• সোমবার, ২৮ মে ২০১৮, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
  • ||

পুতিনের বিরুদ্ধে লড়তে চান কে এই মুসলিম নারী

প্রকাশ:  ০১ জানুয়ারি ২০১৮, ১৫:৫৬
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক
প্রিন্ট
রাশিয়ার শক্তিধর প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে নির্বাচনী যুদ্ধের ময়দানে নামছেন একজন মুসলিম নারী। তার নাম আইনা গামজাতোভা। বয়স ৪৬ বছর। রাশিয়ার দাগেস্তানে তার বাসা। এরই মধ্যে তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও দিয়ে দিয়েছেন। এ বছরেই মার্চে রাশিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।

আইনা গামজাতোভা এর আগে ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা নিশ্চিত করেছেন। তার দু’দিন পরে শনিবার দাগেস্তানের রাজধানী মাখাচকালাতে তার বাসভবনে সমবেত হন কয়েক হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক। তারা একজন মুসলিম নারীর এমন সাহসিক সিদ্ধান্তের প্রতি প্রকাশ করেন অকুণ্ঠ সমর্থন। উল্লেখ্য, রাশিয়ায় মুসলিমদের জন্য সবচেয়ে বড় ইসলামিক মিডিয়া হলো ইসলাম ডট আরইউ। 

এর রয়েছে টেলিভিশন, রেডিও, প্রিন্ট মিডিয়া। এই সংগঠনের প্রধান হলেন আইনা গামজাতোভা। তিনি ইসলাম নিয়ে লিখেছেন অনেক বই। এ ছাড়া তিনি চালান একটি দাতব্য সংগঠন। তার স্বামীর নাম আখমাদ আবদুলায়েভ। তিনি দাগেস্তানের একজন মুফতি। দাগেস্তান এমন একটি প্রদেশ যেখানে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত বিদ্যমান। এতে নিহত হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ।
 এখানে আইনা গামজাতোভা অনুসরণ করেন সুফি মতবাদ। এ মতবাদের নেতৃত্বে ছিলেন সেখানে সাইদ আফান্দি চিরকাভি। ২০১২ সালে ককেসাস অঞ্চলে এক নারী আত্মঘাতীর বোমা হামলায় নিহত হন তিনি। এই মতবাদে সেখানে রয়েছে হাজার হাজার অনুসারী। আখমাদ আবদুলায়েভ হলেন আইনা গামজাতোভার দ্বিতীয় স্বামী। তার প্রথম স্বামীর নাম ধর্মীয় নেতা সাঈদ মুহাম্মদ আবুবকারোভ। ১৯৯৮ সালে গাড়িতে থাকা অবস্থায় তার ওপর বোমা হামলা হয়। 

এতে গাড়িসহ তিনি আকাশে উড়ে যান। তারপর যখন মাটিতে পড়েন তখন তিনি মৃত। তার শরীর ছিল ছিন্নভিন্নি। এ হত্যাকাণ্ডের ঘাতককে কখনোই খুঁজে পাওয়া যায় নি। উল্লেখ্য, মুহাম্মদ আবুবকারোভ প্রকাশ্যে সমালোচনা করতেন ওয়াহাবি সম্প্রদায়ের। তবে হত্যার হুমকি থাকা সত্ত্বেও একই ধারায় সমালোচনার তীর ছুড়েছেন আইনা গামজাতোভা। এখন এসবের বাইরে এসে তিনি নির্বাচনে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন সাবেক কেজিবি বস  পুতিনকে। 

রাশিয়ায় আছেন বিপুল সংখ্যক মুসলিম। ফলে আইনা গামজাতোভা নিজের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঘোষণা করায় তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে একরকম আনন্দ। কেউ কেউ বলছেন, তার এমন সিদ্ধান্ত নেয়া ঠিক হয় নি। তবে বেশির ভাগ মানুষই তার সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। দাগেস্তানের দু’সন্তানের মা ও মুসলিম পর্যবেক্ষক পাতিমাত ইব্রাগিমোভ বলেছেন, নৈতিক শিক্ষা হলো একজন নারীর উচিত তার স্বামী ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হওয়া। ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলিম হয়েছেন আয়েশা আনাস্তাসিয়া কোরচাগিনা। তিনি মস্কোতে একজন মনোবিজ্ঞানী হিসেবে কাজ করেন।

 তিনি বলেছেন, নিজের আইনগত অধিকার প্রয়োগ করায় সাহসী পদক্ষেপ দেখিয়েছেন আইনা গামজাতোভা। এমন অধিকার আছে প্রতিটি রাশিয়ান নাগরিকের। যেকেউ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে পারেন। এক্ষেত্রে সাহসের পরিচয় দিয়েছেন আইনা গামজাতোভা। অনেকেই মনে করছেন, তার এই সিদ্ধান্তে রাশিয়ার নারীদের ভাবমূর্তি উজ্বল হবে। অবহেলিতদের বিষয়ে মনোযোগ আকৃষ্ট হবে। দাগেস্তানের উপ ক্রীড়ামন্ত্রী ও অলিম্বিকের সাবেক বক্সিং চ্যাম্পিয়ন গাইদারবেক গাইদারবেকভ ইন্সটাগ্রামে এ নিয়ে একটি পোস্ট দিয়েছেন। 

তিনি তাতে লিখেছেন, নির্বাচনে যদি আইনা গামজাতোভা পরাজিতও হন তাহলে মানুষ জানতে পারবে একজন নারী শুধু হিজাবের ভিতরই আবদ্ধ থাকবেন বা শুধুই একজন মা হয়ে থাকবেন, শুধুই একজন নারী হয়ে থাকবেন না। একই সঙ্গে তারাও শিক্ষিত হতে পারেন, জ্ঞানী হতে পারেন এবং সম্মানীত নারী হতে পারেন এই বার্তাটিই প্রকাশ পাবে।