• শুক্রবার, ২০ জুলাই ২০১৮, ৫ শ্রাবণ ১৪২৫
  • ||

নতুন বছরে কি ঘটতে যাচ্ছে?

প্রকাশ:  ০১ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:২৮ | আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:৪৪
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক
প্রিন্ট

ইতিহাসের কখনো পুনরাবৃত্তি হয়। আবার কখনো হয় না। নতুন বছরে কী হবে? মহাকালের চাকা ঘুরছে। হারিয়ে গেছে আরো একটি বছর। এই লেখা যখন রচিত হচ্ছে তখনো ক্যালেন্ডারে ২০১৭। পাঠকের হাতে পত্রিকা পৌঁছার আগেই যাত্রা শুরু হবে নতুন বছরের।

বিগত বছর কেমন গেছে তা সবারই জানা। কিন্তু কেমন যাবে ২০১৮? কী ভাবছেন পর্যবেক্ষকরা। নিশ্চিত করে বলা যায় না। তবে একটি বিষয় হলফ করেই বলা যায়, ২০১৮ রাজনীতির গতি নির্ধারক বছর হতে চলেছে। বছরের শুরুর দিকে বিরোধী নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দুর্নীতির মামলায় রায় ঘোষণা করা হবে। এ রায় কী হবে তা নিয়ে এরইমধ্যে বিএনপির মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। বড় কোনো ব্যতিক্রম না ঘটলে ডিসেম্বরে আগামী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কেমন হবে ওই নির্বাচনের মডেল। আওয়ামী লীগ কি আরেকটি ওয়াকওভার পেতে চলেছে।

প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হলে কেমন করবে ক্ষীণশক্তির বিএনপি। গত কয়েক বছর ধরেই রাজনীতির মাঠ ঠাণ্ডা। তবে নতুন বছরের শুরুতেই ময়দান উত্তপ্ত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট’ মামলার রায় ঘোষণা হবে বছরের শুরুতে। গত এক দশকের বেশি সময় ধরে কঠিন সময় অতিক্রম করছে বিএনপি। দলটির হাজার হাজার নেতাকর্মীকে মামলা-গ্রেপ্তারের মুখোমুখি হতে হয়েছে। শিকার হতে হয়েছে গুম-খুনের। সহিংসতায়ও জড়িয়ে পড়েন নেতাকর্মীদের একটি অংশ।

একের পর এক আঘাতে বিএনপি এখন অনেকটাই বিপর্যস্ত। দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পরিবারেরও একই অবস্থা। দলের দ্বিতীয় প্রধান নেতা তারেক রহমান নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন। এ অবস্থায় মামলার রায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গেলে বিএনপিকে আরো কঠিন সংকটের মধ্যে পড়তে হবে। যদিও অনেক পর্যবেক্ষকই মনে করেন, রায় বিরুদ্ধে গেলেও খালেদা জিয়া হয়তো নির্বাচনে অযোগ্য হবেন না। কারণ এরপর হাইকোর্ট এবং আপিল বিভাগ পর্যন্ত যাওয়ার সুযোগ থেকে যাবে তার সামনে। তবে খালেদা জিয়ার সাজার রায় হলে বিএনপি নির্বাচনে যাবে কি-না সে প্রশ্নও বড় হয়ে দেখা দেবে।

সংবিধান অনুযায়ী আগামী বছরের শেষ অথবা ২০১৯ সালের শুরুতে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা। তবে বেশিরভাগ পর্যবেক্ষকই মনে করেন, চলতি বছর ডিসেম্বর মাসেই নির্বাচন হবে। বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে সরকার কোনো দেন-দরবার করবে না সে বিষয়টি এখন অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে গেছে। যেকোনো ধরনের সংলাপের সম্ভাবনাও নাকচ করে দিয়েছে আওয়ামী লীগ। বিএনপির পক্ষ থেকে বারবারই আলোচনার কথা বলা হচ্ছে। আন্দোলনের মাধ্যমে নির্বাচনকালীন সরকার ইস্যুর সুরাহার কথাও বলছেন দলটির কোনো কোনো নেতা। কিন্তু সে সক্ষমতা দলটির রয়েছে কি-না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

বিগত বছরগুলোতে কয়েক দফায় বিএনপির আন্দোলন ব্যর্থ হয়েছে। বিএনপি সহযোগী দলগুলোর ওপর নির্ভর করে রাজপথের রাজনীতিতে সফল হওয়ার চেষ্টা করলেও তা হয়নি। উল্টো সহিংসতার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে। বিদেশি শক্তিগুলোও শেষ পর্যন্ত লিপ সার্ভিস ছাড়া বিএনপির জন্য কিছু করেনি। দিল্লিতে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর নয়াপল্টনে উল্লাস হলেও তাতে কোনো ফল মেলেনি। মোদির জমানায় ভারতের বাংলাদেশ নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বাংলাদেশ তথা এশিয়াতে পশ্চিমা শক্তিগুলোর প্রভাব ক্রমশ খর্ব হচ্ছে। চীনের প্রভাব বাড়ছে দিনকে দিন। গণতন্ত্র আর নির্বাচনের মতো ইস্যুকে যে দেশটি কখনোই গুরুত্ব দেয় না। তাহলে কেমন হবে আগামী নির্বাচন। বলা মুশকিল। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ কিছুদিন আগে বলেছেন, অনেককিছু নির্ভর করছে বিএনপির ওপর। আসলেই তাই। দলটি কি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নেবে। অংশ নিলে কি হবে, না নিলে কি হবে? অংশ নেয়ার মতো সুযোগ বা পরিবেশ কি থাকবে!

রাজনীতির নাটাই যে ক্ষমতাসীনদের হাতে- এ নিয়ে আলোচনার অবকাশ নেই। অনেক বছর ধরেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের কথাই শেষ কথা। সরকার যেভাবে চেয়েছে সবকিছু সেভাবেই এগিয়েছে। একের পর এক চ্যালেঞ্জ ক্ষমতাসীনরা জয় করেছেন অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে। রাজনীতির চালের লড়াইয়ে আশেপাশেও কেউ ছিলো না। সামনের দিনগুলোতেও কি এমনই যাবে তা দেখতে অপেক্ষা করতে হবে। তবে মাঠ গোছানোর লড়াইয়ে সরকারি দল এরইমধ্যে অনেকটা এগিয়ে গেছে। যদিও ঘরের ভেতর থেকে শক্ত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে আওয়ামী লীগকে। প্রার্থী বাছাই করা হবে সবচেয়ে কঠিন কাজ।

গত কয়েক বছরে আওয়ামী লীগ-বিএনপির বাইরে ভোটের রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য শক্তি ছিলো জাতীয় পার্টি-জামায়াত। যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের প্রায় সবারই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। দলটি নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধনও হারিয়েছে। আগামী দিনের রাজনীতিতে জামায়াতের তেমন কোনো ভূমিকা থাকার সম্ভাবনা নেই। ভোটের রাজনীতিতে জাতীয় পার্টি বা এরশাদের যেমন তেমন কোনো ভূমিকা রাখার সুযোগ নেই।

রাজনীতির গতি-প্রকৃতি একেবারেই স্পষ্ট। যদিও রাজনীতির পণ্ডিতরা বলে থাকেন, রাজনীতি নিয়ে বাজি ধরতে নেই।

সূত্র: মানবজমিন