Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • শনিবার, ১৯ জানুয়ারি ২০১৯, ৬ মাঘ ১৪২৫
  • ||

ধ্বংসস্তূপে বসেই ইফতার

প্রকাশ:  ২৫ মে ২০১৮, ১৫:১৮
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রিন্ট icon

সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের দিক থেকে বেশ সমৃদ্ধ রাষ্ট্র সিরিয়া। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিতে একসময় বেশ আনুষ্ঠানিকতা ও আগ্রহ-উদ্দীপনার মাধ্যমে পালিত হতো রমজান মাস। কিন্তু গত ৭-৮ বছর ধরে চলমান যুদ্ধের ফলে রমজানের সেই আগের জৌলুশ এখন আর নেই। যেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষের ভাগ্যে ঠিকমতো খাবার জোটে না, ঘরহীন হয়ে শরণার্থী শিবিরে কাটাতে হয় দিন, ক্ষুধা মেটানোর জন্য তাকিয়ে থাকতে হয় ত্রাণের দিকে, সেখানে রমজানের বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা পালনকে বিলাসিতাই বলা চলে। তারপরও আল্লাহ্‌র প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও সন্তুষ্টি অর্জনের সুযোগ হাত ছাড়া করেন না ধর্মপ্রাণ সিরিয়ানরা।

সৃষ্টিকর্তার প্রতি ভালোবাসাকে অগ্নেয়াস্ত্র, গোলা-বারুদ, যুদ্ধপ্লেন, ট্যাংক, মিসাইল ইত্যাদি দিয়ে যে থামানো সম্ভব নয় সেটারই প্রমাণ এই সিরিয়ানরা।

রমজান মাস উপলক্ষে সিরিয়ানরা পরিবারের একমাসের বাজার আগে থেকেই কিনে রাখেন। রাজধানী দামেস্কের মিষ্টির দোকানগুলো ভরে ওঠে খদ্দেরে। আরও বিক্রি হয় স্বাস্থ্যকর ফল-মূল ও তাজা তরকারি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে রমজান মাসে সিরিয়ার একটি বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। এ মাসে আকাশছোঁয়া দামের কারণে হাজার হাজার পরিবার কিনতে পারেন না নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য। এমনকি কিছু পরিবারের জন্য বেঁচে থাকার মৌলিক পণ্যগুলোও কেনা সম্ভব হয় না। ধ্বংসস্তূপে বসে ইফতার।

এই মাসে নিজেকে নিঃসঙ্গ ভাবার উপায় নেই, কারণ বন্ধু, আত্মীয়, প্রতিবেশী সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে ইফতার করা সিরিয়ার একটি প্রাচীন ঐতিহ্য। বছর সাতেক আগেও সিরিয়ানদের ইফতারের টেবিলে দেখা মিলত মধ্যপ্রাচ্যের ঐতিহ্যবাহী খাবারদাবারের প্রাচুর্য। ইফতারে সিরিয়ানদের পছন্দ বিভিন্ন রকমের সালাদ, স্যুপ, রমজান উপলক্ষে বিশেষভাবে প্রস্তুত রুটি, ফল, কাবাব ও বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী ডেজার্ট।নিজেরা খাওয়ার পাশাপাশি বাড়িতে বাড়িতে ইফতার পাঠানো হতো। অনেক সময় দেখা যেত প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের বাড়ি থেকে পাঠানো ইফতারের আধিক্যে নিজ বাড়িতে রান্না ইফতার খাওয়ার সুযোগই মিলছে না।

বর্তমানের চিত্র অনেক ভিন্ন। যুদ্ধে ইতোমধ্যে মারা গেছেন অসংখ্য মানুষ। অনেক মানুষ হয়েছেন গৃহহীন, হারিয়েছেন পরিবার। তবে একসঙ্গেইফতার করার প্রথাটি হারিয়ে যায়নি।ধ্বংসস্তূপে বসে ইফতার। ছবি: সংগৃহীত

রমজান মাসে সিরিয়ান রোজাদারদের জন্য বিশেষ কার্যক্রম পরিচালনা করে বিভিন্ন দাতব্য সংগঠন। কিন্তু দেশটির অবরুদ্ধ অঞ্চলগুলোতে বিমান হামলার ভয়ে দাতব্য কার্যক্রম চালানোও বেশ কঠিন।

মে মাসে (২০১৮) বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ার প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, ধ্বংসস্তূপের পাশে বসেই ইফতার করছেন সিরিয়ান শিশুরা। বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত দৌমার বেশিরভাগ এলাকাই এখন ধ্বংসস্তূপে নিমজ্জিত। এরইমধ্যে সেখানকার বাসিন্দাদের জন্য একসঙ্গে ইফতারের ব্যবস্থাটি করেছে সিরিয়ান আদালেহ ফাউন্ডেশন।

ওএফ

ধ্বংসস্তূপে,বসে,ইফতার
apps