• শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫
  • ||

বেশ কয়েক ঘণ্টা লেটে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ট্রেন চলছে

প্রকাশ:  ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:৪২
বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম
প্রিন্ট

বেশ কয়েক ঘণ্টা লেটে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ট্রেন চলছে। দলীয়ভাবে আওয়ামী লীগের জম্ম ও হয়েছিল ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর। তাই দলটির অনেক কর্মসূচিও সব সময় দেরিতে চলে। সামনে নির্বাচন, ছুটন্ত ঘোড়ার মতো সবকিছু কেমন যেন দুর্বার গতিতে ছুটছে। সেটা যদি সুস্থ স্বাভাবিক হতো চিন্তার কোনো কারণ ছিল না। গতিটা বড়ই অস্বাভাবিক। জেলায় জেলায় এমনকি প্রতিটি উপজেলায় পরিকল্পিতভাবে নাশকতার মামলা হচ্ছে। যদিও বিএনপি সেখানে প্রধান তবু অন্যান্য দলের লোকজনের নাম দিতেও পুলিশ কৃপণতা করছে না। তেমনি এক মামলায় সেদিন সখীপুরে আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জুলফিকার শামীমকে ১৬ নম্বর আসামি করেছে। কী আশ্চর্য! সূর্য হয়তো পশ্চিম দিকে উঠতে পারে।

কিন্তু বিএনপির সঙ্গে আমাদের অত বনিবনা নেই যে আমাদের দলের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক বিএনপির সঙ্গে মিলেমিশে নাশকতা করেন। এসব ব্যাপারে বরং আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাদের আগাগোড়াই সুসম্পর্ক। অন্যদিকে জাতীয় ঐক্য ও জোটবদ্ধ হওয়া নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। সেদিন আমরা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের মনোভাব ব্যক্ত করেছি। গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলে কে অংশ নেবে, কে নেবে না তা আমাদের বিবেচ্য নয়, আমরা নির্বাচনে অংশ নেব। জাতীয় ঐক্যের প্রশ্নে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকে সমদূরত্বে আমাদের অবস্থান হবে। সেখানে যদি বিএনপি আসে আওয়ামী লীগের কোনো বাধ্যবাধকতা থাকার কথা নয়। যদি এমনি করেই একটা গ্রহণযোগ্য জাতীয় সমঝোতা হয়ে যায় দোষ কী? বর্তমান রাজনীতি নিয়ে, নির্বাচন নিয়ে এবং আমাদের অবস্থান নিয়ে আগামীতে অবশ্যই লিখব, তবে এ পর্বে নয়।

প্রায় ৩০ বছর বাবর রোডের বাড়িতে বিদ্যুৎ নিয়ে জেরবার হচ্ছি। এ ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিবেদনের ইচ্ছা আমার অনেক দিনের। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমার নিজের ব্যাপার যেমন, তেমনি সব মুক্তিযোদ্ধাও। তাই ব্যাপারটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরি। কিন্তু চার-পাঁচ দিন আগে পুলিশের এক সাব-ইন্সপেক্টরের আকস্মিক মৃত্যু আমাকে কেমন যেন এলোমেলো করে দিয়েছে। সাব-ইন্সপেক্টর উত্তম সরকার খুব অল্প বয়সী ছেলে। সেদিন একটি বাস বাজেয়াপ্ত করে থানায় আনতে গিয়ে পেছন থেকে বাসের ধাক্কায় সে নিহত হয়েছে। যেভাবে ছবি দেখলাম, লোকজনের কাছে শুনলাম তাতে মনে হয় জব্দ করে থানায় আনতে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে বাসটি উত্তম সরকারের ওপর উঠিয়ে দিয়েছে। এটা কোনো দুর্ঘটনা নয়, পরিষ্কার হত্যা। এ রকম পুলিশ হত্যা এখন অহরহ হয়। আসলে সাধারণ মানুষ যখন আইনের আশ্রয় পায় না, আইন প্রয়োগকারীরাও তখন খুব বেশি নিরাপদ নয়। আইন প্রয়োগকারীরা যেমন বেআইনিভাবে রাতের অন্ধকারে বন্দুকযুদ্ধ বলে অভিযুক্তকে হত্যা করে, তেমনি অভিযুক্তরাও সুযোগ পেলে পুলিশ হত্যা করে। উত্তমের মৃত্যু তেমনই এক ঘটনা।

