Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • শনিবার, ১৯ জানুয়ারি ২০১৯, ৬ মাঘ ১৪২৫
  • ||

ছাত্রলীগ নেতার তাড়া খেলেন আ.লীগ নেত্রী

প্রকাশ:  ১৭ মার্চ ২০১৮, ২০:২৮ | আপডেট : ১৭ মার্চ ২০১৮, ২০:৩৭
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রিন্ট icon

বিনা আমন্ত্রণে কক্সবাজার সরকারি কলেজে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গিয়ে কলেজ শিক্ষকের কাছ থেকে স্পীকার কেড়ে নিয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও দখলবাজ বলতে গিয়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের তাড়া খেলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজনীন সরওয়ার কাবেরি। শনিবার সকালে কক্সবাজার সরকারি কলেজে হল রুমে এ ঘটনাটি ঘটেছে। এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছে নাজনীন সরওয়ার কাবেরি ও কলেজ ছাত্রলীগ।

তবে জামায়াত-বিএনপি’র সাথে আতাত করে ছাত্রলীগকে বিতর্কিত করতেই বিনা দাওয়াতে ওই অনুষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষকের হাত থেকে স্পীকার কেড়ে নিয়ে ছাত্রলীগের বিষয়ে বাজে মন্তব্য করেছেন বলে দাবি করছেন কলেজ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।

শনিবার সন্ধ্যায় কক্সবাজার প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারী কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি জাকের হোসেন বলেন, শনিবার সকালে কলেজ আয়োজিত বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের অনুষ্ঠান চলছিলো যথাযথভাবে। অনুষ্ঠানের মাঝামাঝি সময় বক্তব্যরত কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক দিদারুল আলমের কাছ থেকে স্পীকার কেড়ে নিয়ে উপস্থিত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও দখলবাজ সহ নানা অপবাদ দিতে থাকে। পরে ওই নেত্রীর আচরণে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মূখে ম ছাড়তে বাধ্য হন কাবেরী।

কলেজ সভাপতি বলেন, জামায়াত-বিএনপি’র এজেন্ডা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যেই কোনো প্রকার আমন্ত্রণ ছাড়াই অনাকাংখিত এ ঘটনার সৃষ্টি করেছে। কোন অপশক্তির এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে আওয়ামীলীগের দায়িত্বে থেকেও বঙ্গবন্ধু’র জন্মদিনের অনুষ্ঠানে কেন ছাত্রলীগের বদনাম করলেন তা তদন্ত করতে দলের উর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

কক্সবাজার সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘কাবেরি আপাকে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে কলেজ প্রশাসন দাওয়াত না দেয়া সত্বেও কলেজে আসেন। হঠাৎ অনুষ্ঠান স্থালে এসে মে উঠে মাইক নিয়ে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন; কলেজ ছাত্রলীগের কর্মীরা জায়গা দখল করছে। এতে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে কলেজ প্রশাসন কাবেরি আপাকে চলে যেতে বাধ্য করেন। আমরা কাবেরী আপাকে লাি ত করি নাই এবং যে অভিযোগ তুলেছেন তার জন্য কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দিয়েছেন।’

এদিকে এ ঘটনায় বিব্রতকর পরিস্থিতির বিষয়টি উল্লেখ করে বিবৃতি দিয়েছেন কলেজের শিক্ষক পরিষদ। শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুল হক জানান, কাবেরীকে কোনো প্রকার আমন্ত্রণ না করা সত্বেওই অনুষ্ঠানের মাঝামাঝি সময়ে স্পীকার নিয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বাজে মন্তব্য করলে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মাঝে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে শিক্ষক ও ছাত্ররা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন।

অপরদিকে নিজেকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা লাি ত করেছে অভিযোগ করে শনিবার দুপুরে কক্সবাজার প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজনীন সরওয়ার কাবেরি। অভিযোগে তিনি বলেন, ‘১৭ মার্চ শনিবার সকালে কক্সবাজার সরকারি কলেজে বঙ্গবন্ধুর জন্ম বার্ষিকী পালন করতে যাই। এসময় বক্তব্য দেয়ার জন্য আমার (কাবেরি) নাম ঘোষণা করলে কলেজ ছাত্রলীগ ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে অশালীন গালিগালাজ শুরু করে।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজনীন সরওয়ার কাবেরির বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি জাকির হোসেন তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘কলেজের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু’র জন্মদিন অনুষ্ঠান পালনকালে কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদুল করিমের ছোট ভাই আশমত উল্লাহ সহ আরো কয়েকজনকে নিয়ে অনুষ্ঠানে অনুপ্রবেশ করেন ওই নেত্রী। ওসময় তিনি জোর করেই মে উঠে বক্তব্যরত শিক্ষকের কাছ থেকে স্পীকার কেড়ে নিয়ে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে কূ-রুচীপূর্ণ কথা শুরু করেন। ওসময় শিক্ষকের কাছ থেকে স্পীকার কেড়ে নেওয়ায় উপস্থিত শিক্ষার্থীরা তাকে ম থেকে নামতে বলেন। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা তাকে তাড়া দিলে তিনি কলেজ ক্যাম্পাস ছাড়তে বাধ্য হন।’

সংবাদ সম্মেলনে কক্সবাজার কলেজের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, কক্সবাজার সরকারী কলেজটি আজ থেকে কয়েক বছর পূর্বেও জামায়াত শিবিরের দখলে ছিলো। তারা সেখানে অস্ত্রবাজী ও দখল সহ নানা অপরাধ সৃষ্টি করে আসছিলো দীর্ঘ সময় ধরে। বর্তমান কলেজ ছাত্রলীগ কলেজকে শিবির মুক্ত করে সকল অপরাধ দমন করে আসছে। ঠিক সেই মূহুর্তেই নাজনীন সরওয়ার কাবেরি ছাত্রদল ও শিবির ক্যাড়ারদের সাথে আতাত করে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে নেমেছেন।’

কলেজ ছাত্রলীগের সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন-জসিম উদ্দিন, উৎফল বড়ুয়া, শরীফ হোসাইন সিকদান, সাব্বিরুল হক জুলাইব, নরুল আবরার শাকিব, সালাহ উদ্দিন জাশেদ, মো: আনাস ও মো: রায়হান । এদিকে ওই ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উত্তেজনা চলছে।

apps