Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • শনিবার, ১৯ জানুয়ারি ২০১৯, ৬ মাঘ ১৪২৫
  • ||

এক মাস গেল না সংস্কারের, এর আগেই নাজেহাল সড়ক

প্রকাশ:  ১৬ মে ২০১৮, ২১:২৪
এম. এ. কাইয়ুম (মৌলভীবাজার)
প্রিন্ট icon

মৌলভীবাজারের জুড়ী-ফুলতলা-বটুলি শুল্ক স্টেশন সড়কের দৈর্ঘ্য সাড়ে ২২ কিলোমিটার। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি ভাঙা। এর মধ্যে গত বছরের (২০১৭) দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় বিভিন্ন স্থানে পানি উঠে এটি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সম্প্রতি সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের উদ্যোগে পুরো সড়কটির মাত্র সাড়ে তিন কিলোমিটার এলাকায় সংস্কারকাজ করানো হয়। কিন্তু, এ কাজ দায়সারা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সওজ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, সড়কটির ভিত্তি দূর্বল থাকায় এ অবস্থা হয়েছে।

সওজ অধিদপ্তর ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের মার্চ মাস থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত একাধিকবার টানা কয়েক দিন ভারী বৃষ্টিপাত হয়। এতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বন্যা দেখা দেয়। এ সময় জুড়ী-ফুলতলা-বটুলি শুল্ক স্টেশন সড়কের বিভিন্ন স্থান তলিয়ে যায়। তখন কয়েক দফা এ সড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। পানি নেমে যাওয়ার পর সড়কে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়।

এ সড়ক দিয়ে উপজেলার সদর জায়ফরনগর, সাগরনাল, গোয়ালবাড়ী ও ফুলতলা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার লোকজন চলাচল করে। এ ছাড়া এ সড়ক ব্যবহার করে বটুলি শুল্ক স্টেশন দিয়ে বিভিন্ন ধরনের পণ্য ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে আমদানি-রপ্তানি হয়। গত এপ্রিল মাসে সওজ অধিদপ্তর ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটির সাড়ে তিন কিলোমিটার জায়গায় সংস্কারকাজ করায়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের অধিকাংশ স্থান-ই ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। এসব স্থান ছোট ছোট গর্তে ভরা। সংস্কার করা কিছু স্থানে ঢেউয়ের মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সাগরনালের সমাই বাজার ও উপজেলা সদরের কামিনীগঞ্জ বাজার এলাকায় সড়কের বড় গর্তে কিছু ইটের খোয়া ফেলে রাখা হয়েছে।

সওজ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবদুল মান্নান মুঠোফোনে বলেন, ‘পুরো রাস্তাটা সংস্কারের জন্য মাত্র ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এইটা দিয়া সাড়ে তিন কিলোমিটার জায়গা সংস্কার করা হয়েছে। এর মধ্যে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলোতে ইটের খোয়া ফেলে গর্ত ভরাট করা হয়েছে। বাকি স্থান কার্পেটিং করে দেওয়া হয়েছে। রাস্তাটার বেইজ (ভিত্তি) খুব খারাপ। এই কারণে বেশ কিছু স্থান দেবে গেছে। কাজ না করালে রাস্তাটার অবস্থা আরও খারাপ হতো। এটাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে বলতে পারেন।’

জুড়ী-ফুলতলা-বটুলি শুল্ক স্টেশন সড়কের সাড়ে তিন কিলোমিটার জায়গায় সংস্কারকাজ করেছে ফেনীর র‌্যাব আর সি প্রাইভেট লিমিটেড এবং কুমিল্লার মোজাহার এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স সালেহ আহমদ নামের তিনটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে র‌্যাব আর সি ও সালেহ আহমদ প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কাজটি কিনে নেন কুমিল্লার ঠিকাদার রবি উল্লাহ। আর মোজাহার এন্টারপ্রাইজের কাজটি কিনে নেন মৌলভীবাজারের ঠিকাদার সন্দ্বীপ দাস।

সংস্কারকাজের পরও সড়কের বেহাল দশা সম্পর্কে জানতে চাইলে রবি উল্লাহ বলেন, ‘কাজটা ছিল সিলকোডের (বিটুমিনের প্রলেপ দেওয়া)। কিন্তু, কাজ করতে গিয়ে দেখলাম পুরা রাস্তা গর্তে ভরা। গর্তগুলো ভরাট করতে হইছে। এইচবিবির (ইট বিছানো) কাজও করতে হয়েছে। এর পর সিলকোড করেছি। কাজে লস (ক্ষতি) হয়েছে।’

সন্দ্বীপ দাস বলেন, ‘রাস্তাটার বেইজ খুবই খারাপ। গর্ত ভরাট করে সিলকোডের কাজ করতে হয়েছে। আগের অবস্থা থেকে রাস্তার উন্নতি হয়েছে।’

কুলাউড়া সড়ক বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রাশেদুল হক মুঠোফোনে বলেন, ‘জুড়ী-ফুলতলা-বটুলি শুল্ক স্টেশন সড়ক পুনঃনির্মাণে ৬৯ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্প প্রস্তাব আজ পরিকল্পনা কমিশন অনুমোদন করেছে। এখন তা একনেকে (জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি) যাবে।’

ওএফ

এক মাস গেল না সংস্কারের,,এর আগেই নাজেহাল সড়ক
apps