উত্তম সরকার কালিহাতী থানার বেতডোবার এক সাধারণ হিন্দু পরিবারের সন্তান। বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ-প্রতিরোধ শেষে ’৯০-এ যখন দেশে ফিরি তখন সে স্কুলের ছাত্র। সেই থেকে সে আমাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ছোট্ট বাচ্চা ছেলে কীভাবে পরিচিত হয়ে ওঠে বলতে পারব না। ’৯৯ সালে যখন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ গঠন করি তখনো সে আমাদের সঙ্গে ছিল। ছোট্ট বাচ্চা ছেলে খুবই চটপটে স্বভাবের। কোনো রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে গেলেই দেখা হতো। ২০১২ সালে একদিন শুনলাম সে পুলিশে ভর্তি হয়েছে। এক-দুই বছর পর একদিন হঠাৎ বাবর রোডে হাজির এক এএসআই। শুনেছিলাম কনস্টেবলে ভর্তি হয়েছিল। কখন এএসআই, এসআই হয়েছে জানতেও পারিনি। মারা যাওয়ার ১০-১২ দিন আগেও এসেছিল। সেই পোলাপানের মতো, ছাত্রকর্মীর মতো সহজ-সরল নিরহংকার। হঠাৎ তার মৃত্যু সংবাদ শুনে মুষড়ে পড়েছিলাম।

গাজীপুর সিটি নির্বাচনের দু-তিন দিন পর সকালে উত্তম বিকালে গোপালগঞ্জের দুই পুলিশ এসেছিল। উত্তমের কথা, ‘ভগবান যেন এমন ভোটের ডিউটিতে না ফেলেন।’ সেই একই কথা ছিল গোপালগঞ্জের দুই পুলিশের। তাদের কথা, ‘স্যার, আপনাকে ভালোবাসি। কত লোক আপনার সুনাম করে। তাই দেখা করতে এসেছি। চাকরি ছেড়ে দেব। আজ হোক কাল হোক এই সরকার না থাকলে গোপালগঞ্জের লোকেরা বাংলাদেশে থাকতে পারবে না। অন্যায়ের তো একটা সীমা থাকে। গাজীপুরের নির্বাচন সে সীমাকে পার করে ফেলেছে।’ কথাগুলো আমাকে খুবই নাড়া দিয়েছিল। কিন্তু স্বর্গীয় ভজন সরকারের ছেলে বেতডোবার উত্তম সরকার যে এভাবে চলে যাবে আর সে যে আমার বুকে এমন একটা জায়গা দখল করেছিল আগে বুঝতে পারিনি। অল্প কিছুদিন আগে বিয়ে করেছে। স্ত্রী তমা রানী সরকার। উপমা সরকার নামে দুই মাসের বাচ্চা আছে। তাদের কী হবে, কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা তাদের ভগবানই জানেন। তাই মনটা বড় বেশি খারাপ।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজের কথা বলতে ইচ্ছা করে না, কখনো-সখনো লজ্জাও করে। কিন্তু নিরুপায় হয়ে সামান্য দু-একটি বিষয় আপনার সামনে তুলে ধরছি। এখন যাই হোক, আপনি ভালো করেই জানেন মুক্তিযুদ্ধে অতি নগণ্য হলেও একটি ভূমিকা রেখেছিলাম। আমি যে মুক্তিযুদ্ধ করেছি, তাতে যে আমারও কিছু ভূমিকা ছিল এসব নিয়ে আপনার দলীয় অনেক নেতা দলিল দস্তাবেজ চেয়েছিল। একসময় আমার কিছুটা বিরক্তও লেগেছে। এই বুড়ো বয়সে আপনার নেতাদের দলিল-দস্তাবেজ দিয়ে মুক্তিযোদ্ধার প্রমাণ দিতে হবে? কখনো-সখনো মনে হয়েছে কথাটা খুবই অপমানজনক। আবার ভেবেছি আহম্মকরা তো অনেক কথাই বলে। তাদের কথা ধরলে চলা যাবে? তাই নিজেকে শান্ত করেছি। তার পরও বলি, ভুঞাপুরের মাটিকাটায় যখন আমরা পাকিস্তানি হানাদারদের অস্ত্রবোঝাই জাহাজ দখল করেছিলাম তার আগে ব্রিটেনের কমনসভায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা জবাব দিতে পারেনি যে পূর্ব পাকিস্তানে উত্তেজনা সৃষ্টি ভারতের কাজ নয়, সেটা আমাদের মুক্তিযুদ্ধ। বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী মাটিকাটায় হানাদারদের জাহাজ দখলের ছবি দেখিয়ে দৃঢ়ভাবে বলেছিলেন, ‘সীমান্তের দেড় শ মাইল ভিতরে পাকিস্তানিদের অস্ত্রবোঝাই জাহাজ দখল ভারতের নয়, আমাদের বীর সন্তান কাদের সিদ্দিকীর কাজ।

