• মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ২৯ কার্তিক ১৪২৪
  • ||

৫ জানুয়ারী গণতন্ত্রকে কলঙ্কিত করা হয়েছিল: মোস্তফা

প্রকাশ:  ০৫ জানুয়ারি ২০১৮, ১৩:৫৭
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর ভোটারবিহীন নির্বাচনের নামে এক তামাশার আয়োজন করা হয়েছিল। সেদিন মূলত একদলীয় নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে কলঙ্কিত করা হয়েছিল। অংশগ্রহনহীন প্রহসনের সেই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির ইতিহাসে এক কলঙ্ক লেপিত হয়েছিল। যার দায়ভার বাংলাদেশকে বহুকাল বহন করতে হতে পারে।

শুক্রবার নয়াপল্টনস্থ যাদু মিয়া মিলনায়তনে ‘৫ জানুয়ারী গণতন্ত্রের কালো দিবস উপলক্ষে’ বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ ঢাকা মহানগর আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা উপরোক্ত বক্তব্য রাখেন।

ঢাকা মহানগর সদস্য সচিব মো. শহীদুননবী ডাবলু’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন ২০ দলীয় জোট নেতা ও বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া। আলোচনায় অংশ নেন গণতান্ত্রিক ঐক্যের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম, এনডিপি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, ন্যাপ যুগ্ম মহাসচিব স্বপন কুমার সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ কামাল ভুইয়া, ন্যাপ নগর যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম, যুব নেতা আবদুল্লা আল কাউছারী প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেছেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির ইতিহাসে যে কলঙ্ক লেপিত হয়েছে তা থেকে জাতিকে মুক্ত করতে হবে। আর মুক্তির পথ হচ্ছে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দেয়া এবং টেকসই গণতন্ত্র। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দিতে হলে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরী করতে হবে। গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করতে সরকারের উচিত দেশের সকল নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয়ে জাতীয় সংলাপের আয়োজন করা।

তিনি বলেন, ২০১৪ সালের একদলীয় নির্বাচন জোটগতভাবে বর্জন করা হলেও গণতন্ত্রের কালো দিবস জোটগতভাবে পালন করা সম্ভব হচ্ছে না। আর এর জন্য দায়ি আমাদের আত্মঅহংকার। তবে, এটি দিবালোকের মত স্পষ্ট এভাবে চলতে থাকলে গণতন্ত্রবিরোধী শক্তিকে রুখে দাড়ানো সম্ভব হবে না। হয়তো এজন্য দেশপ্রেমিক শক্তিকে কঠিন মূল্য পরিশোধ করতে হতে পারে।

গোলাম মোস্তফা ভুইয়া আরো বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী ভোটারবিহীন একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে হত্যা করেছে। যে গণতান্ত্রিক ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য এক সাগর রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করেছি আওয়ামী লীগ বারবার সেই গণতান্ত্রিক চেতনাকে আঘাত করেছে। এখন দেশে মূল সংকট গণতন্ত্রের সংকট। এ সংকটের সৃষ্টি হয়েছে ৫ জানুয়ারি ২০১৪ সালের নির্বাচনে; যে নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর বিরাট আঘাত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের কাছে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব কিছুই নিরাপদ নয়। আমরা কে কি করলাম এটি বিষয় নয়, ইতিহাসের ধারাবাহিকতার অনিবার্য পরিণতি থেকে স্বৈরশাসক আওয়ামী লীগের মুক্তি নাই।

সভাপতির বক্তব্যে মো. শহীদুননবী ডাবলু বলেন, জনরোষের মুখে গণআন্দোলনের মধ্য দিয়েই ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত স্বৈরাচারের পতন হবে। বাংলাদেশ একটি পৈশাচিক হত্যার দেশে পরিণত হয়েছে। দেশ আজ এক চরম সংকটে পতিত হয়েছে। এই সংকট গণতন্ত্রের। এ সংকট থেকে বের হওয়ার জন্য অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন দরকার, যেখানে সব দলের অংশগ্রহণ থাকবে। এর বাইরে গোঁজামিলের রাজনীতির সুযোগ নেই।

/কেএইচ/কেকে

apps