• রবিবার, ২২ জুলাই ২০১৮, ৭ শ্রাবণ ১৪২৫
  • ||

কাপাসিয়া কলেজ অধ্যক্ষের নিয়োগে কারচুপি!

প্রকাশ:  ১৩ জানুয়ারি ২০১৮, ০১:০৯
মাহমুদুল হাসান, গাজীপুর
প্রিন্ট

গাজীপুরের কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. ছানাউল্লাহ দুর্নীতির বোঝা মাথায় নিয়ে দাপট দেখাচ্ছেন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্তে নানা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও অদ্যাবধি তাকে শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়নি। হাইকোর্টে রিট করে পরপর তিনবার বরখাস্ত না করার স্থগিতাদেশ এনে বাণিজ্যের চর্চা অব্যাহত রেখেছেন।

এবার তার বিরুদ্ধে অযোগ্য প্রার্থী দিয়ে নিয়োগ পরীক্ষা সাজিয়ে অধ্যক্ষ পদ বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার জেলা প্রশাসক ও কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সামছুল বারীকে ২০১২ সালে চূড়ান্ত বরখাস্তের পর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পান ছানাউল্লাহ। পরে তিনি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কৌশলে অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে ২০১৩ সালের ৬ জানুয়ারি অধ্যক্ষ হন।

ওই সময় তার সাথে প্রার্থী হন বঙ্গতাজ কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ আওলাদ হোসেন খান, তারাগঞ্জ কলেজের অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক কংকন চন্দ্র সাহা ও ইফতেখারুল আলম কমেড।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ বিধি অনুযায়ী, অধ্যক্ষ পদে প্রার্থীকে ডিগ্রি পর্যায়ের কলেজ থেকে ন্যূনতম ১২ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

এর মধ্যে বঙ্গতাজ কলেজ ও তারাগঞ্জ কলেজ ডিগ্রি পর্যায়ের নয়। আর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ কলেজ ডিগ্রি পর্যায়ের হলেও কংকন চন্দ্র সাহা ডিগ্রির শিক্ষক নন। ইফতেখারুল আলম কমেডের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তাদের মধ্যে হাফিজুর রহমান কলেজ কার্যালয়ে নেওয়া সাক্ষাতকারে অংশ নেননি। এমনকি সেখানে অন্য প্রার্থীদের লিখিত বাদে শুধু মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়।

নাম গোপনের শর্তে একাধিক শিক্ষক বলেন, ছানাউল্লাহ প্রক্রিয়াটি সাজিয়ে অধ্যক্ষের পদ বাগিয়ে নিয়েছেন। এতে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেন হতে পারে। নয়তো অযোগ্য প্রার্থীরা যাচাই-বাছাইয়ে ইন্টারভিউয়ের জন্য যোগ্য বিবেচিত হন কীভাবে?

এ বিষয়ে অধ্যক্ষ ছানাউল্লাহ মুঠোফোনে বলেন, প্রার্থীদের ডিগ্রি পর্যায়ের যোগ্যতার বাধ্যবাধকতার বিষয়টি জানা নেই। তবে চাকরির অভিজ্ঞতা ১২ বছর হলেই আবেদন করা যায়। এখন নতুন বিধি হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।