আমরা একই গ্রামের মানুষ।’ এর পরের ইতিহাস আরও স্পষ্ট। ঢাকা দখলে একমাত্র বাঙালি হিসেবে আল্লাহ রব্বুল আলামিন আমাকে কবুল করেছিলেন। স্বাধীন বাংলাদেশের পল্টনে কাদেরিয়া বাহিনীর প্রথম জনসভা। তাতে আপনার ছোটভাই জামালকে নিয়ে গিয়েছিলাম। স্বাধীন দেশে বঙ্গবন্ধুর পায়ের সামনে একমাত্র কাদেরিয়া বাহিনীই প্রথম অস্ত্র বিছিয়ে দিয়েছিল। যে অনুষ্ঠানে জনাব তোফায়েল আহমেদ, শেখ শহীদ, জামাল আর রাসেল ছাড়া কোনো নেতা যাননি। তাদের ভয় ছিল বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে আমরা ক্ষমতা নিয়ে নেব। যা ছিল ভাবনারও অতীত। তেমন একটি কথা সেদিন আপনিও বলেছেন। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের কারও কারও উসকানিতে আমি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার চিন্তা করেছি। এটাও আমার কাছে ভাবনার অতীত। আমি কখনো কারও সঙ্গে কোনো ষড়যন্ত্র করিনি। যতদিন বেঁচে থাকব ততদিন ষড়যন্ত্রের পথ মারাব না। আল্ল­াহর নির্দেশিত সিরাতুল মুসতাকিমই আমার পথ। এটাই আমার ব্রত, এটাই আমার সাধনা। আমি নিজেকে কখনো নিজে ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত করব না। যে কথা বলার জন্য এই অবতারণা তা হলো বিদ্যুতের জাঁতাকলে নিষ্পেষিত হয়ে আমার নাভিশ্বাস উঠে গেছে। ’৭২-এর এপ্রিল-মে-তে বাবর রোডের বাড়িতে আসি। কত জায়গায় কত বাড়ি থাকতে ৫ কাঠার একটা কবুতরের খোঁপের মতো বাড়ি আমায় দেওয়া হয়েছিল। তখনকার দিনে ওটাই ছিল আমার কাছে অনেক বড় প্রাপ্তি। বঙ্গবন্ধু দুবার আমার বাড়ি এসেছিলেন।

