• বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ৫ পৌষ ১৪২৫
  • ||

‘সামনে অনেক সিনেমা হল ছবির অভাবে বন্ধ হবে’ আব্দুল আজিজ

প্রকাশ:  ১৩ মার্চ ২০১৮, ১৬:২০
মাকসুদুল হক ইমু
প্রিন্ট
ফাইল ছবি

বাংলাদেশী চলচ্চিত্রে বহু বছর ধরে ব্যবহার হয়ে আসা অ্যানালগ সিস্টেমকে পরিবর্তন করে ডিজিটাল সিস্টেমকে গ্রহণযোগ্য করে তোলার জন্য সর্বাধিক ভূমিকা পালন করেছে যে প্রতিষ্ঠানটি তার নাম জাজ মাল্টিমিডিয়া। শতাধিক প্রেক্ষাগৃহে ডিজিটাল প্রজেকশন, ডিজিটাল চলচ্চিত্র নির্মান, যৌথ প্রযোজনায় এবং বিগ বাজেটে চলচ্চিত্র নির্মান, নতুন মুখ উপস্থাপনকারী ইত্যাদি বিভিন্ন বিশেষণে বিশেষিত করা যাবে যে প্রতিষ্ঠানকে তার নাম জাজ মাল্টিমিডিয়া।

২০১২ সাল থেকে যাত্রা শুরু করা এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই আলোচনা এবং সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেছে। সমগ্র বাংলাদেশে চার’শ প্রেক্ষাগৃহকে ডিজিটাল করার ঘোষনা দিয়ে সর্বপ্রথম আলোচনায় আসে জাজ মাল্টিমিডিয়া। সিনেমার নির্মান যখন প্রতিবছর কমছে, এক দশকের ব্যবধানে বার’শ হল থেকে বন্ধ হতে হতে যখন মাত্র সাড়ে চার’শ হলে এসে দাড়িয়েছে, তখন চার’শ হলে ডিজিটাল প্রজেকশন পদ্ধতি চালু করার ঘোষনা বিস্ময়কর ছিল।

জাজ-এর শুরুটা আব্দুল আজিজের হাত ধরেই। তিনি বাংলাদেশের খ্যাতনামা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার। এ প্রতিষ্ঠানটি তিনি গড়ে তুলেন ২০১২ সালে। সুন্দর ছবি নির্মাণের এই স্বপ্নদ্রষ্টা প্রযোজনায় নাম লেখান ‘ভালোবাসার রঙ’ ছবি দিয়ে। শুধু তাই নয়, তিনি সেসময় একই সঙ্গে ৫০টি সিনেমা হল ডিজিটালও করেন। ক্রমান্বয়ে দেড় শতাধিক সিনেমা হল ডিজটালাইজেশনের আওতায়ও নিয়ে এসেছেন। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র বিশ্বমানের হবে। এমন স্বপ্নই দেখেন আব্দুল আজিজ।

তাঁর হাত ধরেই যৌথ প্রযোজনার বেশ কিছু ছবি মুক্তি পায় বাংলাদেশে। দুই বাংলার চলচ্চিত্রের জন্য একটি ভূমিকা রাখছিলেন তিনি। গত বছর একটা সময়ে যৌথ প্রযোজনার সিনেমা নিয়ে শুরু হয় আন্দোলন। আন্দোলন পরবর্তী সময়ে আন্দোলনকারীদের শর্ত অনুযায়ী দেশের চলচ্চিত্র শিল্প বান্ধব নতুন একটি যৌথ প্রযোজনার নীতিমালা প্রণয়ন করে সরকার। নতুন এ নীতিমালা নিয়ে অনেকে খুশি হলেও এ নিয়ে খুব একটা সন্তুষ্ট নন জাজ কর্ণধার আব্দুল আজিজ।

আজ পূর্বপশ্চিম বিডি নিউজের সাথে এসকল বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে আব্দুল আজিজের।

