• শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭, -৩ পৌষ ১৪২৪
  • ||
  • আর্কাইভ

কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই সাংবাদিকদের কাজ করতে হয়: ইকবাল সোবহান চৌধুরী

প্রকাশ:  ০১ ডিসেম্বর ২০১৭, ২৩:৫৯ | আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০১৭, ০০:১৫
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

দেশের বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সত্য বলা সবচেয়ে কঠিন কাজ। সর্ব ক্ষেত্রেই অবক্ষয়ের ফলে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে মন্তব্য করে দেশের বিশিষ্ট গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা আগামীদিনে গণতন্ত্র বিকাশ ও অসাম্প্রদায়িক দেশ গঠনে গণমাধ্যমকে আরো দায়িত্বশীল সাহসী ভূমিকা পালনের আহবান জানিয়েছেন। শুক্রবার ঢাকা ক্লাবে পূর্ব পশ্চিম অনলাইন নিউজ পোর্টালের ২য় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তারা এমন আহবান জানান। 

তরুণ প্রজন্মের জনপ্রিয় নিউজ পোর্টাল পূর্ব পশ্চিম বিডির ২য় বর্ষপূতিতে ঢাকা ক্লাবে সকাল থেকেই দিনব্যাপী কর্মশালার আয়োজন করা হয়। দুইপর্বের এই বর্ণাঢ্য আয়োজনের প্রথম পর্বের প্রতিনিধি সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন করেন নারী ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকী। অনুষ্ঠানের শুরুতেই পূর্ব পশ্চিম অনলাইনের পক্ষ থেকে সদ্য প্রয়াত ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হকের রুহের মাগফেরাত কামনা করে তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। একইসঙ্গে পূর্ব পশ্চিম বিডি নিউজের নিখোঁজ সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার নিখোঁজ উৎপল দাসের সন্ধানে সরকারকে আরো উদ্যোগী হওয়ার দাবীও জানানো হয়। 

উদ্বোধনী বক্তব্য প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকী বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের স্লোগান নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার দেশের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় গণমাধ্যম একটি বড় ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছে। তবে এর ব্যতিক্রম আছে। কিছু কিছু গণমাধ্যমের কতিপয় সংবাদকর্মী তাদের ব্যক্তি স্বার্থে হাসিল করতে ভুল তথ্য দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করছে। তিনি বলেন, সামনে আমাদের জাতীয় নির্বাচন। জাতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ে গণমাধ্যমকে আরো দায়িত্বশীল ও সর্তক থাকতে হবে। ভবিষ্যৎ পথ চলায় পূর্ব পশ্চিম দেশের গণতন্ত্র বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেও প্রতিমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন পূর্ব পশ্চিম নিউজের সম্পাদক খুজিস্তা নুর ই নাহরীন মুন্নি। সভায় জেলা প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্য দিক নির্দেশনা মূলক বক্তব্য রাখেন প্রধান সম্পাদক পীর হাবিবুর রহমান ও উপদেষ্টা এবিএম জাকিরুল হক টিটন। 

বেলা আড়াইটায় দ্বিতীয় পর্বের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্ঠা ইকবাল সোবহান চৌধূরী, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী, আমাদের অর্থনীতির সম্পাদক নাইমুল ইসলাম খান ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই সাংবাদিকদের কাজ করতে হয়। বিশেষ করে জেলা পর্যায়ে যারা কাজ করেন তাদের ঝুকিঁ বেশি। তিনি বলেন, সমাজের সবক্ষেত্রেই অবক্ষয় হয়েছে। যারফলেই আমাদের সমাজে নানা অস্তিরতা দেখা যাচ্ছে। এই অবক্ষয়ের মধ্যেও নান প্রতিকূলতা ও বাধা মোকাবেলা একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনে দেশের মিডিয়া ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেসরকারি খাতে গণমাধ্যম বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন। ইকবাল সোবহান বলেন, নিশ্চয় সাংবাদিক হিসেবে আমরা নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েই থাকব। তবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অসম্প্রদায়িক বাংলাদেশ, জঙ্গীবাদের মতো ইস্যুগুলোতে আমাদের নিরপেক্ষ থাকার কোনো সুযোগ নেই।

নাঈমুল ইসলাম খান বলেন, বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে মফস্বল সাংবাদিকতা বলতে কোনো কিছু নাই। সাংবাদিকতার কোনো সীমানা নেই। অর্থনৈতিকভাবে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে থেকেও আমাদের দেশে সাংবাদিকরা কাজ করে যাচ্ছে। নানা কারণে পুরোপুরি স্বাধীনভাবে গণমাধ্যমগুলো কাজ করতে পারছে না বলেও তিনি মনে করেন। 

বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম তার বক্তব্যে বলেন, অনেক কঠিন প্রতিকূলতা মোকাবেলা করেই গণমাধ্যমকে পথ চলতে হয়। সামনে আরো কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ না করলে জাতি হিসেবে আমাদের অস্তিত্ব থাকবে না। সেই চেতনাকে ধারণ করেই আমাদের পথ চলতে হবে।

প্রধান সম্পাদক পীর হাবিবুর রহমান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও দেশের গণতন্ত্র বিকাশে ভূমিকা পালনে কোনো আপোষ করার সুযোগ নেই। তবে ক্ষমতাবান লুটেরা, সুবিধাবাদী, গডফাদারদের বিরুদ্ধে পূর্ব পশ্চিম সব সময় সোচ্চার রয়েছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। যত ঝুকিই থাকুক সামাজিক ও রাজনৈতিক অসঙ্গতি আমরা তুলে ধরব। বস্তুনিষ্ট সংবাদ পরিবেশন করব।

সভাপতির বক্তব্যে নুর ই নাহরীন মুন্নি বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সত্য কথা বলা সবচেয়ে কঠিন কাজ। সত্যকে আমরা মেনে নিতে পারি না। তারপরও শত প্রতিকূলতা ও প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও আমাদের সত্য প্রকাশ করতে হবে। পূর্ব পশ্চিম সেই চেষ্টাই করে যাচ্ছে।  তিনি বলেন, প্রযুক্তি আমাদেরকে অনেক এগিয়ে নিয়েছে। প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার করে আমাদের একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে একসাথে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে মিডিয়া ব্যক্তিত্বরা র্পূব পশ্চিমের উজ্বল ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন।

 

close