• মঙ্গলবার, ১৪ আগস্ট ২০১৮, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৫
  • ||

‘গোয়েন্দা প্রতিবেদন’ মুক্ত পদোন্নতি চান ডিসিরা

প্রকাশ:  ২২ জুলাই ২০১৮, ১২:৫৬
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক
প্রিন্ট

জনপ্রশাসনের ক্যাডার কর্মকর্তারা পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষেত্রে সঠিকভাবে মূল্যায়িত হন না বলে ডিসিদের (জেলা প্রশাসক) পক্ষ থেকে মন্তব্য করা হয়েছে। এক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার (গোয়েন্দা) প্রতিবেদন নেয়ার বাধ্যবাধকতা শিথিল করে প্রশাসনের গোপনীয় প্রতিবেদন (এসিআর) বিবেচনা করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

পাশাপাশি মাঠ প্রশাসনে কর্মরত তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীদের সচিবালয়ের মতো পদোন্নতি দিতে সুপারিশ করেছেন সব জেলার ডিসিরা। বিভিন্ন জেলার ডিসিদের পাঠানো এসব বিষয়সহ মোট ৩৪৭টি প্রস্তাব উঠছে ২৪ জুলাই অনুষ্ঠেয় তিন দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে।

ডিসিদের প্রস্তাবে আরও আছে আদালত অবমাননা মামলায় ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আগে মাঠ প্রশাসনের অভিমত গ্রহণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম (ফেসবুক) ব্যবহারের ন্যূনতম বয়স নির্ধারণ, বন্ধ থাকা বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অতিথিদের খাবারের জন্য খাদ্যশস্য সহায়তা (জিআর) চালু এবং পাঠ্যবইয়ে ভূমি সংক্রান্ত প্রবন্ধ অন্তর্ভুক্ত করা।

২৪ জুলাই সকাল সাড়ে ৯টায় নিজ কার্যালয়ের ‘শাপলা’ হলে এ সম্মেলন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদের কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেবেন মাঠ প্রশাসনের ৬৪ ডিসি ও আট বিভাগীয় কমিশনার। সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে গিয়ে মাঠপর্যায়ের নানা প্রতিবন্ধকতা ও সমস্যার বিষয়ে তারা প্রধানমন্ত্রীর সামনে অনেকটাই খোলামেলাভাবে তুলে ধরবেন।

উদ্বোধনের পর বাকি অধিবেশনগুলো সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলন চলবে ২৬ জুলাই পর্যন্ত। ৪৭টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সম্পর্কিত ২০টি কর্ম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।

বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সম্পর্কিত ডিসিদের পাঠানো উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবগুলো নিচে তুলে ধরা হল:

আদালত অবমাননা মামলায় হাজিরা দেয়া থেকে মুক্তি চান ডিসিরা। তাদের মতে, সরকারি স্বার্থ রক্ষা করে সিদ্ধান্ত নিতে গেলে অনেক সময় আদালত অবমাননা মামলার উদ্ভব হয়। এতে সংশ্লিষ্টদের আদালতে উপস্থিত হতে হয়।

সরকারি স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে কর্মকর্তারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আদালত অবমাননা মামলায় ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি ও মামলাটি সরকারি কৌঁসুলি দিয়ে পরিচালনার সুপারিশ করেছেন ময়মনসিংহের ডিসি।

সিআরপিসি এবং ওথস অ্যাক্ট অনুযায়ী এফিডেভিট সংক্রান্ত কাজ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয়ে হয়। হলফনামা বা শপথ বা ঘোষণাপত্র সম্পাদন করার বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেয়ার সুপারিশ করেছেন চট্টগ্রামের ডিসি। এছাড়া বৈবাহিক সনদ প্রদান সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের প্রস্তাব দিয়েছেন বরিশালের জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান। দেশে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের ছায়া পড়বে এবারের ডিসি সম্মেলনে। সম্মেলনে ৭ জন ডিসি ও একজন বিভাগীয় কমিশনার মাদক নিয়ে চারটি সুপারিশ করেছেন। জেলা কারাগারে মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র স্থাপনের সুপারিশ করেছেন বগুড়া, টাঙ্গাইল ও ঠাকুরগাঁওয়ের ডিসি।

