• রবিবার, ২২ জুলাই ২০১৮, ৭ শ্রাবণ ১৪২৫
  • ||

সচেতনতাতেই মিলবে স্তন ক্যান্সার থেকে মুক্তি

প্রকাশ:  ০৪ জানুয়ারি ২০১৮, ১২:৩৮
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

ক্যান্সার হলেই মৃত্যু অবধারিত এমন ভাবনা অধিকাংশ মানুষই পোষণ করেন। অবশ্য এই ভাবনা পোষণের পেছনে অনেক কারণ আছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো সচেতনতার অভাব। সঠিক সময়ে ক্যান্সার ধরা পরলে সুচিকিৎসার ফলে তা সেরেও যায়। এমনি একজন তাহমিনা গাফফার। গত ২০০৩ সালে তিনি থাইল্যান্ডে নিজের পুরো শরীর পরীক্ষার করতে ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়েছিলেন। সেখানে ডাক্তারি পরীক্ষার সময় তার স্তনে ক্যান্সার ধরা পরলে ভয়াবহ মানসিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে তাহমিনা ও তার গোটা পরিবার।

অনেক পরীক্ষা করিয়ে নিশ্চিত হলেন তিনি যে তার এক স্তনে থাকা লাম্প বা পিণ্ডটি ক্যান্সারের জীবাণু বহন করছে। নিজের শরীরে ক্যান্সারের জীবাণু আছে এই ভেবে নিজের মৃত্যু হবে এমন ভাবনাও চলে আসে তাহমিনার মনে। ভেঙে পড়েন তিনি। দুঃসহ শারীরিক আর মানসিক যন্ত্রণার সেই সময়ে তার স্বামী আর দুই সন্তান মানসিক শক্তি জুগিয়েছেন।

ক্যান্সার ছোঁয়াচ, এমন ভুল তথ্যে বিশ্বাস করে মা যেন মানসিকভাবে গুটিয়ে না থাকে সেজন্য তার ছেলেমেয়েরা মায়ের গ্লাসে পানি খেতেন মাকে ভরসা দেবার জন্য। বাসায় এসে কেউ মনোবল ভেঙ্গে দেওয়ার মত কথা বললে তাহমিনার স্বামী তাদের নিষেধ করেছেন। এভাবে সবার সহযোগিতায় আর ধৈর্য্য ধরে চিকিৎসা নিয়ে চলায় একসময় পুরোপুরি সুস্থ হন তিনি।

কিন্তু পরবর্তী সময়ে উন্নত চিকিৎসা আর পাঁচটি কেমো থেরাপির মাধ্যমে সেরে ওঠেন তাহমিনা। আর এজন্য তাকে একবার অপারেশনও করাতে হয়। এখন তাহমিনার শরীর ক্যান্সারের জীবাণুমুক্ত এবং তিনি আর দশজন নারীর মতো জীবন যাপন করছেন।

প্রতিবছর এদেশে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন ১৪ হাজার ৮২২ জন। আর মারা যান ৭ হাজার ১৩৫ জন। নারী ক্যান্সার রোগীদের মধ্যে আক্রান্তের ও মৃত্যুর হার যথাক্রমে ২৩ দশমিক ৯ ও ১৬ দশমিক ৯ শতাংশ।

ডাঃ রাসকিনের মতে বিআরসিএ-১ ও ২ নামের জিনের অস্বাভাবিক মিউটেশন ৫ থেকে ১০ শতাংশ দায়ী স্তন ক্যান্সারের জন্য। আবার কারো মা, খালা, বড় বোন বা মেয়ের স্তন ক্যানসার থাকলে সেও ঝুঁকিতে থাকে। তাছাড়া যাদের বারো বছরের আগে ঋতুস্রাব হয় এবং পঞ্চাশ বছরের পরে মেনোপজ বা ঋতু বন্ধ হয়, তারাও ঝুঁকিতে থাকে। তেজস্ক্রিয় বিকিরণ বা কোন কারণে স্তনে কোন চাকা বা পিন্ড থাকলেও স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি থাকে।

কেকে