• বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫
  • ||

শকুনের ভুরিভোজ হয় যে রেস্টুরেন্টে

প্রকাশ:  ০৬ জানুয়ারি ২০১৮, ১৫:২৬ | আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০১৮, ১৬:৫৩
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রিন্ট

পৃথিবীতে আজ বিলুপ্তির পথে শকুন। একটা সময় বাংলাদেশে কয়েক প্রজাতির শকুন দেখতে পাওয়া যেত। কিন্তু সেই প্রজাতি আজ বিলুপ্ত হতে গিয়ে অবস্থা এমন জায়গায় ঠেকেছে যে গোটা দেশের আকাশে আজ একটা শকুন খুঁজে পাওয়াও দুষ্কর হয়ে গেছে। এশিয়ার দেশ নেপালে এখনো নয় প্রজাতির শকুন রয়েছে। কিন্তু ওই প্রজাতিগুলোর মধ্যে আবার পাঁচ প্রজাতি হুমকির মুখে।

নেপালের শকুনদের নিয়ে কাতারভিত্তিক মিডিয়া আলজাজিরাতে একটি ফটোফিচার প্রকাশিত হয়েছিল। ছবিগুলো তুলেছেন আলোকচিত্রী আলেকজান্ডার লেরচে। আলোকচিত্রীর ছবিগুলো নিয়েই পূর্বপশ্চিমের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো শকুনের ভুরিভোজ শীর্ষক ফিচার।

১৯৯০ সালের দিকে একদল বিজ্ঞানী দেখতে পেলেন যে, গবাদি পশুর শরীরে ব্যবহৃত ওষুধের প্রভাবে শকুনরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ডায়ক্লোফেনাক নামের ওই ওষুধের কারণে অনেক শকুনই কিডনিজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, মৃত পশুটিকে স্থানীয়রা কোনো মাঠে বা খোলা জায়গায় ফেলে রাখে যাতে শকুন ও অন্যান্য প্রাণীরা তা খেয়ে নিতে পারে।

বাস্তুসংস্থান ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে ধাঙর শ্রেণির পাখির রয়েছে বিশেষ অবদান। কিন্তু খাবারে বিষক্রিয়ার কারণে ক্রমশ ধাঙর শ্রেণির পাখি মারা যেতে থাকলে ২০০৬ সালে নেপাল সরকার ডাইক্লোফেনাক ওষুধের ব্যবহার নিষিদ্ধ করে। পাখিদের বাঁচাতে একাধিক সংস্থা এগিয়ে আসে এবং শকুনেরা যাতে বিষক্রিয়ামুক্ত খাবার খেতে পারে সেজন্য ক্যাম্পেইন পরিচালনা করে।

বেশ কয়েকটি বেসরকারি সংস্থা নিজেদের উদ্যোগে মৃতপশু এনে একটি নির্দিষ্ট স্থানে রাখে পাখিসহ অন্যান্য পশুদের জন্য। ওই নির্দিষ্ট স্থান থেকে শুরুর দিকে পাখিরা খেতে না আসলেও ক্রমশ পরিস্থিতি পাল্টেছে। বর্তমানে নেপালের ৫৬টি জেলায় ডাইক্লোফেনাক মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। আর অনেকটা আনন্দ থেকেই শকুনদের খাবারের ওই জায়গাটির নাম দেয়া হয়েছে শকুনের রেস্টুরেন্ট।

কেকে

apps