• রবিবার, ২৪ জুন ২০১৮, ১০ আষাঢ় ১৪২৫
  • ||

'মা নেপালে পৌঁছেই আগে তোমাকে ফোন দেব’

প্রকাশ:  ১৩ মার্চ ২০১৮, ১৯:১৭ | আপডেট : ১৩ মার্চ ২০১৮, ১৯:২৩
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক
প্রিন্ট
‘মা নেপালে পৌঁছেই তোমাকে আগে ফোন দেব।’ এটাই শেষ কথা ছিল আলিফুজ্জামান আলিফের (৩০)। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৭টায় যশোর থেকে বিমানে ঢাকায় যাওয়ার পথে মায়ের সঙ্গে এটিই তাঁর শেষ কথা।

নেপালের কাঠমান্ডুতে বিমান দুর্ঘটনার শিকার হন খুলনার আলিফ। মঙ্গলবার সকালে নিহতের বড় ভাই মো. আশিকুর রহমান হামিম এসব কথা বলেন।

আলিফের বাড়ি খুলনার রূপসা উপজেলার আইচগাতি গ্রামে। তাঁর বাবার নাম মোল্লা মো. আক্তারুজ্জামান। আলিফ খুলনার বিএল কলেজ থেকে এবার স্নাতকোত্তর পরীক্ষা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি এবং মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড খুলনা জেলা শাখার তথ্য ও প্রচার সম্পাদক ছিলেন। পাশাপাশি ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিলেন আলিফ।

আজ সকাল পৌনে ৮টার দিকে আলিফদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, একটি শোকাহত পরিবেশ। স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড়। তৃতীয়তলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় পরিবারের সঙ্গেই থাকতেন অবিবাহিত আলিফ। ঘরে ঢুকতেই চোখে পড়ে আলিফের ছোট চাচা মো. বাবর আলীর দিকে। আদরের ভাইপোর শোকে একাধারে কেঁদেই চলেছেন, আর আলিফের সঙ্গে তাঁর বিভিন্ন স্মৃতির কথা আওড়াচ্ছেন। তিনি বলছেন, ‘আমাকে আর কে চাচা বলে ডাকবে, আমার বুকের মানিক তুই কেন নেপালে গেলি।’

আলিফের খালাতো বোন রাহিমা আক্তার জানান, সংবাদ শোনার পর মঙ্গলবার সকাল ৮টার ফ্লাইটে আলিফের খালু শাহাবুর রহমান নেপালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। তিনি পৌঁছানোর পরই  সঠিক তথ্য জানা যাবে।  তিনি জানান, বিমান দুর্ঘটনার খবর শোনার পর আলিফের অসুস্থ বাবা আরো  অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। আর মাও কারো সঙ্গে কথা বলার মতো অবস্থায় নেই। সবাই বাকরুদ্ধ হয়েপড়েছেন।

আলিফের বড় ভাই মো. আশিকুর রহমান হামিম বলেন, আলিফ রাজনীতি এবং ঠিকাদারি করতো। তাঁর কোনো শত্রু ছিল না। আলিফের ইচ্ছা ছিল সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচন করা। তিনি জানান, আলিফের বন্ধুরা নেপালে চলমান বাণিজ্য মেলায় স্টল দিয়েছেন। সেখানে বেড়াতে যাওয়ার জন্যই আলিফ চার দিনের সফরে নেপাল যান।

আলিফের আত্মীয় মো. সাব্বির খান দ্বীপ জানান, আলিফ নেপাল ভ্রমণের জন্য সোমবার সকালে বাড়ি থেকে বের হন। তিনি যশোর থেকে প্রথম ফ্লাইটে বেসরকারি এয়ারওয়েজ নভো এয়ারে ঢাকায় যান। এরপর তিনি দুপুর পৌনে ১টার দিকে ইউএস-বাংলার ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা হন নেপালের উদ্দেশে। তিনি বিমানের সর্বশেষ আসনে ছিলেন। নেপালের স্থানীয় সময় বেলা ২টা ২০ মিনিটে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে নামার সময় বিমানটি রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে এবং আগুন ধরে যায়।

এদিকে, ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে আলিফদের আইচগাতির বাড়িতে আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশীরা জড়ো হয়েছেন। তাঁরা আলিফের খবর জানার চেষ্টা করছেন। পরিবারের সদস্যরা অনেকটাই শোকাহত।  

আলিফ স্থানীয় বেলফুলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং খুলনার আহসান উল্লাহ কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দেন। এরপর ২০০৭ সালে তিনি কাজের সন্ধানে সৌদি আরবে যান। সেখান থেকে ২০১০ সালে ফিরে খুলনা সিটি কলেজে ভর্তি হয়ে ডিগ্রি পরীক্ষা দেন। সবশেষ খুলনার বিএল কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় অংশ নেন। এখনো কয়েকটি পরীক্ষা বাকি রয়েছে।