• বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫
  • ||

ঘাম ঝরালাম রক্ত ঝরালাম সবকিছু হারিয়ে কাঙাল হলাম

প্রকাশ:  ১৪ আগস্ট ২০১৮, ১৮:২৪
বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম
প্রিন্ট

রাত পোহালেই সেই কালো দিন ১৫ আগস্ট। যেদিন বাঙালি জাতির ভাগ্য বিপর্যয় ঘটেছে। দেশ ও জাতির সঙ্গে সঙ্গে আমার এবং আমার পরিবারের কপাল পুড়ে ছারখার হয়েছে। আমার এবং আমার পরিবারের সেই পোড়া কপাল আজও জোড়া লাগেনি। আবার যে জোড়া লাগবে সে আশাও এখন আর করি না। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের সব ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। পাকিস্তানি হানাদাররা ঘরবাড়ি পুড়ে ছারখার করে দিয়েছিল। নিভৃত গ্রামের বাড়িও তাদের আক্রমণ থেকে রক্ষা পায়নি। তাও সহ্য করেছিলাম স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর ভালোবাসায়। কিন্তু বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর আমাদের আর কিছু থাকেনি। সবকিছু হারিয়ে গেছে। বন্যার বানে বিলীন হয়ে যাওয়ার মতো আমাদের সব ধুুয়েমুছে সাফ হয়ে গেছে।

১৬ বছর নির্বাসনে, প্রায় আরও ৩২ বছর বঞ্চনার মধ্যে অতিবাহিত করছি। ২১ বছর পর ’৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। তখনো ছিটেফোঁটা আওয়ামী লীগ ছিল। এখন তাও নেই। আমরা যারা বঙ্গবন্ধুর জন্য জীবনপাত করেছিলাম, সংসার ছারখার করেছিলাম তারা প্রতি পদে পদে নির্যাতনের শিকার। আর কীভাবে যে যারা বঙ্গবন্ধুর হাড্ডি-মাংস চিবিয়ে খেয়ে তার সরকারের পতন ঘটিয়েছে তারা আজ জননেত্রীর চোখের আলো। কী করে যে এসব হয় কিছুতেই বুঝতে পারছি না। লোকগুলোর কী দারুণ ক্ষমতা, কীভাবে তারা এসব করে তারাই জানে। আমরা ঘাম ঝরালাম রক্ত ঝরালাম সবকিছু হারিয়ে কাঙাল হলাম। তবু আমরা অপরাধী আর তারা নির্বিবাদে সুখের ঢেঁকুর তুলছে।

তবু একভাবে না একভাবে সময় কেটে যাচ্ছে। আগামীকাল আসরের নামাজ আদায় করতে ৪টা সাড়ে ৪টায় বঙ্গবন্ধুর বাড়ি যাব। পরদিন টুঙ্গিপাড়া যাব ফাতেহা পাঠ করতে। যতদিন আছি পিতা ও নেতাকে হৃদয়ে লালন করে যাব। কাউকে লালন করতে, ধারণ করতে অন্যের অনুমতির প্রয়োজন পড়ে না। তাই যতটা সম্ভব আত্মার টানে আত্মার শান্তি ও তৃপ্তির জন্য বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করে যাব। এর জন্য কারও অনুমতির তোয়াক্কা করব না। সবার জন্য সবকিছু নয়। আল্লাহ যার জন্য যা নির্ধারণ করেছেন তিনি তাই পাবেন। আমার জন্য যদি আল্লাহর তরফ থেকে এসব নির্ধারিত হয়ে থাকে চেঁচামেচি করে লাভ কী? আল্লাহর ইচ্ছা আনন্দের সঙ্গে মেনে নেওয়া ভালো। তাই মেনে চলেছি। কতদিন এভাবে চলবে জানি না। কিন্তু যতদিন চলে চলুক। অন্য কিছুতে ভালো লাগে না, মন বসে না। মনের টানে যা ভালো লাগে তাই করি। তাই তার মৃত্যুর দিনে আল্লাহর কাছে তার এবং তার পরিবারের সবার শান্তি কামনা করছি। দয়াময় প্রভু সবাইকে যেন বেহেশতবাসী করেন।

