• বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫
  • ||

এমপির আস্কারায় কুলাউড়ায় ফুটপাত দখলের মহোৎসব?

প্রকাশ:  ০২ জানুয়ারি ২০১৮, ২৩:১৯
এম. এ. কাইয়ুম, মৌলভীবাজার
প্রিন্ট

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া শহরের প্রধান সড়কের পাশঘেরা অবৈধ ফুটপাত উচ্ছেদে উপজেলা প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কোন পাত্তাই দিচ্ছেনা হকাররা। কে কার আগে সুন্দর পরিপাটি জায়গা দখল করতে পারেন চলছে তাদের নিজেদের মধ্যে নীরব প্রতিযোগীতা। আর ব্যাঘাত ঘটছে রাস্তার দু’পাশে পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচলের। বাধ্য হয়ে সড়কের উপর দিয়েই হাটতে হচ্ছে জনসাধারনের। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের পোহাতে হচ্ছে নানামুখী বিরম্বনা।

তবে এই অবৈধ ফুটপাত স্থাপন এমপি আব্দুল মতিনের নির্দেশে হচ্ছে বলে জানান কুলাউড়ার পৌর মেয়র শফি আলম ইউনুছ। এদিকে এমন নির্দেশনার কথা অস্বীকার করেন এমপি।

২০৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘের দেয়া ভিশন ‘এসডিজি’ (সাস্ট্যানেভল ডেভলপমেন্ট গোল) এর আওতায় কুলাউড়া উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্দেশ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌধুরী মো. গেলাম রাব্বী অনেকগুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। কুলাউড়াকে সৌন্দর্যমন্ডিত করতে ‘গ্রীন কুলাউড়া, ক্লিন কুলাউড়া’ ও এই ভিশন বাস্তবায়নের প্রথম পদক্ষেপই হচ্ছে প্রধান সড়কের পাশঘেরা অবৈধ স্থাপনা ও ফুটপাত অপসারণ।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৩ ডিসেম্বর পৌর শহরের স্টেশন চৌমুহনী এলাকার প্রধান সড়কের পাশের ফুটপাত ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মো. গোলাম রাব্বী, কুলাউড়া থানার অফিসার ইন-চার্জ মো. শামীম মুসা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জাদি উর রহিম জাদিদ, থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ইন্সপেক্টর) বিনয় ভূষন রায়।

প্রশাসনের উদ্যোগে অবৈধ ফুটপাত ও স্থাপনা কিছুটা উচ্ছেদ করা গেলেও প্রভাবশালী মহলের ইন্দনে ফের ফুটপাত দখলে নিয়েছে হকাররা। আবারও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছেন চলাচলকারী পথচারীরা। বিশেষ করে সড়কের পাশে অবস্থিত বিভিন্ন মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় চলাচলের সময় অস্বস্তিতে পড়তে হয়। এতে কুলাউড়ার সচেতন সমাজ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান।

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌধুরী মো. গোলাম রাব্বী জানান পূর্বপশ্চিমকে জানান, জাতিসংঘের অধীনে ২০৩০ সালে এসডিজি’র আওতায় অন্তর্ভুক্তির যে উদ্যোগ আমরা নিয়েছি তা বাস্তবায়ন করতে হলে সকলের ঐক্যবদ্ধ মতামতের প্রয়োজন। কুলাউড়ার সৌন্দর্যবর্ধনে ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে জনপ্রতিনিধিসহ সকলের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। অন্যতায় তা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। আমরা চেষ্টা করেছি কুলাউড়ার সৌন্দর্য রক্ষার স্বার্থে কাজ করতে তবে সবাই যদি সহযোগীতা না করে তাহলে আমরা ব্যর্থ হবো, স্বাভাবিক। ব্যর্থতার দায় সকলকে নিতে হবে।

উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান কাজী ফজলুল হক খান সাহেদ বলেন, এবিষয়ে আমরা (এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান, মেয়র, ইউএনও) বসেছিলাম। গুটিকয়েক হকার তুলে সমাধান হবে না। তুললে সবাইকে তুলতে হবে। কুলাউড়ার সৌন্দর্যবর্ধনে সবাই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

কুলাউড়া পৌর মেয়র শফি আলম ইউনুছ বলেন, এমপি (আব্দুল মতিন)’র নির্দেশে হকাররা বসছে। পৌর শহরের সড়কে শিগগিরই কাজ শুরু হবে। তখন তাদেরকে তুলে ফেলা হবে। কাজ শুরু হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তারা ব্যবসা করতে এমপি নির্দেশ দিয়েছেন।

কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম মুসা জানান, আমাদের দায়িত্ব ছিল কুলাউড়ার সৌন্দর্যবর্ধনে ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার। আমরা তা করেছি। প্রয়োজনে আবার উচ্ছেদ করব।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আসম কামরুল ইসলাম বলেন, পৌর মেয়র যদি সহযোগীতা চান, অবশ্যই আমরা উপজেলা পরিষদ সহযোগীতা করবো। তবে নির্দেশনার কথা অস্বীকার করে সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন বলেন, দীর্ঘ দিনের এই সমস্যা সমাধানের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌর মেয়রসহ সবাইকে নিয়ে বসবো। তারা গরীব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, ভ্রাম্যমান ব্যবসায়ী। তাদেরকে আলাদা কোন জায়গা নির্দিষ্ট করে দেয়ার জন্য আমরা ব্যবস্থা নিব। অবৈধ স্থাপনা, ফুটপাত উচ্ছেদে আমার কোন আপত্তি নেই।

apps