আপনিও এসেছেন। অপ্রশস্ত সিঁড়ি দিয়ে উঠতে গিয়ে পিতা এবং নেতা বলেছিলেন, ‘এ বাড়ি তোকে কে দিয়েছে? যে কোনো ভালো বাড়ি দেখে বদল করে নে।’ একসময় আমারও ইচ্ছা ছিল। কিন্তু মা’র বাধায় আর হয়ে ওঠেনি। ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট ওই বাড়ি থেকেই বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদে এক কাপড়ে বেরিয়ে যাই। কত দুঃখ-কষ্ট-ঝড়-ঝঞ্ঝা প্রতিবাদ-প্রতিরোধের পর ’৯০-এ আবার দেশে ফিরি। ’৭৫ থেকে ’৯০ বাবর রোডে বেশ কয়েকজন সরকারি কর্মচারী বসবাস করেছেন। তার মধ্যে আইভী রহমান নামে এক কৃষিবিদ পরে সচিব হয়ে অবসরে গিয়েছিলেন। একজন পুলিশের আরেকজন সচিব। আমি ’৯০-এর ডিসেম্বরের যখন আবার উঠি তখন থেকে তাদের বকেয়া গ্যাস-পানি-বিদ্যুৎ বিল আসতে থাকে। গ্যাস-পানি তবু সহনীয় ছিল। বিদ্যুৎ বিল ধীরে ধীরে ১৪-১৫ লাখে উঠে যায়। কোনো মাসে ১০ হাজার, কোনো মাসে ২০ হাজার, আবার কোনো মাসে ৪০ হাজার টাকা বিল আসে। তখন যেখানেই গেছি সেখানেই একেওকে জিজ্ঞাসা করেছি, তোমার বাড়ির বিদ্যুৎ বিল কত? কেউ বলেছে ৪০০-৫০০-৬০০, কেউ বলেছে হাজার। কিন্তু আমার তখন ১০-১২ হাজার! কিছুতেই এ থেকে মুক্তি পাচ্ছিলাম না।

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লি. গঠিত হলে তার চেয়ারম্যান এবং এমডির কাছে বিষয়টার যুক্তিযুক্ত সমাধানের আবেদন করেছিলাম। কীভাবে তারা একটা কমিটি করে তিন লাখ কয়েক টাকায় ব্যাপারটা নিষ্পত্তি করেছিলেন। কষ্ট করে বকেয়া শোধ করেছিলাম। আবার শুরু হয় উপদ্রব। কোনো মাসে ৭০০-৮০০ ইউনিট, কোনো মাসে ৩ হাজার, আবার কোনো মাসে ৪ হাজার ইউনিট। একটা বাড়িতে এটা কী করে সম্ভব! ফ্যান-টিভি-ফ্রিজ-এসি-লাইট সবই এক থাকলে হাজার ইউনিট ২ হাজার হয় কী করে? হাজার ইউনিটে দু-এক শ বাড়তে বা কমতে পারে। ২০১৭ সালের মার্চে বিল ছিল ১৮০৭ ইউনিট, এপ্রিলে ৩৩১ ইউনিট। মে তে ২৮৯৮ ইউনিট আবার জুনে ৭৫২ ইউনিট।

অন্যদিকে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে ৪০০ ইউনিট, অক্টোবরে ৪৭০৩ ইউনিট। কোনো ভদ্রলোকের বাড়িতে এমন বিদ্যুৎ বিল হতে পারে না। এসব দেখে মাথা ঘুরে যায়। হঠাৎই সেদিন ৪ লাখ ৮২ হাজার ৬৫২ টাকা বকেয়ার এক চিঠি আসে। অবাক হয়ে অসামঞ্জস্য বিলের প্রতিকারের জন্য আবেদন করি। ৩০-৩৫ হাজার কমবেশি করে আবার ৪ লাখ ৩৯ হাজার ১৭৭ টাকা এই মাসের ২০ তারিখের মধ্যে পরিশোধ করতে চিঠি পাঠিয়েছে। বোঝাতে পারি না যে বিল তারা করেন, তা ৩০ হাজার কমাতে পারলে ৩ লাখ কেন পারেন না। তাই আবার প্রতিকার চেয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ডিপিডিসির কাছে আবেদন পাঠিয়েছি। কী করবেন তা তিনিই জানেন। কারণ কোথাও কোনো আইন-কানুন নেই, ন্যায়-নীতি নেই। যেহেতু আপনাকে লিখছি আর কখনো সুযোগ হবে কিনা জানি না। তাই বিদ্যুৎ নিয়ে আরও পরিষ্কার করি।

