• বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৫ আশ্বিন ১৪২৫
  • ||

সাহসিকতার জন্য পুরস্কৃত অন্তরা জানালেন সেদিনের ঘটনা

‘ছিনতাইকারী আমার ব্যাগের ওপর বসা আর মোবাইলটা তার পায়ের নীচে‘

প্রকাশ:  ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৮:১৮ | আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৯:৫১
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

রাজধানীর রামপুরা বনশ্রীর বাসিন্দা অন্তরা রহমান। চাকরি করেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে।রিকশা করে যাত্রাবাড়ীতে এক আত্মীয়ের বাসায় যাচ্ছিলেন। হঠাৎ এক ছিনতাইকারী তার ভ্যানিটিব্যাগ ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় দৌড় দেয়।

ঢাকার রাস্তায় ছিনতাই নতুন ঘটনা নয়। অনেকেই এসব ঘটনায় আর সামনে এগোতে চান না। কিন্তু ভয় না পেয়ে অন্তরা রহমানও সেই ছিনতাইকারীর পেছনে ধাওয়া করেন। কিছুদূর গিয়ে সেই ছিনতাইকারী একটি চলন্ত বাসে উঠে পড়লে অন্তরাও পেছন পেছন সেই বাসটিতে উঠে পড়েন। বাসে উঠে ছিনতাইকারীকে শনাক্ত করতে চাইলে চালক ও তার সহকারী অন্তরাকে বাধা দেন। তবে তিনি দমে যাননি।

সেই নাটকীয় ঘটনার বর্ণনা দিয়ে অন্তরা রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, বাসটি খালি ছিল। আমি বাসে উঠে ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করলাম এখানে একটি লোক উঠেছে কিনা। তারা বলে, আমাদের গাড়িতে ওঠেনাই, হয়তো পেছনের বাসে উঠেছে। কিন্তু পেছনের দিকে বসে থাকা একটি লোকের প্যান্ট দেখে আমার সন্দেহ হলো। কাছে গিয়ে দেখি, সেই ছিনতাইকারী আমার ব্যাগের ওপর বসে আছে আর মোবাইলটা পায়ের নীচে রেখেছে। আমি তাকে ধরে চিৎকার করলেও বাস চালক বাসটি চালিয়ে যাচ্ছিল। চিৎকার শুনে কয়েকজন ছেলে এগিয়ে এসে বাসটি থামায়।'

ওই সময় সেই ছিনতাইকারী অন্তরার পা জড়িয়ে ধরে বলে, আমাকে ছেড়ে দেন, আমি কালকেই কারাগার থেকে ছাড়া পেয়েছিল।

অন্তরা তার কথায় দমলেন না। এর কারণ জানিয়ে তিনি বলেন, আমি মনে করলাম, গতকাল মুক্তি পেয়েই যে আজ অপরাধ করতে পারে, তাকে ছাড়লে সে আরো অপরাধ করবে। তখন সবার সহযোগিতায় তাকে যাত্রাবাড়ী থানায় নিয়ে গেলাম। সেখানে আমি নিজেই বাদী হয়ে একটি মামলাও করলাম।'।

অন্তরা রহমানকে এই সাহসিকতার জন্য পুরস্বৃত করেছের ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। মঙ্গলবার মাসিক অপরাধ সভায় তাকে পুরস্কৃত করেছে পুলিশ। গত ১৭ আগস্ট সন্ধ্যায় অন্তরার এ ধরনের সাহসিকতার জন্য গ মঙ্গলবার তাকে সম্মাননা দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ডিএমপি কমিশনার অন্তরার হাতে নগদ ১০ হাজার টাকা তুলে দেন। অপরাধী ধরার মধ্য দিয়ে একজন সচেতন নাগরিকের ভূমিকা পালন করায় তাকে পুরস্কৃত করা হলো।

অন্তরা জানান, তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার দেবীদ্বারের দুয়ারিয়া গ্রামে। তার বাবা সাগির আহমেদ দুবাই প্রবাসী। সিদ্ধেশ্বরী কলেজে পড়াশোনা করেছেন তিনি। পরিবারের সঙ্গে বর্তমানে বনশ্রী এলাকায় বসবাস করেন। পড়াশোনার পাশাপাশি একটি ল' ফার্মে চাকরি করছেন অন্তরা। ছিনতাই হওয়ার পর যে কোনো উপায়ে তাকে ধরতে হবে- এই জেদের জায়গা থেকেই রিকশা থেকে নেমে তার পিছু নেন তিনি। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তার ঘটনাটি জানতে পেরে সাহস দেন। ডিএমপির কাছে এ ধরনের স্বীকৃতি অত্যন্ত প্রেরণাদায়ক বলে জানান তিনি।

পুলিশের পক্ষ থেকে অন্তরা রহমানের সঙ্গে যখন যোগাযোগ করা হলো, তখনো তিনি জানেন না যে, কোন পুরস্কারের জন্য তাকে মনোনীত করা হয়েছে। ডিএমপি সদর দপ্তরে গিয়ে যখন পুরস্কার পাওয়ার কথা জানলেন, তিনি খুবই অবাক হয়েছিলেন।

অন্তরা জানান, ছোট বেলা থেকেই তার ইচ্ছা ছিল পুলিশে চাকরি করা। কখনো সুযোগ পেলে করতে রাজি। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই আমি দুরন্ত প্রকৃতির। আমাকে কেউ টিজ করলে রুখে দাঁড়াতাম। চোখের সামনে আগামীতে এরকম অন্যায় দেখলে আমি আবারও এভাবেই রুখে দাঁড়াবো।'

নিজের অনুভূতির কথা জানিয়ে এই সাহসী তরুণী বলেন, আমার মনে হয়েছিল ছিনতাইকারীকে ধরতে হবে, তাকে পুলিশে ধরিয়ে দিতে হবে। কিন্তু আমি কখনো ভাবিনি, সেটা এতদূর হবে। সবার ভালোবাসা দেখে আমার ভেতর অনেক খুশী কাজ করছে। তবে ছিনতাইকারীকে ধাওয়ার ঘটনায় জেনে বাসার লোকজন ভয় পেয়েছিল, যদি তার কোন ক্ষতি হয়ে যেতো।

এনই/

অন্তরা