• সোমবার, ২৮ মে ২০১৮, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
  • ||

ভারতের প্রধান বিচারপতিকে অপসারণের প্রস্তাব

প্রকাশ:  ২১ এপ্রিল ২০১৮, ০১:৩৭ | আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০১৮, ০২:২৯
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক
প্রিন্ট
ভারতের প্রধান বিচারপতিকে সংসদীয় বিচারের মাধ্যমে অপসারণ চেয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো রাজ্যসভায় একটি প্রস্তাব পেশ করেছে। প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তিনি বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগের প্রভাব থেকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি অসদাচরণেরও অভিযোগ আনা হয়েছে। খবর বিবিসির।

সংসদের উচ্চকক্ষে দেওয়া এই পিটিশনে সাতটি রাজনৈতিক দলের ৬৪ জন এমপি সই করেছেন। রাজ্যসভায় ইমপিচমেন্টের প্রস্তাব আনতে গেলে ন্যূনতম ৫০ জন এমপির সই লাগে, তবে লোকসভায় ওই একই প্রস্তাব আনতে হলে ১০০ জন সংসদ সদস্যকে সই করতে হয়।

এই প্রথম ভারতের কোনও প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনা হলো। যদিও অতীতে বেশ কয়েকজন বিচারপতিকে ইমপিচ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। কিন্তু তারা ওইসব প্রস্তাব পাশ হওয়ার আগেই ইস্তফা দিয়েছেন।

জনাব মিশ্রের বিরুদ্ধে যে পাঁচটি অসদাচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে, কোন মামলা কোন বেঞ্চে যাবে সেটি নির্ধারণের ক্ষেত্রে তিনি স্বেচ্ছাচার করেছেন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, বিচারপতি হওয়ার আগে তিনি যখন উড়িষ্যা হাইকোর্টে আইনজীবী ছিলেন, সেই সময়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে তিনি জমি নিয়েছিলেন।

বিচারপতি মিশ্র ভারতের প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন গত আগস্ট মাসে। আগামী অক্টোবরে তার অবসরে যাওয়ার কথা। ভারতে প্রধান বিচারপতির বয়স ৬৫ হলে তার অবসর নেওয়া বাধ্যতামূলক।

অবশ্য ইমপিচমেন্টের ব্যাপারে মিশ্রের অফিস থেকে জানানো হয়েছে, এবিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করবেন না।

যেসব এমপি পিটিশনে সই করেছেন তারা বিরোধী কংগ্রেস পার্টি, কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া এবং উত্তর প্রদেশের প্রভাবশালী দল সমাজবাদী পার্টিসহ আরও চারটি রাজনৈতিক দলের সদস্য।

এখন এই পিটিশনের উপর আলোচনা হবে কিনা সে বিষয়ে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান ভেঙ্কাইয়া নাইডু সিদ্ধান্ত নেবেন।

ভারতীয় সংবিধান অনুসারে সংসদের দুটো কক্ষে অনুমোদনের পরেই সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিকে ইমপিচ করা সম্ভব। তবে অপসারণের চূড়ান্ত নির্দেশ দেবেন প্রেসিডেন্ট। রাজ্যসভা ও লোকসভা- সংসদের এই দুটো কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ এমপির সমর্থন লাগবে। লোকসভায় নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি ও তার মিত্র দলগুলোর সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও রাজ্যসভায় সেটা নেই। ফলে এই প্রস্তাবের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত বলেই মনে করছেন অনেকে।