• শনিবার, ২৬ মে ২০১৮, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
  • ||

রাম রহিমের ডেরায় নারীদের হোস্টেল পাওয়া হার্ডডিস্কে কি আছে?

প্রকাশ:  ০২ জানুয়ারি ২০১৮, ১৭:০৩
আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
ফাইল ছবি
প্রিন্ট
রাম রহিম এখন কারাগারে। কিন্তু তাও খবরে উঠে আসছে ধর্ষক বাবার নাম। রাম রহিমের ডেরায় নারীদের হোস্টেল থেকে পাওয়া গেছে কয়েকটি পোড়া হার্ডডিস্ক। সেই হার্ডডিস্কগুলিই পরীক্ষা করে দেখার দায়িত্ব নিয়েছে এফবিআই। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হার্ডডিস্কের পিছনেও আরো কোন রহস্য রয়েছে কী-না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

প্রসঙ্গত, ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের ডেরা সাচা সওদার এই প্রধান ধর্মগুরুর পুরো নাম গুরমিত রাম রহিম সিং। পাঞ্জাব ও হরিয়ানার শহর ও গ্রামাঞ্চলে ডেরা সাচার বহু কেন্দ্র রয়েছে।  গত ২৮ অগস্ট, নিজেরই আশ্রমের দুই সাধ্বীকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা রাম রহিমের ২০ বছরের কারাদণ্ড ঘোষণা করা হয়। বহু চেষ্টা করেও এই শাস্তি এড়াতে পারেনি রাম রহিম। রাম রহিমের ছায়াসঙ্গিনী হানিপ্রীতও এখন জেলের ঘানি পিষছে। 

জানা যায়, ১৯৬৭ সালের ১৫ অগস্ট ভরতের রাজস্থানের গঙ্গানগর জেলার শ্রী গুরুসর মোদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন রাম রহিম। পড়াশোনা করেন গ্রামের স্কুলেই। তরুণ বয়স থেকেই আশপাশের মানুষের মন জয় করে নেন। বিশেষ করে দলিত ও পিছিয়ে পড়া শ্রেণির মানুষের মধ্যে খুবই জনপ্রিয় হন রাম রহিম। রক্তদান শিবির, বৃক্ষরোপণের মতো কাজ করে মানুষের মন জয় করতেন তিনি। অনলাইনে যোগের প্রশিক্ষণ দেওয়ায়ও তার সুনাম রয়েছে। 

নিজেকে সমাজসেবায় নিয়োজিত করে মেয়েদের জন্য হোস্টেল, হাসপাতাল এবং যৌনকর্মীদের পুনর্বাসনের মতো কাজ করেন এই ধর্মগুরু। ১৯৯০ সালে ডেরা সাচা সৌদা সংগঠনের প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হন। ব্যক্তিজীবনে রাম রহিমের তিন মেয়ে ও এক ছেলে। হরিয়ানার সিরসায় প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর তার ডেরা রয়েছে। তার সংস্থা এমএসজি ব্র্যান্ডের অর্গানিক মধু, নুডলস বিক্রি করে। ২০০৩ সালে গিনেস রেকর্ড করে ডেরা সাচা। বিশ্বের বৃহত্তম রক্তদান শিরিবের আয়োজনের মাধ্যমে সেই গিনেস রেকর্ড হয়। রাজনৈতিক দিক থেকে যথেষ্ট প্রভাবশালী রাম রহিম। 

২০১৪ সালে হরিয়ানার নির্বাচনে রাম রহিম বিজেপিকে সমর্থন করেন। বিহারের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির হয়ে প্রচারণায় নামেন তার সমর্থকরা। সন্ন্যাস পোশাকের বদলে চামড়া ও রাইনস্টোন রাম রহিমের খুব প্রিয়। তার পোশাক-আশাকে এ দুটিই বেশি দেখা যায়। রাম রহিমের বিরুদ্ধে রয়েছে তিনটি ফৌজদারি মামলা। ২০০২ সালে সিরসার এক সাংবাদিক রামচন্দ্র ছত্রপতিকে খুনের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। ওই একই বছরে ডেরার ম্যানেজার রঞ্জিত সিংহকে খুনের অভিযোগ ওঠে। ধর্মীয় গুরু ছাড়াও গায়ক হিসেবে ব্যাপক সুনাম রয়েছে রাম রহিমের। অভিনেতা হিসেবেও তার পরিচিতি রয়েছে। রাম রহিম ‘এমএসজি : দ্য মেসেঞ্জার’, ‘এমএসজি২ দ্য মেসেঞ্জার’, ‘এমএসজি : দ্য ওয়ারিয়র লায়ন হার্ট’ নামে তিনটি ছবিতে অভিনয় করেন। ব্রিটেনের ওয়ার্ল্ড রেকর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে সম্মানজনক ডক্টরেট ডিগ্রিও লাভ করেন এই ধর্মগুরু।