• বুধবার, ১৫ আগস্ট ২০১৮, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫
  • ||

নাগরিক সমাজের অনেকেই বিক্রি হয়ে গেছেন

প্রকাশ:  ২২ জুলাই ২০১৮, ১০:৪৩
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক
প্রিন্ট

লেনদেনের প্রশ্নে নাগরিক সমাজের অনেকেই বিক্রি হয়ে গেছেন বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার।

শুক্রবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে সাংবাদিক ও সুধীজনদের সঙ্গে বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময়কালে তিনি এ মন্তব্য করেন। খবর এনআরবি নিউজ।

তিনি বলেন, নাগরিক সমাজের বর্তমান দুরবস্থার জন্য নাগরিক সমাজই দায়ী। নিজেদেরও আয়নার সামনে দাঁড়ানো উচিত। আরেকটি যে জিনিস নাগরিক সমাজকে ধ্বংস করেছে, আমাদের দুই নেত্রী কিন্তু একটি কাজ শুরু করেছিলেন ১৯৯১ সালের পর থেকে, আমি নিশ্চিত তাঁরা সলাপরামর্শ করেননি, ফায়দা দেওয়া রাজনীতি, ফায়দাতন্ত্র, পেট্রনাইজ সিস্টেম। আপনি যদি ক্ষমতায় থাকেন, অর্থাৎ ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে থাকলে, তাদের সঙ্গে সুর মেলালে, তাদের দলে থাকলে আপনি সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবেন। আর যদি আপনি তা না করেন, তাহলে আপনার যা প্রাপ্য, ন্যায্য অধিকার, তা থেকেও বঞ্চিত হবেন। নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও হিউম্যান বিইং, সে অনুযায়ী নাগরিক সমাজের লোকজনও লেনদেনের প্রশ্নে অনেকেই বিক্রি হয়ে গেছেন। নাগরিক সমাজও এখন দলগতভাবে বিভক্ত। বিএনপির নাগরিক সমাজ এবং আওয়ামী লীগের নাগরিক সমাজ। সহজভাবে বলা যায়, এখন কারও সুদিন, আবার কারও দুর্দিন। কেউ কেউ আবার সুদিনের জন্য রং পরিবর্তন করে। অর্থাৎ বসন্তের কোকিল। আমরা হয়তো অতটা বুদ্ধিমান না। এ জন্য আমরা পারিনি। জানি না, কতদিন এমন পরিস্থিতির মধ্যেও নিজেদের সুপথে রাখতে সক্ষম হব।

বদিউল আলম মজুমদার আরও বলেন, ১/১১-এ গঠিত কেয়ারটেকার সরকার বিপুল সমর্থনে দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হলেও পরবর্তীতে তারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করেছেন। এ ছাড়া, দায়িত্ব গ্রহণের আগে কোনো কোনো দলের অকুণ্ঠ সমর্থন থাকলেও পরবর্তীতে রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন হারিয়ে ফেলেছিল। দলগুলোও সোচ্চার হয়েছিল নির্বাচনের জন্য। তিনি বলেন, সরকার যদি সহায়তা না করে তাহলে কোনো কমিশনই, তারা যত ন্যায়নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করুক না কেন, নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সক্ষম হবে না। এ জন্য দরকার রাজনৈতিক সমঝোতা। নির্বাচনকালীন সরকারের ব্যাপারে জাতীয় ঐক্যমত গঠন এবং নির্বাচন যাতে সঠিকভাবে করা সম্ভব হয়, সে ধরনের বিধি তৈরি করা এবং সর্বোপরি কিছু বিষয় চিহ্নিত করে তা যথাযথভাবে সম্পাদনে জাতীয় সনদ রচনা করা প্রয়োজন। নির্বাচনের পর কোনো ধরনের সংঘাত করবে না—এমন একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে হবে সব রাজনৈতিক দলকে। তাহলেই প্রত্যাশিত নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

একপর্যায়ে সুজন সম্পাদক বলেন, বাংলাদেশের নিম্ন পর্যায়ের বিচার ব্যবস্থা ভেঙে খান খান হয়েছে। প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার পদত্যাগের পর দেশত্যাগের ঘটনাবলিতে অনেক কিছু্র ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

/এসএম

বদিউল আলম মজুমদার