• শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ১ পৌষ ১৪২৫
  • ||

ভোট জমেছে তিন সিটিতে

বিএনপি-জামায়াত 'পাতানো খেলা'

প্রকাশ:  ১৭ জুলাই ২০১৮, ০১:৪৪
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক
প্রিন্ট

সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থিতার সিদ্ধান্তে এখনও অটল রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। বিএনপির শত অনুরোধেও সাড়া দিচ্ছে না তারা। এ নিয়ে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দলটির সঙ্গে বিএনপির দূরত্ব বাড়ছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে মেয়র প্রার্থী নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যকার এ দ্বন্দ্বকে 'পাতানো খেলা' হিসেবে দেখছেন আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতারা। তাদের ধারণা, শেষ পর্যন্ত বিএনপির প্রার্থীকেই সমর্থন দেবে জামায়াত!

যদিও নিবন্ধন হারানো ধর্মভিত্তিক দলটির নায়েবে আমির মিয়া গোলাম পরওয়ার বলছেন, নির্বাচন থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ নেই জামায়াতে ইসলামীর। সিসিক নির্বাচনের মেয়র প্রার্থী ও সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানালেন, ভোটের মাঠ ছাড়ছেন না তিনি।

অবশ্য বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সিলেটের বিদায়ী মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর দাবি, আসন্ন নির্বাচনে জামায়াত কিংবা অন্য কেউ তার বিজয়ের পথে বাধা হতে পারবে না। জনগণ বিএনপিকেই ভোট দেবে।

প্রার্থিতা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর এমন মুখোমুখি অবস্থানকে 'পাতানো খেলা' হিসেবে অভিহিত করছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন। তিনি ক্ষমতাসীন দলের মেয়র প্রার্থী ও সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন। তার ধারণা, জামায়াত শেষ পর্যন্ত বিএনপির প্রার্থীকে সমর্থন দেবে।

তবে স্থানীয়রা মনে করছেন, সিসিক নির্বাচন নিয়ে ১৯ বছরের পুরনো মিত্র বিএনপি ও জামায়াত আকস্মিকভাবে মুখোমুখি অবস্থানে চলে আসায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী সুফল পাবেন। বিএনপি ও জামায়াত পৃথকভাবে প্রার্থিতা করলে জোটের ভোট ভাগাভাগি হবে। তা ছাড়া বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে রয়েছেন বদরুজ্জামান সেলিমও। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়ায় সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে তাকে বহিস্কার করা হয়েছে। কিন্তু বিএনপির কিছু ভোট যেতে পারে তার পক্ষেও। সব মিলিয়ে তাই ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী আছেন সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে।

এর পরও সিলেট জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী বলছেন, সিটি নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী থাকায় বিএনপি সুবিধাপ্রাপ্ত হবে। বিএনপির স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা বলছেন, সিসিক নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হলে আগামী জাতীয় নির্বাচনে জোটের শরিকদের ওপর অনায়াসে নির্ভরতা কমাতে পারবে বিএনপি। সে ক্ষেত্রে আসন বণ্টন করা যাবে অনেকটা নির্ভার হয়ে। তবে আগামী ৩০ জুলাই অনুষ্ঠেয় সিটি নির্বাচনে সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বর্তমান সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী পরাজিত হলে জোটের রাজনীতিতে জামায়াতের প্রভাব আরও বাড়বে। এতে ২০ দলীয় জোটের রাজনীতিতে সংকট বাড়বে বলেও আশঙ্কা করছেন অনেকে।

সেই আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সিসিক নির্বাচনের প্রভাব আগামী জাতীয় নির্বাচনে পড়ার প্রশ্নই ওঠে না। সিলেটের দুই মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী ও এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, তারাও আশা করছেন- সিসিক নির্বাচনে দুই দলের প্রার্থী থাকলেও জোটের রাজনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।

মুখে স্বীকার না করলেও জামায়াত ও নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থীকে নিয়ে ভোটের মাঠে বিএনপি বেশ বিপাকে পড়েছে বলে মনে করেন দলটির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। নিবন্ধন হারানো জামায়াত আগামী নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপিকে চাপে রাখতেই সিসিক নির্বাচন নিয়ে গো ধরেছে বলেও ধারণা করছেন অনেকে। এমন প্রেক্ষাপটে গত শনিবার রাজধানীতে ২০ দলীয় জোটের বৈঠকে জামায়াতকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য পুনরায় অনুরোধ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল।

এ প্রসঙ্গে জামায়াতের নায়েবে আমির মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপির অনুরোধ রক্ষার সুযোগ নেই। এ নিয়ে বিকল্প ভাবনাও নেই জামায়াতের। সিলেটের সিটি নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবেন। এই নির্বাচনে অংশ নিলে জামায়াতের কল্যাণ হবে দাবি করে গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, বিএনপির লাভ-ক্ষতির বিষয়টি তারাই দেখুক।

সরকারের সঙ্গে জামায়াতের আঁতাত হয়েছে- এমন গুঞ্জন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রভাবশালী নায়েবে আমির পরওয়ার বলেন, 'আঁতাত' শব্দটি তারা ঘৃণা করেন। সরকার জামায়াতের নেতাদের ফাঁসি দিয়েছে। প্রতীক ও নিবন্ধন কেড়ে নিয়েছে। এই সরকারের কারণে অনেক কিছু হারিয়েও জামায়াত মাথা নত করেনি, করবেও না।

সিসিক নির্বাচনে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, সিলেটে তার ভালো ভোটব্যাংক রয়েছে। ২০ ভাগের বেশি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক এই কেন্দ্রীয় সভাপতি। তার দাবি, জামায়াতের প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় বিএনপির সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি নেই। স্থানীয় আওয়ামী লীগের সঙ্গেও রাজনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। সূত্রঃ সমকাল

জামায়াত,বিএনপি
apps