• সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৯ আশ্বিন ১৪২৫
  • ||

পুরুষকে বন্ধ্যাকরণের অভিযোগে নারী আটক

প্রকাশ:  ০৩ জানুয়ারি ২০১৮, ১৬:৪০
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক
প্রিন্ট

বানারীপাড়ায় পরিবার-পরিকল্পনা অফিসে সেবা সপ্তাহ উপলক্ষে মতামত না নিয়েই পুরুষদের বন্ধ্যা করার অভিযোগে এক নারী দালালকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বানারীপাড়া উপজেলা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে রেকসোনা বেগম (৪০) নামে ওই নারী দালালকে আটক করে পুলিশ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৩১ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সেবা সপ্তাহ চলছে। এ সময় টার্গেট ফিলাপ করতে মরিয়া বানারীপাড়া উপজেলার একটি পৌরসভাসহ আটটি ইউনিয়নের এফডব্লিউএ সংশ্লিষ্টরা। টার্গেট ফিলাপের ক্ষেত্রে তারা টাকার বিনিময়ে এলাকাভিত্তিক পুরুষ ও মহিলা দালাল নিয়োগ করেছেন বলে জানা গেছে। দালালদের টার্গেট দেন একজন পুরুষ ও মহিলাকে বন্ধ্যাকরণের জন্য আনতে পারলে নগদ ৫০০ টাকা দেয়া হবে। সে অনুযায়ী হাবাগোবা পুরুষ ও মহিলার সন্ধানে দিনরাত কাজ করতে থাকেন উপজেলার উয়দকাঠী গ্রামের মৃত শহিদ হাওলাদারের স্ত্রী রেকসোনা বেগম। তিনি যখন যেখানে সহজ সরল লোক পাচ্ছেন তাকেই ওই বিষয়ে সঠিক তথ্য না দিয়ে ভুল বুঝিয়ে এফডব্লিউএ’র মাধ্যমে বন্ধ্যাকরণ চালাচ্ছেন।

এ বিষয়ে জানা গেছে, সোমবার সকালে উপজেলার সৈয়দকাঠী গ্রামের জেলে সুশীল নাটুয়া (৩২) বরিশালের কীর্তনখোলা নদীতে বড়শি দিয়ে মাছ শিকার করে বাসযোগে এসে বানারীপাড়া স্ট্যান্ডে নামেন। এ সময় উদয়কাঠী এলাকার রেকসোনা নামের ওই নারী দালাল তার পিছু নিয়ে তাকে স্বাস্থ্য ভাল করার জন্য সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে ভিটামিন ইনজেকশন, একটি লুঙ্গি ও নগদ ৩ হাজার টাকা করে দেয়া হয় বলে জানান। দরিদ্র মত্স্য শিকারই সুশীল নাটুয়া ওই নারী দালালের কথা বিশ্বাস করে তার সাথে হাসপাতালে যান।

সেখানে যাওয়ার পর ওই দিন বিকেল চারটায় ডাক্তার মো. রফিকুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা তাকে পুরুষ বন্ধ্যাকরণ সম্পর্কে কোনো ধরনের কাউন্সিলিং বা তার ব্যক্তিগত মতামত না নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’র ওটিতে নিয়ে অপারেশন করেন। অপারেশন শেষে তাকে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ৩ হাজার টাকা ও প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র দেয়ার নিয়ম থাকলেও শুধুমাত্র ১৩০০ টাকা ও একটি লুঙ্গি দিয়ে হাসপাতাল থেকে রিলিজ করা হয়। পরে তিনি জানতে পারেন তাকে ভিটামিন ইনজেকশন দেয়ার কথা বলে পুরুষ বন্ধ্যাকরণ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে নারী দালাল রেকসোনাকে আসামি করে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বানারীপাড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ওসি (তদন্ত) মো. ফারুক খান ওই অভিযোগ তদন্ত করার জন্য এস আই মোশারেফ হোসেনকে নির্দেশ দেন। এস.আই মোশারেফ ওই দিন বেলা ১১টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তদন্ত করতে যান। এ সময় তার তদন্তে বেড়িয়ে আসে থলের বিড়াল। তিনি জানতে পারেন মাছ শিকারি সুশীলকে বন্ধ্যাকরণ করার বিষয়ে মিথ্যা তথ্য দেয়া রেকসোনা সৈয়দকাঠী এলাকার এফ.ডব্লিউ.এ শারমিন আক্তারের দালাল এবং সে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই রয়েছেন। রেকসোনা বেগম পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বাথরুমে পালিয়ে থাকেন। পুলিশ ওই বাথরুমের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকে। পরে সে বাথরুম থেকে বাইরে বেড়িয়ে আসলে পুলিশ তাকে আটক করে।

এ বিষয়ে ওসি (তদন্ত) মো. ফারুক খান জানান, তদন্তপূর্বক এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তা (ইউ.এফ.পি.ও) মোঃ মেহেদী হাসান বলেন, আমি এ ব্যাপারে কিছুই জানিনা, জানেন মেডিকেল অফিসার ডা. নাঈমা খান। এ বিষয়ে ডা.নাঈমা খান জানান, আটক রেকসোনা বেগম তাদের সংশ্লিষ্ট কেউ না। কোন ব্যাক্তিকে বন্ধ্যাকরণ করার পূর্বে তাকে তিন ধাপে কাউন্সিলিং করা হয়। এ ক্ষেত্রে কাগজপত্রে তাকেও তিন ধাপে কাউন্সিলিং করা হয়েছে বলে তার কাছে ডকুমেন্টস রয়েছে ।

এ বিষয়ে ভূক্তভোগী সুশীল নাটুয়া জানান, তাকে কোন ধরনের কাউন্সিলিং না করেই ভিটামিন ইনজেকশন দিলে তার স্বাস্থ্য ভাল হয়ে যাবে বলে এফ.ডব্লিউ.এ শারমিন খানম তাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান। এদিকে এফ.ডব্লিউ.এ শারমিন খানমের মুঠোফোনের নম্বর অফিসের কেউই জানেন না বলে জানালে, তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

প্রসঙ্গত বানারীপাড়ায় সব সময় সহজ সরল,অসচেতন, হতদরিদ্র ও নিরক্ষর নারী-পুরুষদের ভুল বুঝিয়ে বন্ধ্যাকরণ করা হয়ে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে।

দেখবো বিএনপির নেত্রীসহ নেতাকর্মীরা পদ্মা সেতু দিয়ে যায় কিনা: কাদের