মুসলিম নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়া। একদিনও স্কুল-কলেজে না গিয়ে সুফিয়া কামাল পূর্ববঙ্গের নারীসমাজের নেতৃত্ব দিয়েছেন। টাঙ্গাইলের কুমুল্লীর ফজিলাতুননেছা ছিলেন প্রথম বিএ পাস মুসলিম মহিলা। তাদের নিয়ে কত কথা কত আলোচনা। কিন্তু একেবারে লেখাপড়ার ধারের কাছে না যাওয়া মহীয়সী নারী হলেন বঙ্গমাতা ফজিলাতুননেছা। অত অল্প বয়সে কখনো মুসলিম সমাজে কোনো বিয়ে-শাদি হতো না। কিন্তু শেখ লুত্ফর রহমানের ছেলে শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে শেখ ফজিলাতুননেছার খুব অল্প বয়সে বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের নানা কারণ ছিল। বাপ মরা মেয়েকে লালন-পালন করতে পারিবারিকভাবে ভাইয়ের মেয়েকে পুত্রবধূ করেছিলেন।

তিনি যে এমন জগদ্বিখ্যাত হবেন সেদিন হয়তো তারা কেউ জানতেন না। একজন মানুষের প্রাথমিক শিক্ষা না থাকলেও সে যে স্বশিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারে, জ্ঞানী হতে পারে তা যারা বঙ্গমাতা ফজিলাতুননেছাকে দেখেছেন তারা বলতে পারবেন। অনেকের অন্যের কলকিতে তামাক খাওয়ার বাতিক থাকে। আমার সে ধরনের বাতিক নেই, কোনো দিনও ছিল না। ১৯৬০ সাল থেকে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সঙ্গে আমাদের ওঠাবসা। সূত্রপাত করেছিলেন বড় ভাই লতিফ সিদ্দিকী। সেটা টেনে নিয়ে গেছি আমরা সবাই। ১৯৬৫-৬৬-এর দিকে ছাত্রলীগের সম্মেলনে যোগ দিতে বড় ভাই লতিফ সিদ্দিকী বোন রহিমাকে নিয়ে ঢাকা এসেছিলেন। রহিমাকে ধানমন্ডি ৩২-এর বাড়িতে রেখে বড় ভাই কোথায় যেন গিয়েছিলেন। রাতে আর ফেরেননি। ছোট্ট রহিমা, এইট-নাইনের ছাত্রী। তার সে কী চিন্তা। বড় ভাই ফিরছেন না সেজন্য ছটফট করায় একসময় বঙ্গমাতা ফজিলাতুননেছা রহিমার মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে বলেছিলেন, ‘তুমি জানো না, লতিফ তো আর ফিরবে না। তোমাকে যে বিক্রি করে গেছে। তুমি চিন্তা করো না, কান্নাকাটি করো না। আমরা কিনে রাখলে কী হবে আমরা তোমাকে মারধর করব না, কোনো কাজ করাব না। আমরা আদরযত্ন করব। ভালো স্কুলে পড়ার ব্যবস্থা করব। তোমার কোনো কষ্ট হবে না।’ এসব শুনে রহিমার সে কী কান্না। অনেক আদর করে জননেত্রীর মা সে রাত তাকে ঘুম পাড়িয়েছিলেন। পরদিন লতিফ ভাই এলে রহিমার কান্না দেখে কে, ‘আপনি মাকে না বলেই আমাকে বেচে দিলেন? আমি আর মার কাছে যেতে পারব না, মাকে দেখতে পাব না।’ নেত্রীর মা ছুটে এসে রহিমার মাথায় হাত বুলিয়ে বলেছিলেন, ‘আর কাঁদতে হবে না। ভাইয়ের সঙ্গে বাড়ি যাও। আমরা টাকা-পয়সা ফেরত নিচ্ছি না। তোমার কান্নার কারণে ফিরিয়ে দিলাম।’ ব্যাপারটা স্বাধীনতার আগ পর্যন্ত রহিমার বিশ্বাস ছিল। কতবার সে যে বলেছে, ‘ছোট ভাই জানেন, বড় ভাই আমাকে বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে বেচে দিয়েছিলেন।’ রহিমার দিক থেকে কথাটা অনেক আগেই জানা ছিল।