বিদ্যুৎ বিলের সাতটি স্তর।

যেমন সাধারণ গ্রাহকদের জন্য

০-৫০ = ৫০ X ৩.৫০ = ১৭৫

৫১-৭৫ = ২৫ X ৪.০০ = ১০০

৭৬-২০০ = ১২৫ X ৫.৪৫ = ৬৮১

২০১-৩০০ = ১০০ X ৫.৭০ = ৫৭০

৩০১-৪০০ = ১০০ X ৬.০২ = ৬০২

৪০১-৬০০ = ২০০ X ৯.৩০ = ১৮৬০

৬০০-এর ওপরে প্রতি ইউনিট ১০.৭০ টাকা

মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ২০০ ইউনিট মওকুফের পর

২০১-৩০০ = ১০০ X ৫.৭০ = ৫৭০

৩০১-৪০০ = ১০০ X ৬.০২ = ৬০২

৪০১-৬০০ = ২০০ X ৯.৩০ = ১৮৬০

৬০০-এর ওপরে প্রতি ইউনিট ১০.৭০ টাকা

এতে সাধারণ গ্রাহকদের ১ হাজার ইউনিটে বিদ্যুৎ বিল আসে ৮ হাজার ২৬৮ টাকা। অন্যদিকে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিদ্যুৎ বিলের তিনটি স্তরের ২০০ ইউনিট মওকুফ হওয়ায় আসে ৯ হাজার ৪৫২ টাকা। এতে কোনো মুক্তিযোদ্ধা যদি ১ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন তাহলে তার রেয়াত পাওয়ার অর্থের চাইতে ১ হাজার ১৮৪ টাকা বেশি দিতে হয়। কারণ এক থেকে তিন স্তর পর্যন্ত ৩.৫০-৪.০০-৫.৪৫ টাকা প্রতি ইউনিট, ২০০ ইউনিট থেকে ৫.৭০ টাকা। মুক্তিযোদ্ধাদের ২০০ ইউনিট মওকুফের পর বিদ্যুৎ বিল শুরু হয় ৫.৭০ টাকা থেকে। সাধারণ গ্রাহকরা ২০০ ইউনিটের বিল দেন ৯৫৬ টাকা আর মুক্তিযোদ্ধারা ২০০ ইউনিটের বিল দেন ১ হাজার ১৭২ টাকা। এই হলো বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধাদের ২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ রেয়াতের নমুনা। এ ক্ষেত্রে আমার প্রস্তাব ০-১০০ ইউনিট ৩.৫০ টাকা, ১০০-২০০ ইউনিট ৪ টাকা, ২০০-৪০০ ইউনিট ৫ টাকা, ৪০০-৬০০ ইউনিট ৬ টাকা এবং তার ওপরে ৭ বা ৭.৫০ টাকা এবং এই বিলে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য যদি বিদ্যুৎ বিল মওকুফ করতেই হয় তাহলে ২০০ ইউনিট কেন, সব বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির বিল মওকুফ করলেই হয়। সব লেঠা চুকে যায়।

যারা চাকরি-বাকরি করেন তাদের যতদিন চাকরি থাকে ততদিন তাদের সব বিল সরকার বহন করে। মুক্তিযোদ্ধারা একটা দেশের জš§ দিয়েছেন। তাদের পানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য বিল সরকার বহন করতে পারে না? বহন করলে কী এমন ক্ষতি হয়। আর যতদিন এমন সিদ্ধান্ত না আসছে ততদিন মুক্তিযোদ্ধাদের ২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ বিল মওকুফ করে পরবর্তী ২০০ ইউনিটে সাধারণ গ্রাহকদের চাইতে দ্বিগুণ বিল নেওয়ার কোনো অর্থ হয় না। বিল রেটিংয়ে সাধারণ গ্রাহকদের ধরা হয় ৩.৫০ টাকা আর মুক্তিযোদ্ধাদের ধরা হয় ৫.৭০ টাকা। এখানে রেয়াত কোথায়? এ যেন মুক্তিযুদ্ধ করার জন্য চরম শাস্তি। অন্যদের বলে কাজ হয় না, হবে না। তাই সবিনয় বিষয়টি আপনার কাছে তুলে ধরলাম। মুক্তিযোদ্ধাদের ২০০ ইউনিটের পর থেকে হিসাব না করে ০ থেকে হিসাব ধরলেই আর এই অবিচার হয় না। সূত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন ।

লেখক : রাজনীতিক

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম
apps