আলাপচারিতার এক পর্যায়ে আব্দুল আজিজ বলেন, ‘আমার হিসেবে যেভাবে সরকার যৌথ প্রযোজনার নীতিমালা করেছে, এতে করে ছবি নির্মান সম্ভব নয় । যৌথ প্রযোজনা ছবি হইলে, নীতিমালা ঠিক থাকলে হলগুলো এভাবে পুরাতন ছবি চালাতো না। সামনে অনেক সিনেমা হল ছবির অভাবে বন্ধ হবে। আর বড় কথা হল জয়েন্ট ভেনচারের নতুন নীতি মালায় ছবি হবে না। সবাই হতাশ হয়ে পড়েছে। দর্শক একটা ভাল ছবি দেখতে চায় হলে গিয়ে। হলে গিয়ে ছবি দেখা একটা অভ্যাসের ব্যাপার। রেগুলার ভাল ছবি দিবেন তাহলে মাঝে একটু নরমাল ছবি চলে যায়। তাই বলে একবারে ভাল ছবি দিবেন না, সব সময় নরমাল বা হাল্কা গল্পের ছবি দিবেন তাহলে তো দর্শক আসবে না। এইটা হলো পলিসিগত সমস্যা। জাতীয় উৎসব গুলো ছাড়াও মাঝে মাঝে হলগুলোতে বড় ও বিগ বাজেটের ছবি দিতে হয়।

জাজ কর্ণধার আব্দুল আজিজ আরো বলেন, ‘হলিউডে দেখেন বলিউডে দেখেন, বছরে যদি ১০০টা ছবি রিলিজ হয় ১০টা বড় ছবি যায়।এখন বাংলাদেশে বড় ছবি সাপ্লাই করা বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে যৌথ প্রযোজনার যে কয়টা ছবি আছে কোনটাই নীতি মালা অনুযায়ী পাশ করছে না। যেমন শাকিব খানের ‘চালবাজ’ এরপর ‘ভাইজান’ এগুলো তো কোনটাই জয়েন্ট ভেনচার হতে পারছে না। তাই ২০১৯ সালে অনেক হল বন্ধ হয়ে যাবে, আর এই হল বন্ধ হয়ে গেলে বাংলা চলচ্চিত্র বলে কিছু থাকবে না। এইখানে যারা নেতৃত্বের স্থানে আছে তারা চাচ্ছে না যে চলচ্চিত্রটা সারভাইভ করুক’।

অনেকেই বলছে চলচ্চিত্রের জন্য একটা মহল খুব ভালো কাজ করছে, তাহলে এমন একটা সময়ে আপনারা কেন আপনাদের ব্যাবসা গুটিয়ে নিচ্ছেন বলে মিডিয়াতে নিউজ আসছে। আপনারা কেন এগিয়ে আসছেন না? এমন প্রশ্নের জবাবে আব্দুল আজিজ বলেন, ‘যদি তারা বলেন চলচ্চিত্রর জন্য তারা কিছু করেন তাহলে বলব তাদের পলিসি ভুল। তারা চলচ্চিত্র না, চলচ্চিত্রের সাথে নিজের স্বার্থটাও দেখছেন। আমি জোর দিয়ে বলতে পারি তাদের পলিসি ভুল, তাদের পলিসি ঠিক নাই। আমরা চেষ্টা করলেও কি হবে? এইটা তো পলিসির ব্যাপার। সরকার পলিসি যেইটা ঠিক করবে সেটাই তো বাস্তবায়ন হবে। আর পলিসির সাথে নেতারা জড়িত, নেতারা যদি না চায় চলচ্চিত্র সারভাইভ করুক তাহলে কিছু করার থাকে না। আমি বলব এইখানে চলচ্চিত্রের থেকেও ব্যক্তি স্বার্থটা বড় হয়ে কাজ করে’।

উল্লেখ্য, জাজ মাল্টিমিডিয়া সম্প্রতি বাংলাদেশে আর ছবি নির্মান করবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করছেন এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত যেন তারা না নেন। জাজের উচিৎ দেশের সিনেমাপ্রিয় দর্শকদের জন্য আরো সিনেমা প্রযোজনা করা। এতে করে দর্শক হলমুখী হবে এবং এ শিল্পের সাথে জড়িত অনেক মানুষের সংসার জীবন বাঁচবে।

/এটিএম ইমু

apps