একই কথা একদিন কথায় কথায় দিল্লি অথবা কলকাতায় জননেত্রী শেখ হাসিনাও বলেছিলেন। ষাটের দশক থেকে বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সঙ্গে জানাশোনা, ওঠাবসা। কত উথাল-পাথাল, কত আনন্দ-বেদনা, কত কিছু কতবার নিজ হাতে রান্না করে খাইয়েছেন, সন্তানের মতো যত্ন করেছেন। বর্তমান তীব্র গতির জমানায় অনেকেই অনেক কিছু ভুলে যায়। কেন যেন আমি কিছুই ভুলতে পারি না। ভালো-মন্দ নিয়ে দুনিয়া। আগে অনেককে শত্রু ভাবতে পারতাম, অনেককে বন্ধু। এখন কাউকে শত্রু বলেও মনে হয় না। কারণ সবই স্বার্থের ব্যাপার। আমি নেতাজি সুভাষ বোসের ভক্ত। তাই মহাত্মা গান্ধীর চরম বিরোধী ছিলাম। পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুকে একেবারেই দেখতে পারতাম না। অথচ তার কন্যা শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী আমার কাছে ছিলেন মায়ের মতো। পরে যখন মহাত্মাজিকে পড়েছি, জওহরলাল নেহরুকে পড়েছি তখন ধীরে ধীরে মনে হয়েছে যার যার দিক থেকে সবাই ঠিক। আমি আসল না জেনেই নকল নিয়ে ক্ষতবিক্ষত। একজন আরেকজনকে ভালোবাসে। আবার সেই মানুষটাকেই অন্যজন চরম শত্রু ভাবে। শ্রদ্ধা-ভালোবাসা-আস্থা-বিশ্বাস সবই পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত।

স্বাধীনতার আগ থেকেই বঙ্গমাতাকে জানতাম, চিনতাম। কিন্তু ঘনিষ্ঠ ছিলাম না। গভীর ঘনিষ্ঠতা হয়েছিল স্বাধীনতার পর। ১৬ ডিসেম্বর নিয়াজির আত্মসমর্পণের পর সন্ধ্যার দিকে বঙ্গমাতা যে বাড়িতে ছিলেন সেখানে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেদিন দেখা হয়নি। আমাদের যারা পথ দেখিয়ে নিয়ে গিয়েছিল তারা পাকিস্তানি হানাদারদের গুলিতে নিহত হয়েছিল। আমার গাড়িতেও গুলি লেগেছিল। গাড়ি ফেলে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে বলে এসেছিলাম। আজকাল যে তারা সিংহকে নিয়ে কথা ব্রিগেডিয়ার ক্লেরকে বলে সেই তারা সিংহকে বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে মুক্ত করতে অনুরোধ করেছিলাম। আমার সামনেই তারা সিংহকে ডেকে এনে এক কোম্পানি সৈন্য দিয়ে ধানমন্ডিতে পাঠানো হয়েছিল। তারা অনেক কসরত করে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীকে বঙ্গবন্ধুর বাড়ি থেকে উঠিয়ে এনেছিলেন।