তারা বলেছেন, জেলা কারাগারে মাদক নিরাময় কেন্দ্র না থাকায় মাদকাসক্তদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা যাচ্ছে না। দেশের প্রতিটি কারাগারে হাসপাতালের পাশাপাশি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র স্থাপন করা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।

বিভাগীয় শহরে স্বয়ংসম্পূর্ণ মাদকদ্রব্য টেস্টিং ল্যাবরেটরি স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার এবং খুলনা ও মেহেরপুরের ডিসি। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৯০-এর বিভিন্ন ধারার অপরাধে মামলা রুজুর পর আলামত হিসেবে বিভিন্ন মাদকের রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করায় টেস্টের ফলাফল পেতে অনেক সময় অপেক্ষা করতে হয়।

এতে আসামিরা জামিনে মুক্তি পায় এবং অপরাধ বৃদ্ধি পায়। ‘ও-মরফোন’কে মাদক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছেন দিনাজপুরের ডিসি। তিনি বলেছেন, সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে ফেনসিডিলের পরিবর্তে ও-মরফোন নামে এক ধরনের মাদকের ব্যাপক ব্যবহার হচ্ছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে এ নতুন মাদক সম্পর্কিত কোনো বিধান নেই। মাদক মামলা নিষ্পত্তির জন্য আলাদা আদালত গঠনের কথা বলেছেন বগুড়ার ডিসি। তিনি এ প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছেন, বর্তমানে জেলা কারাগারে আটক বন্দিদের প্রায় ৭০ বন্দি মাদক মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত।

এসব মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ সময় লাগার কারণে অনেক সময় সাক্ষী উপস্থাপন করা সম্ভব হয় না। মাদক মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা হলে জেলখানায় আটক বন্দির সংখ্যা হ্রাস পাবে।

বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলগুলোতে বিদেশি বিজ্ঞাপন বাংলা ভাষায় ডাবিং করে প্রচার হওয়ায় দেশি মিডিয়ার শিল্পীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এর ফলে দেশের শিশু ও তরুণরা ক্ষেত্রবিশেষে বিকৃত উচ্চারণে বাংলা বলার প্রতি আগ্রহী হয়ে পড়ছে।

বিজ্ঞাপনে বিদেশি মডেল থাকায় পরোক্ষভাবে দেশীয় পণ্য ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে। এসব কারণে বিদেশি ভাষায় নির্মিত বিজ্ঞাপনের ডাবিং ভার্সন প্রচার বন্ধ করার নীতিমালা করার সুপারিশ করেছেন কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক।

পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যথেচ্ছ ব্যবহারের ফলে শিশু-কিশোরদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয় হচ্ছে বলে মনে করছেন নরসিংদী ও ময়মনসিংহের ডিসিরা। তাদের মতে, এসব কারণে শিশু-কিশোরদের স্বাভাবিক মানসিক ও শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে।

সঠিক সামাজিকায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ন্যূনতম বয়স নির্ধারণ করার সুপারিশ করেছেন তারা।

শিক্ষাক্ষেত্রের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে উদ্বিগ্ন ডিসিরা। শিক্ষা নিয়েও বেশ কিছু সুপারিশ করেছেন তারা। এর মধ্যে রয়েছে- কিন্ডারগার্টেনগুলোতে বিভিন্ন ধরনের বই পড়ানো হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব বইয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের সমাজ, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্ক সামান্য বলে মনে করেন খুলনার জেলা প্রশাসক। তিনি কিন্ডারগার্টেনের বইয়ের বিষয়ে জেলা কমিটির অনুমোদন বাধ্যতামূলক করার কথা বলেছেন। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের টিউশন ফি’র সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা নেই। অথচ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনের শতভাগ সরকার দেয়।

টিউশন ফি’র কোনো নীতিমালা না থাকায় তা যথেচ্ছ ব্যবহার হয়। এ সংক্রান্ত নীতিমালা চেয়েছেন গাইবান্ধার ডিসি। বেসরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষক নিয়োগ এনটিআরসির মাধ্যমে হওয়ায় শিক্ষক নিয়োগে কিছুটা শৃঙ্খলা এসেছে।

অধ্যক্ষ বা প্রধান শিক্ষকদের মতো প্রতিষ্ঠান প্রধান ও অন্যান্য সাপোর্ট স্টাফ নিয়োগের কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ করায় নানা ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যায়। এ অবস্থা থেকে বের হয়ে আসার জন্য বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব নিয়োগ এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে করার সুপারিশ করেছেন খুলনার ডিসি।

