• সোমবার, ২৫ জুন ২০১৮, ১১ আষাঢ় ১৪২৫
  • ||

বাঙালির সেক্স ভাবনা!

প্রকাশ:  ০৬ জানুয়ারি ২০১৮, ১২:৫১
গাজী জয়িতা মাহিদ
প্রিন্ট
বাঙালি মুখে সেক্স শব্দটা উচ্চারণ করে না, কিন্তু ধ্যানে জ্ঞানে সারাক্ষণ সেক্স নিয়ে চিন্তা করে! কোন প্রেমিক যুগল হাত ধরে হেঁটে গেলে- সবার মনে হয় আহ! কি সুন্দর একটা কাপল, অথচ বাঙালি ভাবে এরা এখনই কোন চিপায় গিয়ে সেক্স করা শুরু করবে!

বাঙালির কাছে নারী পুরুষের সম্পর্ক মানেই সেক্স! বন্ধুত্ব বা ভালোবাসাকে এরা সেক্সের বাইরে চিন্তা করতে পারে না! অথচ এরাই আবার প্রেমিক প্রেমিকার লোক সম্মুখে হাত ধরা বা চুমু খাওয়া সাপোর্ট করে না! কি হিপোক্রেসি রে ভাই!

দুই জন প্রাপ্ত বয়স্ক নারী পুরুষের মাঝে ভাল বোঝাপড়া থাকলেই ঘনিষ্ঠ মহলে কানাকানি শুরু হয়ে যায়! বুঝো না- সব তো শরীরের চাহিদা, রাতে ঘরে নিয়ে তুলে! আর ব্যাচেলর সিনেমার সুবাদে লিটনের ফ্ল্যাট তো বাঙালির প্রিয় শব্দ অন্যকে টিটকারি করার জন্য। কেন রে ভাই, কেউ কারও সাথে শুইলে আপনাদের মাথাব্যথাটা কি! উপরে এত রক্ষণশীল আর ভিতরে এতটা কামুক মনোভাবের এই ডাবল স্ট্যান্ড এরই বা দরকার টা কি?

অনেক বাঙালি পর্ন দেখা খুব খারাপ বলে চিল্লান, অথচ কোন কাপল দেখলে তারা এমন ভাব করে যেন সেই কাপল না তাদের করা ব্লু ফিল্ম দেখছেন!

যুবতী হবার পর যখন আমার কিশোরী বয়সে করা একমাত্র প্রেমটা ভেঙে যায়, তখন আমার এক বড় ভাই আমাকে উপদেশ দেয়- শোন। আর যাই কর প্রেম করো না, তোমার যা বয়স তাতে তোমায় কেউ ভালবাসবে না, বরং তোমার শরীরটাই চাইবে! অথচ সেই ভদ্রলোক আমার প্রায় ১৫ বছর বড় হয়েও দিব্যি প্রেম করছিলেন! ওনারটা প্রেম, যেহেতু ওনি পুরুষ! আমারটা শরীর, যেহেতু আমি মেয়ে মানুষ! মাইয়া মানুষ, বুঝতে হবে!

আমার এনগেইজমেন্টের পর আমার মা খুব খুশি মনে তার সকল আত্মীয় স্বজনের বাসায় মিষ্টি পাঠানো শুরু করলেন, অনেকেই তাকে ফোন করে শুভ কামনা জানাচ্ছেন, তিনিও মহাখুশি হচ্ছেন। হঠাৎ দেখি তিনি ফোন রেখে কাঁদছেন! আমি বললাম কি হয়েছে! তার কোন পরম আত্মীয় নাকি বলেছে- আপনার মেয়ে তো কয়টা ছেলের সাথে কি কি করে বেড়িয়েছে তার হিসাব নাই! তো ডিয়ার আপা/খালাম্মা, আপনারা আছেন তো হিসাব টা রাখার জন্য!

নিজে বাঙালি বলে এত গর্ব আমার, অথচ আমিই দিলাম এই পোস্ট? হুম, দিলাম। কারন উপরে সেক্স শব্দ টা উচ্চারণই করতে পারে না আর ভিতরে সারাক্ষণ সেক্স ভাবনায় ডুবে থাকা একটা অসভ্য জাতি আমরা!

গাজী জয়িতা মাহিদ এর ফেসবুক থেকে