স্বাধীন বাংলাদেশের পল্টন ময়দানে কাদেরিয়া বাহিনীর প্রথম সভা হয়েছিল ১৮ ডিসেম্বর শনিবার। সেই সভায় যাওয়ার পথে আমি বঙ্গমাতার কাছে গিয়েছিলাম। কথা বলে সভায় যাওয়ার পথে জামালকে সঙ্গে নিয়েছিলাম। জামালকে যখন নিয়ে যাই তখন বঙ্গমাতা আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বলেছিলেন, ‘তুমি যেমন নিয়ে যাচ্ছ বাবা ঠিক তেমনি জামালকে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে যাবে।’ কথা দিয়েছিলাম পৌঁছে দেব। স্বাধীনতার পর তো আমি তার বড় ছেলে ছিলাম। কামালকে নয়, আমাকেই তিনি তার বড় ছেলে মনে করতেন। আমি যুদ্ধ করেছি, দেশ স্বাধীন করে বঙ্গবন্ধুকে ফিরিয়ে এনেছি। তাই আমার প্রতি ছিল তার অপরিসীম আস্থা, বিশ্বাস ও ভালোবাসা। ১৪ তারিখ বিকালেও বঙ্গমাতার সঙ্গে দেখা হয়েছিল। তিনি আমায় ডেকেছিলেন পরদিন বিকালে পিজিতে মাকে দেখতে যাবেন। কিন্তু হায়, আমাদের কি কপাল! আমার মায়ের সঙ্গে তার আর দেখা এবং কথা হলো না। বিধির বিধান কে খণ্ডায়, কার সাধ্য! বঙ্গমাতাকে নিয়ে দুই কথা লেখার কারণ, ৮ আগস্ট কামারখন্দের জামতৈলে এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। জামতৈলের খোরশেদ বাহার, ভদ্রলোকের লেখালেখির বাতিক আছে। রুম নম্বর-১৩১৩ এক চমৎকার গল্প লিখেছেন। মুক্তিযুদ্ধের ওপর বই আছে তার।

দু-তিন বছর আগে হঠাৎই ভদ্রলোকের সঙ্গে পরিচয়। মাঝেসাঝে কথা হয়। হঠাৎ সেদিন কোথা থেকে ফেরার পথে ড্রাইভার যীশু বলছিল, খোরশেদ বাহার সাহেবের মা মারা গেছেন। খবর শুনে চমকে উঠেছিলাম। খোরশেদ বাহারের মা দীর্ঘদিন অসুস্থ তা জানতাম, মারা গেছেন জানতাম না। সঙ্গে সঙ্গে ফোন করেছিলাম। বললেন, ‘৮ আগস্ট গ্রামের বাড়ি জামতৈলে মার কুলখানি। ওখানে এলে খুব খুশি হব।’ তাই জামতৈল গিয়েছিলাম। কামারখন্দের জামতৈল। আগে কেউ কামারখন্দে গেলে বলত, ‘যার নাই আনন্দ সে যায় কামারখন্দ’, আবার কেউ কেউ তার উল্টোটাও বলত, ‘যার মনে আনন্দ সে যায় কামারখন্দ’। ’৯০-এ দেশে ফিরে প্রথম কামারখন্দে গিয়েছিলাম সিরাজগঞ্জ আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন রতুর সঙ্গে। আনোয়ার হোসেন রতুর ছোট মেয়ে দীপা আমায় বাবা বলে ডাকে। সন্তানরা বাবার জন্য যা করে সেও আমার জন্য তাই করেছে। এবার কামারখন্দের জামতৈল গেলাম খোরশেদ বাহারের মায়ের কুলখানিতে। গিয়েছিলাম আসরের নামাজের আগে আগে। তখনো সব দাওয়াতি এসে সারেনি। দাওয়াতিরা এসেছিল আসরের পর। সেখানেই প্রথম কাতারে নামাজে দাঁড়িয়েছিলাম। লম্বা দাড়ি-চুলওয়ালা এক ভদ্রলোক ইকামতে আজান দিচ্ছিলেন। ‘আল্লাহ আকবার আল্লাহ আকবার আল্লাহ আকবার আল্লাহ আকবার’ বলতে বলতে এক হাত কানের লতিতে আরেক হাতে মোবাইল বন্ধ করছিলেন। বিরক্তিতে মনটা ভরে গিয়েছিল। তাই নামাজ কেমন হয়েছিল বলতে পারব না।