কয়েক বছর আগে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে বিভিন্ন স্কুলে মিড-ডে মিল চালু করা হয়। এই মিড-ডে মিল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ঝরে না পড়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। স্থানীয় উদ্যোগে এ মিড-ডে মিল চলছে। এতে সরকারি বরাদ্দ চেয়েছেন নওগাঁর ডিসি।

অননুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এনসিটিবির বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণে কোনো নিয়মনীতি মেনে চলে না। তাদের নিয়মের মধ্যে আনার সুপারিশ করেছেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক।

সড়ক ও রেল যোগাযোগ খাতের বিষয়ে চিন্তিত ডিসিরা। গাজীপুর ও ময়মনসিংহের ওপর দিয়ে জামালপুর চলাচলকারী তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেনের আসন বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন জামালপুরের ডিসি।

কারণ এই পথে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী টিকিট কিনেও দাঁড়িয়ে যাতায়াত করছেন। এই রুটে দীর্ঘদিন ধরে নির্ধারিত মূল্য দিয়ে ট্রেনের আসন মেলে না। আর সড়কগুলোতে যাত্রীবাহী বাস, ট্রাকসহ বড় গাড়ির পাশাপাশি থ্রি-হুইলার চলাচলের কারণে প্রতিদিনই সড়ক দুর্ঘটনা হচ্ছে।

ব্যাটারিচালিত এসব থ্রি-হুইলার যানজটেরও কারণ। সড়ক দুর্ঘটনা ও যানজট রোধের জন্য থ্রি-হুইলার এবং এর যন্ত্রপাতি আমদানি বন্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছেন লালমনিরহাটের ডিসি।

এছাড়া বিটুমিনের পরিবর্তে কংক্রিট ঢালাইয়ের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে গ্রামীণ সড়ক নির্মাণের সুপারিশ করেছেন ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার। আন্তর্জাতিক সড়কের মর্যাদাপ্রাপ্ত যশোর রোডের দু’পাশের শতবর্ষী বৃক্ষরাজি কালের সাক্ষী।

পরিবেশের অতন্দ্রপ্রহরী এসব গাছ কেটে ফেলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এসব গাছ না কাটার সুপারিশ করেছেন খুলনার জেলা প্রশাসক।

মৌসুমি ফলের সংরক্ষণ নিয়ে চিন্তিত সংশ্লিষ্ট জেলার ডিসিরা। বান্দরবান জেলায় বিভিন্ন মৌসুমে প্রচুর আম, পেঁপে, আনারস, কলা, কমলা ও কাঁঠাল উৎপাদিত হয়। রুমা ও থানচিতে প্রচুর কাজুবাদাম ও কফি হয়। অথচ বান্দরবান জেলায় কোনো হিমাগার নেই। বান্দরবানের জেলা প্রশাসক ফল ও সবজি প্রক্রিয়াকরণের জন্য কারখানা ও হিমাগার স্থাপনের সুপারিশ করেছেন। একইভাবে খুলনা বিভাগে আম প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা নির্মাণের কথা বলেছেন খুলনার বিভাগীয় কমিশনার।

তিনি জানিয়েছেন, খুলনা বিভাগের সাতক্ষীরা, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গাসহ বিভিন্ন জেলায় প্রচুর পরিমাণে উন্নত জাতের আম উৎপাদিত হয়। এসব আম থেকে জুস, সফট ড্রিংক, আচার, জ্যাম, জেলি এসব মুখরোচক খাদ্য প্রস্তুত করে দেশজ চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রফতানি করা সম্ভব। এতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার বিষয়েও উদ্বিগ্ন ডিসিদের কেউ কেউ। তাদের মতে, চিকিৎসকের স্বল্পতা থাকার পরও পদায়নকৃত চিকিৎসকদের প্রায়ই ডেপুটেশন বা অন্যত্র সংযুক্তি দেয়া হয়। এতে জনসাধারণের চিকিৎসাসেবায় মারাত্মকভাবে বিঘ্ন ঘটছে।

