• রবিবার, ২২ জুলাই ২০১৮, ৭ শ্রাবণ ১৪২৫
  • ||

‘ধাক্কা দিলাম লোকটাকে, বাস থেকে লাফ দিলাম’

প্রকাশ:  ১৬ এপ্রিল ২০১৮, ১২:০৩
ফারাহ শারমিন
প্রিন্ট

আব্দুল্লাহপুর থেকে রামপুরা আসার জন্য বাসে উঠেছিলাম ৬.৩০ এ। বাসে দুজন কন্ট্রাক্টরের একজন মনে হয় ড্রিংক করেছিল। অনেক ভিড় ছিল, তবে রামপুরা আসতে আসতে প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়। পিছনের দিকে কয়েকজন ছেলে বসেছিল আর সামনের দিকে আমি আর আম্মু , বাসের লাইটগুলো বনশ্রীতে এসে বন্ধ করে দেয় ড্রাইভার, বলে যে তার হেডলাইট নষ্ট এজন্য বন্ধ করেছে। কালকে সকালে পরীক্ষা, হাতে সময় নেই বলে কেউ এটা নিয়ে ঝামেলা করিনি।

রামপুরায় পৌঁছে গেলে বাস জ্যামে পড়ে আর আমরা নামার জন্য দরজার দিকে যেতে থাকি, আম্মু প্রথমে নামে। আমি দরজা পর্যন্ত যাওয়ার সাথে সাথে একজন আমার হাত চেপে ধরে, আম্মু ততক্ষণে নেমে গিয়েছে। আমি নামার চেষ্টা করি কিন্তু বাস সামনের দিকে যেতে থাকে আর পিছনে কয়েকজন বলছিল, ‘মাইয়াটারে ধর’।

কী করব বোঝার মতো সময় ছিল না, অন্য হাতে একটা স্টিলের টিফিন বক্স ছিল ঐটা দিয়ে লোকটাকে বারি মারলাম। কতটা লেগেছিল জানি না, কিন্তু আমাকে ধরে রাখা হাতটার শক্তি কমে গেল। ধাক্কা দিলাম লোকটাকে, বাস থেকে লাফ দিলাম।

আমার ভাগ্য ভাল ছিল যে, বাস আস্তে যাচ্ছিল আর মধুবনের সামনে জ্যাম ছিল। নেমে পিছনে দৌড় দিলাম। দূর থেকে আম্মুকে দেখতে পেলাম, আমাকেই খুঁজছে।

জানতাম যে, রাস্তায় একা বের হলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে তবে আজকে জানলাম মায়ের সাথে বের হয়েও আমি নিরাপদ না।

কালকের খবরের কাগজে আমিও হয়তো একটা কলাম হয়ে যেতাম, আমার রক্ত মাংসের শরীরটার জন্য, কিছু জানোয়ারের জন্য।

যেদেশে একটা মেয়ে তার মায়ের সাথেও সুরক্ষিত নয় , সেই দেশ আর যাই হোক স্বাধীন নয়।

লেখক: শিক্ষার্থী, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