নামাজ শেষে মুয়াজ্জিনকে বলেছিলাম, ভালোভাবে একবার ‘আল্লাহ আকবার’ বলতে পারলে আল্লাহ তাকে সব দান করতে পারেন, সব দিতে পারেন। তবে ‘আল্লাহ আকবার’ বলতে বলতে এক হাতে মোবাইল বন্ধ করলে ও রকম অমনোযোগীর কিয়ামত পর্যন্ত ‘আল্লাহ আকবার’ দয়াময় প্রভু কবুল করবেন না। লোকটি শুনেছিলেন, বুঝেছিলেন কিনা বলতে পারব না। ইমাম যখন কুলখানির বয়ান করছিলেন তার ফোনও বেজেছিল। পকেট থেকে বের করে টেপাটিপি করে সামনে রেখে আবার বয়ান করছিলেন। বয়ানের এক পর্যায়ে আবার ফোন বেজে ওঠে। তা বন্ধ করে আবার বয়ান শেষ করে আমাকে কিছু বলতে দেন। আমি নিজেকে সামলাতে না পেরে বলেছিলাম, এর আগে কামারখন্দে অনেক রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে এসেছি। এই প্রথম একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে। খোরশেদ বাহারের মার কুলখানিতে উপস্থিত হতে পারা আমার জন্য এক সৌভাগ্য। আমার মা যেদিন বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে মারা যান সেদিন তার দুই পা ছিল আমার বুকে। সেজন্য তাকে কলমা শোনাতে পারিনি। মাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। ডাক্তাররা আমার অনুমতি নিয়ে সাপোর্ট তুলে নিলে একটা কিছু অনুভব করেছিলাম। কেন যেন মনে হচ্ছিল দেহ ছেড়ে যখন আত্মা চলে যায় কিছু না কিছু বোঝা যায়। মুক্তিযুদ্ধের সময় ৪০-৫০ জন যোদ্ধা আমার কোলে মাথা রেখে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। তাই শেষ নিঃশ্বাসের একটা অনুভূতি নানাভাবে বোঝবার চেষ্টা করেছি। তাই সেদিন খোরশেদ বাহারের আহ্বানে সাড়া না দিয়ে পারিনি। বয়ানের সময় সাবেক মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু এসেছিলেন। প্রথম প্রথম তাকে চিনতে পারিনি। কারণ তার স্বাস্থ্য একেবারে ভেঙে গেছে।

রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে ব্যাপক ভূমিকা ছিল। বড় ভাই লতিফ সিদ্দিকীর বন্ধু, ’৭৫-এ আমরা একসঙ্গে জেলা গভর্নর ছিলাম। তিনি যে খোরশেদ বাহারের ভগ্নিপতি তা জানা ছিল না। যাই হোক, দিনটি ছিল ৮ আগস্ট। আর ৮ আগস্ট বঙ্গমাতা ফজিলাতুননেছার জন্মদিন। সেজন্য জামতৈল যাতায়াতের পথে বার বার তার কথা মনে পড়ছিল বলেই দুই কথা লিখলাম। জামতৈল রেলস্টেশন অনেক পুরনো, ব্রিটিশ ভারতের নামকরা জায়গা। যদিও এখন আশপাশের নাম হয়ে জামতৈল অনেকটা পেছনে পড়ে গেছে। খোরশেদ বাহারের মায়ের কুলখানির অসিলায় জামতৈল গিয়ে খুবই ভালো লেগেছে। নতুন জায়গা দেখা সওয়াবের কাজ। স্টেশনের পাশে অসংখ্য রিকশা ও ভ্যানচালক ছুটে এসে মুসাফা করেছিল। ফেরার পথে বার বার আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছি, তিনি যেন খোরশেদ বাহারের মাকে বেহেশতবাসী করেন এবং তার পরিবারকে এই শোক সইবার শক্তি দেন। সূত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন ।

লেখক : রাজনীতিক

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম
apps