• শুক্রবার, ২০ জুলাই ২০১৮, ৫ শ্রাবণ ১৪২৫
  • ||

জ্যোতিষীর চোখে

বাংলাদেশ কেমন যাবে ২০১৮ সাল

প্রকাশ:  ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৫:২০
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক
প্রিন্ট

১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত সারা বছরের গ্রহাবস্থান বিশ্লেষণ করে জ্যোতিষরা বলছেন, এ বছরটা বাংলাদেশের জন্য ভালোই যাবে। এ বছর খাদ্য উৎপাদন বাড়বে। সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো যেতে পারে। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের প্রেরিত রেমিট্যান্স বৃদ্ধির ফলে সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি অব্যাহত থাকবে। জনশক্তি রপ্তানি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ-দুর্বিপাক বিশেষ করে ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা প্রভৃতি কারণে খাদ্যোত্পাদন কিছুটা ব্যাহত হলেও সামগ্রিকভাবে উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোটামুটি স্থিতিশীল থাকবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি-অক্ষুণ্ন থাকবে বলে আশা করা যায়। তবে অপশক্তিগুলো সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি নষ্টের অপতৎপরতা চালাতে পারে। সেক্ষেত্রে তাদের সাফল্যের আশঙ্কা নেই বললেই চলে।

দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা র‌্যাব, সেনা, পুলিশ, বিজিবি, নৌ, বিমান বাহিনীতে জনবল বৃদ্ধি পাবে। এ বছর বস্ত্র, চিংড়ি, কাঁকড়া, চামড়া, কুঁচে প্রভৃতি রপ্তানিতে অভাবনীয় সাফল্য লাভ হবে। উচ্চশিক্ষা ও যোগ্যকর্ম লাভের আশায় বিদেশ যাত্রা বাড়বে বৈকি কমবে না। অগ্নি রাশি মেষে ইউরেনাস অবস্থান করার ফলে দেশে এ বছর অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে। অপ্রত্যাশিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দুর্ঘটনাজনিত কারণে হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে। বায়ু রাশি কুম্ভে রহস্যজনক গ্রহ নেপচুন অবস্থান করছে। ফলে প্রকৃতি সারা বছরই রহস্যজনক আচরণ করতে পারে। ছোট বা মাঝারি ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

বিশ্বব্যাংকসহ বেশ কিছু দাতা সংস্থা বাংলাদেশের ওপর সাহায্যের হাত বাড়িয়ে ধরায় বিদ্যুৎ উৎপাদন, গ্যাস, উত্তোলন, সামুদ্রিক বন্দর, প্রতিস্থাপন, সুন্দরবন রক্ষা, মেট্রোরেলসহ রেল লাইনের প্রসার, মৃত প্রায় শিল্প কলকারখানা চাঙ্গা, নতুন বিমানবন্দর নির্মাণ তথা যোগাযোগ ব্যবস্থার বিপুল উন্নয়ন সাধিত হওয়ায় বহু কর্ম সংস্থানের সৃষ্টি হবে। তবে এ বছর দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকবে। ফলে জনজীবনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। কতিপয় রাজনীতিবিদ ও বিশিষ্ট আমলার চাঞ্চল্যকর কোনো দুর্নীতি-দুষ্কর্মের তথ্য ফাঁস হয়ে যেতে পারে। আগামী বছরের জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনীতির মাঠ উত্তপ্ত থাকবে এবং সংঘাত-সহিংসতা বৃদ্ধি পেতে পারে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হওয়ার সম্ভাবনা আছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বিদ্যমান থাকলেও রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটতে পারে। মিয়ানমারের উপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ থাকা সত্ত্বেও রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে খুব একটা অগ্রগতির সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

এ বছরসন্ত্রাসবাদী জঙ্গি তত্পরতা, রাজনৈতিক সহিংসতা, শাসকদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ফলে ছাত্র ও যুব সমাজের ভিতরে সন্ত্রাস-সহিংসতার মাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে। হত্যা, গুম, খুন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথাকথিত ক্রসফায়ার, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই প্রভৃতি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড তুলনামূলকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। যানবাহন দুর্ঘটনার পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী গোষ্ঠী ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করবে এবং সন্ত্রাস-সহিংসতায় নৈরাজ্য সৃষ্টি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের প্রয়াস করতে পারে। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও দেশের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডসমূহ অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা যায়।

/এসএইচ