• বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৭, ২ কার্তিক ১৪২৪
  • ||
  • আর্কাইভ

বাংলাদেশেও ‘রাম-রহিম’, মুখোশ খুললেন স্ত্রী

প্রকাশ:  ১২ অক্টোবর ২০১৭, ২১:২৬ | আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০১৭, ২২:২০
জামালপুর প্রতিনিধি
প্রিন্ট

গুরমিত রাম রহিম সিং, ভারতের আলোচিত নাম। কথিত ধর্মগুরু। পাঞ্জাব রাজ্যের নিজ ডেরার দুই সাধ্বীকে ধর্ষণের দায়ে ২০ বছর জেল হওয়ার পর একের পর এক উঠে আসে এই বাবার অপকর্ম।

কিভাবে তিনি ডেরার সেবকদের নপুংসক করতেন, সাধ্বীদের দিয়ে যৌন লালসা মেটাতেন। এমনকি পালিত কন্যা হানিপ্রীত ইনসানের সঙ্গেও তার বিকৃত যৌনাচারের ফিরিস্তি সবার মুখে মুখে।

বাংলাদেশেও দেখা মিলেছে এমন কথিত পীরের। নিজ মাজারে তরুণীদের ধর্ষণ, গুম ও হত্যাসহ তার যৌন লালসার মুখোশ উন্মোচন করেছেন স্বয়ং স্ত্রী ফাতেমা বেগম।

কথিত এই পীরের নাম কামাল খান জামালী। বৃহস্পতিবার সকালে বাগে আবেদ দরবার শরীফ চত্বরে এক সংবাদ সম্মেলন তার মুখোশ উন্মোচন করা হয়। মরহুম পীরে কামেল হযরত শাহ সুফী ময়েন উদ্দীন খান জামালীর ভক্ত-আশেকান ও প্রতিবেশীরা এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।

সেখানেই লিখিত বক্তব্যে কথিত পীর কামাল খানের স্ত্রী ফাতেমা বেগম বলেন, ‘আমার শ্বশুর বাগে আবেদ দরবার শরীফের পীর হযরত মঈন উদ্দিন খান জামালী একজন কামেল বুজুর্গ ব্যক্তি ছিলেন। জামালপুর ছাড়াও দেশের হাজার হাজার ভক্ত ও আশেকানরা এই দরবার শরীফে প্রতিবছর ওরশে আসতেন। এছাড়াও সারা বছরই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভক্ত-আশেকানরা এখানে আসা-যাওয়া করতেন।’

তিনি বলেন, ‘আমার শ্বশুর (পীর বাবা) মারা যাবার পর আমার শাশুড়ি (পীর আম্মা) উত্তরাধিকার সূত্রে দরবার পরিচালনার দায়িত্ব পান এবং সুনামের সঙ্গে পরিচালনা করেন। তখনও ভক্ত-আশেকানের কোনো কমতি ছিল না। পীর আম্মা অসুস্থ হবার পর শুরু হয় কামালের উশৃঙ্খল জীবন-যাপন।’

ফাতেমার ভাষ্যে, ‘এক পর্যায়ে পীর আম্মাকে সরিয়ে নিজেকেই পীর ঘোষণা দেন কামাল খান। এরপর থেকে দরবার শরীফের বিশেষ কক্ষে শুরু হয় নারীভোগ। সেখানে রাতভর চলে মদ-গাঁজার আসর। আমাকে ছাড়াও ৫টি বিয়ে করেন তিনি।’

কথিত পীরের স্ত্রী লিখিত বক্তব্যে আরো বলেন, ‘১৯৯৮ সালে দরবার সংলগ্ন জনৈক এক দরিদ্র পরিবারের স্কুল পড়ুয়া মেয়েকে ধর্ষণ করে গুম করেন আমার স্বামী। ওই সময়ে পীরের এই অসামাজিক কার্যকলাপের ঘটনা পত্রপত্রিকায় প্রকাশ হওয়ায় পুলিশ প্রশাসন কিশোরীকে উদ্ধার এবং কামালকে গ্রেপ্তার করে নারী নির্যাতন মামলায় আদালতে সোপর্দ করে। ওই মামলায় ৬ মাস হাজতবাসের পর ক্ষতিপূরণ দিয়ে খালাস পান কথিত পীর কামাল।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, ‘ভণ্ড কামাল ২০০৬ সালে মেলান্দহের ঝাউগড়া এলাকার এক মেধাবী ছাত্রীকে চিকিৎসার নামে ধর্ষণের পর হত্যা করে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখেন। পরে তার ভক্তদের দিয়ে দ্রুত দাফন করলেও পত্রপত্রিকায় রিপোর্ট প্রকাশের পর স্থানীয় প্রশাসন লাশ উত্তোলন করে বিচারের মুখোমুখি করেন। সে যাত্রায়ও টাকা দিয়ে পার পান তিনি।’

‘পীর কামাল এই ঘটনার পর থেকে দরবার শরীফের বিশেষ কক্ষটি রংমহল হিসেবে ব্যবহার শুরু করেন। চলতে থাকে একের পর এক অসামাজিক কার্যকলাপ। কামালের ওই রংমহল থেকে উদ্ধার হয় নারীর ঝুলন্ত লাশ। কামালের এসব অসামাজিক কার্যকলাপে মুখ ফিরিয়ে নেয় হাজার হাজার ভক্ত।’

এই অসামাজিক কার্যকলাপের প্রতিবাদ করতে গিয়ে অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হন কথিত পীর কামালে স্ত্রী ফাতেমা বেগম। বাবার ভয়ে ২০ বছর নির্বাসনে কাটাতে হয় তার বড় ছেলে ফয়ছাল খান বাবুকে।

কথিত পীর কামালের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে দরবার শরিফের পার্শ্ববর্তী বগাবাইদ, মাইনপুরসহ আশপাশের গ্রামের মানুষেরা। ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে বগাবাইদ ও আশপাশের গ্রামের মানুষ। জনতার বিক্ষোভের মুখে জনরোষ থেকে বাঁচতে দরবার ছেড়ে পালিয়ে যান পীর কামাল।

স্থানীয় লোকজন ও ভক্ত আশেকানরা দরবার শরীফটি রক্ষায় কথিত পীর কামালের বিচারের দাবি জানান।

সংবাদ সন্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- কতিথ পীর কামালের ছেলে ফয়সাল খান বাবু, ছোট ছেলে রিয়াদ খান ও মেয়ে উর্মিসহ আশেকান ও এলাকার বাসিন্দারা।

close