• মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ২৯ কার্তিক ১৪২৪
  • ||

সদরঘাট থানায় আত্মঘাতী হামলার পরিকল্পনা ছিল দুই জঙ্গির

প্রকাশ:  ০২ জানুয়ারি ২০১৮, ২১:০৮ | আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০১৮, ২১:১৪
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রিন্ট

গ্রেনেডসহ গ্রেপ্তার নব্য-জেএমবির দুই সদস্যকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ বলছে, বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সদরঘাট থানায় আত্মঘাতী হামলার পরিকল্পনা করেছিল তারা।

সোমবার রাতে গ্রেপ্তারের পর মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (গোয়েন্দা) হাসান মো. শওকত আলী।

তিনি বলেন, পুলিশের মনোবল ভেঙে দিতেই জঙ্গিরা সদরঘাট থানাকে হামলার লক্ষ্য হিসেবে বেছে নিয়েছিল। এরা নব্য জেএমবির একাংশ। ৫-৬ জনের ছোট দলে তারা কাজ করে। টায়ার ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে তারা বাসা ভাড়া নিয়েছিল। গ্রেপ্তার ‍দুজন আত্মঘাতী দলের সদস্য।

সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট সোমবার রাতে সদরঘাট থানার পশ্চিম মাদারবাড়ী এলাকার পোর্ট সিটি হাউজিং সোসাইটির ‘মিনু ভবনের’ পঞ্চম তলার ভাড়া বাসা থেকে ওই দুই জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন- আশফাকুর রহমান ওরফে আবু মাহির আল বাঙালি ওরফে রাসেল ওরফে সেলেবি তিতুশ (২২) এবং রাকিবুল হাসান ওরফে জনি ওরফে সালাহ উদ্দিন আয়ুবী ওরফে আবু তাইছির আল বাঙালি ওরফে হাসান (১৯)।

এর মধ্যে আশফাকুর ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আনিছুর রহমানের ছেলে। তার বাবা খাদ্য বিভাগে চাকরি করেন। অন্যজন রাকিবুলের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায়।

গ্রেপ্তারের সময় ওই বাসা থেকে ১০টি তাজা গ্রেনেড, দুটি স্কেচ ম্যাপ, দুটি সুইসাইড ভেল্ট এবং দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলন থেকে জানানো হয়, সোমবার রাত সাড়ে ১১টায় রাকিবুল ওই বাসায় প্রবেশ করে। এরপর রাত ১২টায় পুলিশ অভিযান চালায়।

পুলিশ কর্মকর্তা হাসান মো. শওকত আলী বলেন, পুলিশের কোনো স্থাপনায় নাশকতা করতে তাদের কথিত আমির ‘ডন’ এর নির্দেশে দুই মাস আগে চট্টগ্রামে আসে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে গ্রেপ্তার দুই জঙ্গি। গ্রেপ্তারদের মধ্যে আশফাকুর এই গ্রুপটির ডেপুটি কমান্ডার। মিসবাহ উদ্দিন নামে জঙ্গি দলের অন্য এক সদস্যের মাধ্যমে দুই মাস আগে ওই বাসাটি ভাড়া নেয়।

কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গোয়েন্দা) এ এ এম হুমায়ুন কবীর বলেন, “তারা নগরীতে পুলিশের অনেক স্থাপনাই রেকি করেছিল।

সদরঘাট থানাকে বেছে নেওয়ার কারণ- এখানকার ওসি একজন নারী। তারা নারীর শাসন মানে না। এছাড়া থানার ভেতর একটি মসজিদ আছে। সেখানে অনেকবার তারা যাওয়া আসা করেছে। পাশাপাশি থানা প্রাঙ্গনে ট্রাফিক উত্তরের একটি কার্যালয়ও আছে।

গ্রেপ্তার দুজন ছাড়াও এই হামলার পরিকল্পনায় মিসবাহ এবং জিবন ইসলাম নামের আরও দুজন জড়িত বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর বলেন, ডনের সাথে পরামর্শ করে তারা সদরঘাট থানাকে টার্গেট হিসেবে চূড়ান্ত করে। টার্গেটের স্কেচম্যাপ করে ডনের কাছে পাঠিয়ে চূড়ান্ত নির্দেশের অপেক্ষায় ছিল।

মিনু ভবনের মালিক ইব্রাহিম মান্নান সাংবাদিকদের বলেন, “মিসবাহ উদ্দিন নিজেকে টায়ার ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে বাসা ভাড়া নেয়। মাঝে মাঝে সে ফোনে কথা বলত। বলেছিল মিসবাহ মালিক এবং আশফাক ম্যানেজার। তবে তাদের বাসা প্রায় খালি থাকত।”

যে পরিচয়পত্র ব্যবহার করে তারা বাসা ভাড়া নিয়েছিল- সেটি ভুয়া বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর।

তিনি বলেন, “সদরঘাট এলাকায় ঘনবসতি এবং শ্রমিকদের বসবাস বেশি হওয়ায় তারা ওই জায়গাটিই বাসা ভাড়া নেওয়ার জন্য বেছে নেয়।”

এ হামলা পরিকল্পনায় জড়িত অন্যান্য জঙ্গি ও তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রেপ্তার দুজনকে মঙ্গলবার বিকালে আদালতের মাধ্যমে সাতদিনের হেফাজতে পেয়েছে পুলিশ।

/তুহিন/

apps