উপজেলা বা জেলা হাসপাতালে পদায়নকৃত চিকিৎসকদের ডেপুটেশন বন্ধ করার সুপারিশ এসেছে রাজবাড়ীর ডিসির কাছ থেকে। একই সঙ্গে উপজেলা পর্যায়ে ন্যূনতম তিন বছরের সেবা প্রদান বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করেছেন সুনামগঞ্জের ডিসি।

মেধাবী শিক্ষার্থীরা চিকিৎসাসেবায় আসেন। কিন্তু তুলনামূলকভাবে তাদের পদোন্নতির সুবিধা কম। পদ সৃষ্টি করে চিকিৎসকদের পদোন্নতির সুযোগ দেয়ার সুপারিশ করেছেন নাটোরের ডিসি। এছাড়া চরাঞ্চলের জন্য ভাসমান হাসপাতাল চালু করার প্রস্তাব করেছেন ভোলার ডিসি।

ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে বেশ কিছু প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- নির্ধারিত সময়ের পর নবায়নের ক্ষেত্রে বিলম্ব ফি বা জরিমানার বিধান নেই ট্রেড লাইসেন্সের ক্ষেত্রে। নেত্রকোনার ডিসি সুপারিশ করেছেন নির্ধারিত সময়ের পর ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করলে বিলম্ব ফি আরোপ করার।

এতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে দায়িত্বশীলতা তৈরি হবে। ব্যবসা-বাণিজ্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য প্রতি বছর কমার্শিয়ালি ইম্পটেন্ট পার্সন (সিআইপি) নির্বাচন করা হয়। কৃষি, মৎস্য ও পশুপালনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে এ ধরনের কোনো স্বীকৃতি নেই।

এ স্বীকৃতি প্রদান করা হলে কৃষকরা উৎসাহিত হবেন। একই সঙ্গে দেশের তরুণ সমাজও কৃষি খাতে কাজ করতে উৎসাহী হবে, যা দেশের খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা করবে।

এসব যুক্তি তুলে ধরে ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার এবং নরসিংদীর জেলা প্রশাসক প্রতি বছর কৃষি খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য কৃষকদের সিআইপির আদলে এআইপি-এগ্রিকালচারালি ইমপর্টেন্ট পার্সন-এআইপি স্বীকৃতি দেয়ার কথা বলেছেন।

জমিজমার হয়রানি ও অনিয়ম প্রসঙ্গে ডিসিরা বলেছেন, রেজিস্ট্রেশন ফি কম দেখানোর স্বার্থে দেশের কিছু কিছু সাবরেজিস্ট্রি অফিসে জমির শ্রেণী পরিবর্তন করে দলিল রেজিস্ট্রেশন করা হচ্ছে। এতে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং নামজারির ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে।

বগুড়ার ডিসি কম দাম দেখিয়ে শ্রেণী পরিবর্তন করে দলিল করা রোধ করার সুপারিশ করেছেন। অর্পিত সম্পত্তির মামলার রায়ের বিরুদ্ধে ৪৫ দিনের মধ্যে আপিল করতে হয়। বিভিন্ন প্রশাসনিক সমস্যার কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করা সম্ভব হয় না।

আপিল করার সময় বাড়ানোর সুপারিশ এসেছে সিরাজগঞ্জের ডিসির কাছ থেকে। বর্তমানে বহুতল ভবনের ফ্ল্যাটের আয়তন বড় হওয়া সত্ত্বেও জমির পরিমাণ অযুতাংশের কম হওয়ায় ৬০ টাকা হারে খাজনা নেয়া হয়।

বাস্তবিক অর্থে ফ্ল্যাটের মূল্যের সঙ্গে বিবেচনা করলে খাজনার হার খুবই সামান্য। রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে বহুতল ভবনের ফ্ল্যাটের আয়তন অনুযায়ী খাজনা পুনর্নির্ধারণ করে পরিপত্র জারির সুপারিশ করছেন ঢাকার জেলা প্রশাসক।

ঢাকা শহরের চারটি প্রধান নদী শীতলক্ষ্যা, বুড়িগঙ্গা, তুরাগ ও বালু নদী মৃতপ্রায়। যেসব খাল, ডোবা বা নালা দিয়ে দূষণ ছড়িয়ে পড়ছে তার উৎসমুখ চিহ্নিত করে বর্জ্য পরিশোধনাগার করার সুপারিশ এসেছে নারায়ণগঞ্জের ডিসির কাছ থেকে। সূত্র: যুগান্তর

/এসএম

ডিসি