• রবিবার, ১৯ আগস্ট ২০১৮, ৪ ভাদ্র ১৪২৫
  • ||

কয়লার কারণে বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধের উপক্রম, সংকটে আট জেলা

প্রকাশ:  ২২ জুলাই ২০১৮, ২১:১২ | আপডেট : ২২ জুলাই ২০১৮, ২১:১৯
দিনাজপুর প্রতিনিধি
প্রিন্ট

কয়লা সংকটের কারণে সোমবার (২৩ জুলাই) থেকে বন্ধের উপক্রম হয়ে গেছে দেশের এক মাত্র কয়লা ভিক্তিক দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া ৫২৫ মেগওয়াড তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। আগামী দুই এক দিনে মধ্যেই বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির কয়লা সংকটে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে বিদুৎ সংকটে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে উত্তরাঞ্চলের দিনাজপুরসহ রংপুর বিভাগের আট জেলা।

বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল হাকিম বলেন, কয়লা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানী লিঃ (বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি) কর্তৃপক্ষ কয়লা সরবরাহ করতে না পারায়, তাপ বিদুৎ কেন্দ্রটি বন্ধ করতে বাধ্য হবেন।

জানা গেছে, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে উত্তোলন কৃত কয়লা মধ্যে এক লাখ ৪০ হাজার মে: টন কয়লা ঘাটতি রয়েছে, এই কারনে গত ১৯ জুলাই বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কোম্পানীর সচিব (জিএম প্রশাসন) কে প্রত্যাহার করেছে, একই কারনে মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মাইনিং এন্ড অপরেশন, ও উপ-মহাব্যবস্থাপক (স্টোর) কে সাময়িক বহিস্কার করেছে। যদিও খনি কতৃপক্ষ বলছে এক লাখ ৪০ হাজার টন কয়লা সিস্টেম লস। তাদের দাবী গত ১১ বছরে এক কোটি ১০ লাখ টন কয়লা উত্তোলন করা হয়েছে এর মধ্যে এক লাখ ৪০ হাজার টন কয়লা সিস্টেম লস।

এদিকে বিদুৎ সরবরাহ কারী প্রতিষ্ঠান নর্দান ইলেক্ট্রি সাপ্লাই কোম্পানী লিঃ নেসকো এর রংপুর জোন এর প্রধান প্রকৌশলী শাহাদৎ হোসেন সরকার বলেন, রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় প্রতিদিন ৬৫০ মেগওয়াড বিদ্যুতের প্রয়োজন, এর মধ্যে ৫২৫ মেগওয়াড বিদুৎ আসে বড়পুকুরিয়া তাপ বিদুৎ কেন্দ্র থেকে, কিন্তু কয়লা সংকটের কারনে গত এক মাস থেকে বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২টি ইউনিট বন্ধ রয়েছে, সেখান থেকে মাত্র ১৫০ মেগওয়াড বিদুৎ আসতো। এই কারনে গত এক মাস থেকে বিদুতের কিছু ঘাটতি দেখা দিয়েছে, এখন পুরোপুরি বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বন্ধ হওয়ায় এই ঘাটতি আরো বাড়লো। তিনি আরো বলেন বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বন্ধ হলেও, বাহির থেকে বিদুৎ এনে চাহিদা পুরোন করা হবে, তবে এতে বিদুতের ভোল্টেজ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, সেই সাথে লোড শেডিং হতে পারে।

অপরদিকে বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দিলে বড় রকমের লোকশানের মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান কলকারখানা ও শিল্প প্রতিষ্টান গুলোর মালিকরা। ফুলবাড়ী লাভলী ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ প্রাঃ লিঃ এর চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ খুরশিদ আলম মতি বলেন, প্রতিদিন ২ ঘন্টা বিদুতের লোড শেডিং হলে প্রতিদিন ৪-৫ লাখ টাকা লোকশান গুনতে হবে। একই কথা বলেন মির্জা গ্রæপ অব ইন্ডাঃ এর জেলারেল ম্যানেজার মশিউর রহমান। তারা আরো বলেন, ঘনঘন লোড শেডিং হলে শুধু আর্থিক ক্ষতি নয় ,মেশিনের ক্ষতিও হয়, এতে লোকশানের পরিমান আরো বেড়ে যায়।

বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানী লিঃ এর মহা ব্যবস্থাপক এবিএম কামরুজ্জামান বলেন, আগামী আগষ্ট মাসের মধ্যে নতুন ফেইজ থেকে কয়লা উত্তোলন শুরু হবে, কয়লা উত্তোলন শুরু হলেই কয়লার এই সংকট থাকবে না বলে তিনি আশা রাখেন।

বড় পুকুরিয়া কয়লা খনির শ্রমিক নেতা রবিউল ইসলাম রবি জানায় , বড়পুকুরিয়া খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহম্মদ ও খনির সচিব (জিএম প্রসাশন) আবুল কাশেম প্রধানিয়া , মাইনিং বিভাগের জিএম নুরুজ্জামান চৌধুরী ও ডিজিএম খালেদুল ইসলামসহ এই কয়েক জন বড় কয়লা খনির কর্মকর্তা কয়লা খনির ১ লক্ষ ৪০ হাজার টন কয়লা রাতের আধানে বিক্রি করে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে । সঠিক তদন্ত করে এই কয়েকজন কর্মকর্তাকে আইনের মুখোমুখি দাড় করাতে পারলেই দুর্নীতি কমে যাবে ।

অপর শ্রমিক নেতা মিজানুর রহমান মিজান জানায় , জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয় থেকে গত রবিবার এক উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটির দল তদন্ত শুরু করেছে । সোমবার আবারও এক তদন্ত টিম তদন্ত করেছে । বড়পুকুারিয়া কয়লা খনিতে কয়েকজন কর্মকর্তার ত্রাসের কারনে আজ কয়লা সংকটে পড়েছে । দুনীর্তিবাজ কর্মকর্তাদেরকে সঠিক তদন্ত করে আইনের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির ব্যবস্থা করলেই পরবতীতে আর কেউ দূর্নীতি করতে পারবে না ।

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আইয়্যুব আলী খান চৌধুরীর সাথে বর্তমান বড় পুকুরিয়া কয়লা খনির সার্ভিক পরিস্থিতি জানার জন্য বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে ঢুকতে চাইলে নিরাপত্তা কর্মীরা সংবাদকর্মীদের প্রবেশ করতে দেয়নি । এমডির সাথে তার ব্যাক্তিগত মোবাইল কয়েকবার যোগাযোগ করা চেষ্ঠা করা হলে রিসিব করেননি ।

কয়লা সংকট,দিনাজপুর