• সোমবার, ২২ জানুয়ারি ২০১৮, ৯ ১৪২৫
  • ||
  • আর্কাইভ

মালয়েশিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের জীবন

সংগ্রামের চ্যালেঞ্জ নিয়েই নতুন বছর শুরু

প্রকাশ:  ০৪ জানুয়ারি ২০১৮, ২০:৫৮
আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া
প্রিন্ট

প্রতিনিয়তই সংগ্রাম করে জীবন যুদ্ধে টিকে থাকতে হয় প্রবাসীদের। বিপুল প্রত্যাশা ও জীবন সংগ্রামের চ্যালেঞ্জ নিয়েই নতুন বছরের যাত্রা শুরু হল মালয়েশিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের। 

জনগোষ্ঠীর বৃহত্তর একটি অংশ প্রবাসে জীবিকার কঠোর সংগ্রামে, সমস্যার ভারে ক্লান্ত। তারপরও কালপরিক্রমায় পুরনো বছরের গ্লানি টেনে বছরের নতুন আশায়, স্বপ্ন দেখছেন তারা।

দেশটিতে বসবাসরত অবৈধ বিদেশি কর্মীদের বৈধকরণ প্রক্রিয়া নিয়ে বছর জুড়ে ছিল আলোচনায়। গেলো বছর রি-হায়ারিংয়ের আওতায় প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ অবৈধ বাংলাদেশি নিবন্ধিত হয়েছেন। এর মধ্যে এক লাখ ৬৫ হাজার কর্মী ভিসা পেয়েছেন এবং নিবন্ধিত প্রায় তিন লাখ ৩০ হাজার শ্রমিকের ভিসাসহ বৈধতার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে দেশটির অভিবাসন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

 এ ছাড়া নাম ও বয়স জটিলতার কারণে কমপক্ষে ৫৫ হাজার কর্মী ভিসা পাননি। তারা প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন। তবে তাদের ভাগ্যে কী ঘটতে যাচ্ছে, ওই সব কর্মীর জটিলতা নিরসনের সুযোগ পাবেন নাকি দেশে ফিরতে হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। 

এদিকে, অবৈধ প্রবাসীদের নির্ধারিত সময়ে যারা রেজিষ্ট্রেশন করে নিবন্ধনের আওতায় আসতে পারেননি তারা পড়েছেন দুঃচিন্তায়। এ প্রক্রিয়ায় কতজন বাদ পড়েছেন তার হিসেব এখনও পাওয়া যায়নি।

এদিকে নতুন বছরের শুরুতে অবৈধদের গ্রেফতারে বড় ধরণের সাঁড়াশি অভিযানের ঘোষনা দিয়েছিল ইমিগ্রেশন বিভাগ। বছরের ৪ দিন অতিবাহিত হলেও কোন অভিযানের বা বিদেশি কর্মী গ্রেফতারের খবর পাওয়া যায়নি। তবে আতংকে রয়েছেন অনেকে। অভিবাসন বিভাগ পর্যবেক্ষণ করছে অবৈধরা  সেচ্ছায় দেশ ত্যাগের। এর মধ্যে কেউ গ্রেফতার হলে দেশটির  অভিবাসন আইন অনুযায়ী ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট ১৯৫৯/৬৩-এর ধারা ৫৫-বি এর অধীনে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার হাজার রিঙ্গিত জরিমানা বা ১২ মাসের পর্যন্ত জেল অথবা উভয় দন্ড দেওয়ার বিধান রয়েছে। 

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বিপুল সংখ্যক কর্মী বৈধ হওয়ার জন্য কোম্পানী মারফত এবং কোম্পানী ছাড়া কয়েকটি এজেন্টের কাছে টাকা পয়সা ও পাসপোর্ট দেয়ার পরেও তারা বৈধ হতে পারেননি। এসব কোম্পানী ও এজেন্ট সনাক্ত করে আইনের আওয়তায় আনতে শিঘ্রই মাঠে নামবে দেশটির অভিবাসন বিভাগ।

ক্লাং মেরু থেকে  জয়নাল আবেদিন নামে একজন বাংলাদেশি বৃহস্পতিবার রাতে টেলিফোনে এ প্রতিবেদককে জানান,বৈধ হওয়ার জন্য এক বছর আগে বাংলাদেশি দালালের কাছে টাকা পাসপোর্ট দিয়েছিলেন তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছেনা। জয়নাল কি করবেন ভেবে পাচ্ছেননা।  শুধু জয়নালই নয় এ রকম শত শত জয়নাল বৈধতা নেয়ার নামে প্রতারনার শিকার হয়েছেন।