• সোমবার, ২২ জানুয়ারি ২০১৮, ৯ ১৪২৫
  • ||
  • আর্কাইভ

সবার আগে মা রকীব সাহেবকে দেখতে চান

প্রকাশ:  ১০ জানুয়ারি ২০১৮, ০১:৪৬ | আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০১৮, ০১:৫৩
ইব্রাহিম চৌধুরী
প্রিন্ট

আমার মা আমেরিকা থেকে দেশে গেলেন। বললাম, অনেকদিন পর এলে মা। বলো কোথায় নিয়ে যাই, কোন আত্মীয় স্বজনকে দেখতে চাও? মা জানালেন, সবার আগে তিনি একটু রকীব সাহেবের সাথে দেখা করতে চান।
কোন রকীব সাহেব? 
ডাক্তার রকীব।
কেন?
তোমারতো কোন অসুখ বিসুখ নাই।তাছাড়া আমেরিকায় নিয়মিত চেকাপ করাও। না তার পরও রকীব সাহেবের সাথে দেখা করতে চাই। আমি বলি, মা রকীব সাহেবের একটাই মেয়ে ছিল।তার বিয়ে হয়ে গেছে।আমেরিকায়ই থাকে।
:রকীব সাহেবের মেয়ের খবর রাখো দেখি।
মা জানালেন,কনে দেখার জন্য নয়।

একবার ডাক্তার দেখাতেই রকীব সাহেবের কাছে যেতে চান।জিন্দাবাজারের সেই চিরচেনা ডাক্তারের চেম্বারে গিয়ে জানালাম রকীব সাহেবকে। তিনি হাসলেন,আমার মা'র সাথে কথা বললেন।জানালেন চমৎকার স্বাস্থ্য।কোন অসুখ বিসুখ নেই।

আমার মায়ের মনটা খারাপ হয়ে গেলো।যেন রকীব সাহেবের কাছে কোন বড় অসুখ ধরা পড়লেই খুশী হতেন! লন্ডনে, আমেরিকায় দেখেছি- আমাদের সিলেট অঞ্চলের অনেক সহজ সরল লোকজন দেশে গিয়ে একবার রকীব সাহেব,খালেক সাহেবকে শরীরটা দেখাতে চান। দু'জনকেই বলেছিলাম কথাটি। অগুনতি মানুষ তাদের বিশ্বাসে ধারনাটি পোষন করতেন। মরে যাওয়ার আগে যেন একবার ডাক্তার খালিক সাহেব বা রকীব সাহেবকে শরীরটা দেখিয়ে মরতে পারেন। খালিক সাহেব তো আর হাসতেন না।

রকীব সাহেব পান চিবিয়ে চিবিয়ে অন্যকে পান সিগারেট না খাওয়ার জন্য বারণ করতেন। দু'জনকে নিয়েই এক সময় গ্রামে গ্রামে গিয়ে ফ্রি ক্লিনিক করেছি।সদাহাস্যে সময় দিয়েছেন। শামসুল আলম ভাই,কাওসার ভাইকে মনে পড়ছে। লিজেন্ড খালিক সাহেব অনেক আগেই চলে গেছেন। রকীব সাহেবের সৌখিন রোগী, আমার মা ও আর বেঁচে নেই। আজ খবর পেলাম লিজেন্ড রকীব সাহেবও চলে গেছেন। স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো ছাড়া আর কি ই বা করতে পারি। আমাদের জনপদ এ লিজেন্ডদের মনে রাখবে হৃদয়ের ভালোবাসায়!

লেখকের ফেইসবুক থেকে সংগ্রহীত