীগ হেরেছে। এই পরাজয়ের কারণ হলো কোন্দল। দক্ষিণ চট্টগ্রামে কোনো একক আসন হিসেবে বাঁশখালীতেই আওয়ামী লীগে সবচেয়ে বেশি বিভক্তি ও কোন্দল। এ আসনে ক্ষমতাসীন দলের বর্তমান এমপি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী। এবারও এ আসন থেকে তিনি নির্বাচন করতে চান। তবে বর্তমান এমপিকে চ্যালেঞ্জ জানাতে মাঠে আছেন দলের দুই শক্তিশালী প্রার্থী। তারা হলেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের নেতা আবদুল্লাহ কবির লিটন ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক মুজিবুর রহমান। এদের মধ্যে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মরহুম আকতারুজ্জান চৌধুরী বাবুর ভাগ্নে আবদুল্লাহ কবির লিটনের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী ১৯৯৬ সাল থেকে এ আসনে টানা চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ছিলেন পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী। এবারও তিনিই এ আসনে বিএনপির একক প্রার্থী। তবে সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট কফিল উদ্দিন চৌধুরীর জন্য শরিক দলের হয়ে আসনটি চায় এলডিপি। তিনি এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য।জোটবদ্ধভাবে ভোট হলে বিএনপির শরিক এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য এডভোকেট কফিল উদ্দিন চৌধুরী আসনটি চাইতে পারেন। আবার উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বাঁশখালী উপজেলা চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলামও এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী।

এদিকে জাতীয় পার্টি থেকে এ আসনে নির্বাচন করতে চান চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী । আওয়ামী লীগের কোন্দলের কারণে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে জোটের প্রার্থী করা হতে পারে মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীকে।

চট্টগ্রাম